Important Announcement
PubHTML5 Scheduled Server Maintenance on (GMT) Sunday, June 26th, 2:00 am - 8:00 am.
PubHTML5 site will be inoperative during the times indicated!

Home Explore Proggapon September 2022

Proggapon September 2022

Published by dharmakatha, 2022-09-30 07:25:35

Description: Proggapon September 2022

Keywords: Proggapon September 2022,dharmakatha

Search

Read the Text Version

প্রজ্ঞাপন জীবন বৃদ্ধিদ মাসিক ই-পত্রিকা সেপ্টেম্বর ২০২২ ©2022 DHARMAKATHA.ORG \"মা এলেন, পুতু লের মতন তাঁকে পূজা করলে আমাদের প্রাণে তাঁর প্রতিষ্ঠা হল না সে পূজা কি সম্বর্ধনা নিয়ে আসতে পারে?\" a dharmakatha.org initiative Sept 2022-Vol-3/No-9

সূচীপত্র সম্পাদকীয় মাতৃ রূপেণ সংস্থিতা – শ্রী অনুপ বৈদ্য কবিতা ০১ – অসীমের মাঝে – শ্রীমতী পলি ঘোষাল চক্রবর্তী ০২ – Wisdom – শ্রী সুখেন্দু পানি ০৩ – আমার পুজো – শ্রী অনুপ বৈদ্য প্রশ্নোত্তরে যাজন ০৪ – জীবন জিজ্ঞাসা (পর্ব – ১৫) ধারাবাহিক প্রবন্ধ ০৮ – পরবর্তী জন্মে সব মানুষই কি আবার মানুষ জন্ম পাবে (পর্ব – ২) – শ্রী জগদিন্দু চক্রবর্তী ১০ – আর্য্য দশবিধ সংস্কার (পর্ব – ১৬) – ডাঃ তপন দাস অনুগল্প ১৩ – ফিরে পাওয়া – শ্রী সুখেন্দু পানি প্রবন্ধ ১৪ – ‘মা’ দুর্গা আরাধনার তাৎপর্য সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকু র অনুকূ লচন্দ্র – ডাঃ বিশ্বনাথ ভৌমিক ১৮ – ইষ্টভৃ তির তাৎপর্য – শ্রী অনুপ বৈদ্য ২১ – প্রকৃ ত ধর্মসাধন – শ্রী রাজ কু মার মান্না নিরামিষ রান্নার রেসিপি ২২ – ছোলার ডাল আর সয়াবিনের অসাধারণ রেসিপি প্রজ্ঞাপন সেপ্টেম্বর ২০২২ মানসিক স্বাস্থ ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৯ ২৩ – আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও অপরাধ হ্রাস সম্পাদক শ্রী প্রীতিগোপাল দত্তরায় স্মৃতিকথা সহসম্পাদক ২৯ – মোহিনীবিদ্যা – শ্রী সুদীপ চক্রবর্তী শ্রী সুখেন্দু পানি, শ্রী অনুপ বৈদ্য শারদ অভিবাদন প্রকাশক ৩২ – শ্রী প্রীতিগোপাল দত্তরায় (সম্পাদক) শ্রী পৃথ্বীশ কু ন্ডু

১ মাতৃ রূপেণ সংস্থিতা সম্পাদকীয় শ্রী অনুপ বৈদ্য শারদোৎসব আপামর বাঙালীর প্রাণের উৎসব। মা আসেন প্রতি বছর আমাদের মধ্যে, আমাদের অন্তরস্থ আসুরিক শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সুপ্ত মহাশক্তিকে জাগাতে। প্রকৃতিতে নারী সৃষ্টির অনন্য শক্তির অধিকারিণী। মাতৃরূপেই নারীসত্তা পূর্ণতা পায়। আর এই পূর্ণ নারীত্বের প্রতীক হলেন মা দূর্গা। তিনি দশভুজা – দশপ্রহরণধারিণী। অসুর নিধনে তিনি বদ্ধপরিকর। মায়ের দশটি হাতে দশটি অস্ত্র আসলে মাতৃ ঐশ্বর্য্যের বিভিন্ন শক্তি যেগুলি অস্তিত্ববিনাশী শক্তিকে পরাভূত করেন। মা দুর্গা শুধু মাটির প্রতিমা নন। তিনি প্রতি ঘরের, প্রতি পরিবারের দেহধারী মা। তিনি জীবন্ত প্রতি ঘরে দ্বিভুজা জননী হয়ে। আসলে দ্বিভুজা হয়েও যেন তিনি দেবী মায়ের মতই দশভুজা। দুটি হাতেই দশ হাতের কাজ তিনি করেন। দেহধারী মা হয়ে তিনি যেমন গৃহবধূ, গৃহিণী – তেমনই তিনি সদা তৎপর স্বামী সন্তান সহ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সার্বিক কল্যাণ কামনায়। সংসারকে সুখে শান্তিতে সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে তোলার গুরু দায়িত্ব যেন প্রতিটি ঘরের মায়েরই কাঁধে। পরিবারের শিশুদের শিক্ষা, লালন-পালন, গুরুজনদের সেবাযত্ন, অতিথি অভ্যাগতদের আদর আপ্যায়ন সবটুকু ঘরের মা’কেই করতে হয় অসীম ধৈর্য্যের সাথে। ঘর গেরস্থালীর সব দিক সমানভাবে লক্ষ্য রেখে সব কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করে চলেন যে মা তিনিই তো দ্বিভুজা হয়েও দশভুজা – দেবী দুর্গার মানবী রূপ। আর মা দুর্গার দশ হাতের তাৎপর্যও এইখানে। তাই নিজের মায়ের প্রতি তথা সমগ্র মাতৃজাতির প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা যার মধ্যে যতখানি জীবন্ত তার কাছে দুর্গাপূজাও ততখানি সার্থক হয়ে ওঠে। আর নিজের গর্ভধারিণী মা’কে যথাযোগ্যভাবে পরিতৃপ্ত না করে কোটি টাকার পূজামন্ডপে ঢাক ঢোল পিটিয়ে, হাজার ওয়াটের সাউন্ড বক্স, ডি.জে. বাজিয়ে, পূজামন্ডপ আলোকমালায় সুসজ্জিত করে দুর্গাপূজা করলেও প্রকৃত অর্থে কোন ফললাভ হয় না। যা হয় তা হল নিজের অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃত্তির খোরাক জোগানো। কিন্তু মায়ের প্রতি অটুট টানে প্রবৃত্তিগুলি স্বাভাবিকভাবেই সুনিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে। দুর্গাপূজার বোধনের সাথে সাথে আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাম সদাজাগ্রত হয়ে উঠুক প্রজ্ঞাসমন্বিত পূর্ণচেতনায়। মাতৃকাশক্তির জাগরণ ঘটুক প্রতিটি অন্তরে। দূর হোক সব মলিনতা, অস্তিত্ববিরোধী যা কিছু। প্রজ্ঞাপনের পাঠক পাঠিকা, শুভানুধ্যায়ী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শারদীয়ার আন্তরিক অভিনন্দন। মঙ্গল হোক সকলের। জয়গুরু।

১ অসীমের মাঝে শ্রীমতী পলি ঘোষাল চক্রবর্তী দিবারাত্রি কেটে যায় আমার অলস অবাঞ্ছিত স্বপ্নের জাল বুনে বুনে, জড় মায়ার বাঁধন দাও গো শিথিল করে ওগো নিখিল বন্দনে । ছবির মত ছন্দ পতন মেলানো রঙিন জগৎটাতে, ঘুরে ঘুরে মরি মিছে সকল দুঃখ কষ্ট সুখের অছিলাতে। প্রভু জগদীশ তুমি বিশ্বেশ্বর ভুবন ভরিয়ে, নামের পরশে মনের মেঘলা কাটে যেন কুয়াশা সরিয়ে। মহামায়ার মায়ার জালে আবদ্ধ জীবের কাতর ক্রন্দন, ত্রাণ কর জীবে তিন গুণের করাল ছায়া থেকে হে দুঃখ মোচন। সময় স্রোতে গা ভাসিয়ে দিব্যি চলছে জীবন, জীবনের চোরা বালিতে ডুবছে অবিবেকী মন। কত দিন আর এমনি করে কাটবে করে ভুল, পরম প্রেমের আনন্দ বাজারে করে রাখ আমাকে ফুল। স্বস্তি-সেবক বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিবেদন স্বস্তি সেবক বাহিনীর পক্ষ থেকে এবছর পূজো উপলক্ষে স্বস্তি পাঠশালার পুচকেদের নুতন কাপড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এইজন্য আপনাদের সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ আপনারা যথাসাধ্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এই মহতী প্রচেষ্টাকে সাফল্যমন্ডিত করে পুচকেদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলুন। ভাল থাকবেন সকলে। জয়গুরু। আগমনী গান বাতাসে বাতাসে ছড়াচ্ছে, ������️AC No - 9732400187 IFSC - তার সাথে সাথে আপনাদের সবার ভালোবাসার AIRP0000001 (Airtel Payment Bank) প্রাপ্তিতে ওদের মুখে হাসি ফুটেছে, ওরা নতুন জামা নতুন প্যান্ট পেয়েছে। ওরা স্বস্তি পাঠশালায় ছাত্র ✅Google Pay - 9732400187 (সুন্দরবন)। আপনাদের ভালোবাসায় ভরে উঠেছে ✅ Phone Pay - 9732400187 ওদের পরিবারের মুখের হাসি। এভাবেই আপনারা পাশে থাকুন ভালোবাসুন। প্রতি প্রত্যেক কে শুভ ✅ Paytm - 973240087 শারদীয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। ............(SSB) (অর্ঘ্য প্রশস্তির জন্যে আপনারা আমাদের WhatsApp করতে পারেন অথবা email করতে পারেন) - WhatsApp Number - +91 90316 80467 Email - [email protected] •••••••••••••••••••••••• মানুষের সেবায় মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে।

২ Wisdom Sri Sukhendu Pani Man have five senses to enjoy the material life, beyond this there is a sense which correlates subtle world with the material world by establishing a connection. As water becomes visible by the gross senses, this water can be enjoyed by using it anyway. But if you want to know its structure another sense is needed, everything in the world of creativity become possible with this sense. Man counts whatever with these gross senses may not always be correct. The subtle world is the ruler of life It needs feeling to understand It needs proper application of intelligence. What is visible to the naked eye considering it the ultimate there is no more audacity, no more foolishness, in whom less is the simplicity, less is the transparency higher the ego, the stronger the self-esteem The more blurred is his vision, the more chaotic is his life.

৩ আমার পুজো শ্রী অনুপ বৈদ্য আমার পুজো দশমীতে আসলে বাবা ঘরে, একটি প্যান্ট আর একটি জামা হলেও হতে পারে। বাপ যে আমার বাজায় রে ঢাক তোদেরই প্যান্ডেলে, ফিরবে বাড়ি পুজোর শেষে পয়সাটুকু পেলে। সারা বছর ঐ পয়সায় দিন যে মোদের চলে, সারা দিনে একবারই খাই দুমুঠো ভাত পেলে। মন্ডা মিঠাই ভাল খাবার ওসব তোদের জন্য, দিনটা মোদের চললেই হয় ভাঁড়ার থাকে শূন্য। শিয়ালদহের খোলা মাঠে হাজার ঢাকির মেলা, বাবা আছে ওদের সাথে সঙ্গে অবহেলা। আমার পুজো দশমীতে বিসর্জনের পরে, মা দুগ্গা তুই ভাল থাকিস্‌ বাবা ফিরুক ঘরে।

৪ জীবনজিজ্ঞাসা (পর্ব – ১৫) প্রশ্নোত্তরে যাজন ১) শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বংশধররা কি ৪) ইষ্টভৃতি কি ভাবে বিপদ থেকে রক্ষা করে? সকলেই ভগবান? উত্তরঃ আমি যখন বিশ্বের মঙ্গল চিন্তায় যত্নবান উত্তরঃ আজকের জনসমাজ শ্রীশ্রীঠাকুরকেই হয়ে মূর্ত্ত মঙ্গল যিনি তাঁকে কায়মনোবাক্যে সর্বগুণের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ভগবান বলে এবং আমার সৎ কর্মের দ্বারা অর্জিত অর্থের দ্বারা স্বীকার করে না। তাঁর বংশধরদের মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিপালন ও পরিপোষনার্থে ব্যাপৃত থাকবো ভাগবত সম্পদ অবশ্যই আছে। সবচেয়ে বড় তখন তাঁর মাঙ্গলিক শক্তি আমার চারিপার্শ্বে কথা তাঁকে বহন করার মত কম্পেটিবিলিটি তাঁর একটা সুরক্ষা বলয়ের সৃষ্টি করবে। পরা বিজ্ঞান বংশধরদের মধ্যে আছে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের তো তাই বলে। এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড কার্য্যকারণ ভগবান বলা যাবে কিনা মানুষই নির্ধারণ করুক। সূত্রে নিবদ্ধ হয়ে রয়েছে। এর ব্যত্যয় হয় না। ২) মানুষের সব চাইতে বড় গুণ কি? এবং তা ৫) চলাফেরায় জপ আর উষা নিশায় মন্ত্রসাধন কিভাবেঅর্জ্জন করা সম্ভব? কি এক জিনিস? দুটোরই কি ফল লাভ হবে? উষা নিশাবলতে কখন বুঝিয়েছেন। আর উত্তরঃ আমার দৃষ্টিতে মানুষের সব থেকে বড় মন্ত্রসাধন কতক্ষণ করতে হবে? গুণ মানব দরদী হয়ে ওঠা। কারণ শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণে বলেছেন -\"...... হৃদয়ে যদি প্রেম উত্তরঃ দুটো এক কি করে হয়? ঊষা নিশায় মন্ত্র না থাকে তাহলে তোমার কিছুই হয়নি।\" ইষ্টের সাধন নিয়মিত করলে তবেই চলা ফেরায় জপ প্রতি অচ্যুত অনুরাগ নিয়ে তাঁর নিদেশগুলির স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হয়। মন্ত্র সাধন করতে করতে পরিপালন করে চলতে চলতে এ গুণ অর্জন করা চলা ফেরায় জপ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়। কারণ যায়। তবে শ্রীশ্রীঠাকুর অন্যত্র বলেছেন মানুষের তখন ঐ ডিভাইন থ্রিল একটা রিফ্লেক্স তৈরি প্রধান গুণ শরীর-মানসিক পরিচ্ছন্নতা। এই করে। ঐ থ্রিলটা একবার ফিল করতে পারলে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করাও সাধনা সাপেক্ষ। আর মনোজগতে জোয়ার আসে। চাইলেও থামানো মানসিক পরিচ্ছন্নতা না থাকলে মানব দরদী যায় না। এতে কি লাভ হয় \"বোঝে মন বোঝে হওয়াও যায় না। যার\", বলে বোঝানো যাবে না। বাকি যা কিছু সমস্তটাই যান্ত্রিক। ৩) ভাল থাকার মরকোচ কি? উত্তরঃ ভাল থাকার মরকোচ হচ্ছে ইষ্টকেন্দ্রীক হয়ে চলা। তাঁর প্রতি অনুরাগ নিয়ে চললে পৃথিবীর কোনও শক্তিই আমাদের পরাভূত করতে পারবে না।

৫ ৯) Ectoplasmic bodyতো থাকে, ওটাকেই কি ভাব দেহ বলে? স্থূল শরীরের সঙ্গে ঐ ৬) ১৯শে অগ্রহায়ণ, বৃহস্পতিবার, শরীরের তফাৎ কি? ১৩৪৮ (ইং ৪|১২|৪১) ‘আলোচনা-প্রসঙ্গে’ প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৪, শ্রীশ্রীঠাকুর এক প্রশ্নের উত্তরঃ স্থূল শরীরের সবটাই সূক্ষ্ম দেহে থাকে। উত্তরে বলেছেন - শুধু দেহ না থাকায় কর্ম সম্পাদনের ক্ষমতা *গুরু-পুরুষোত্তমকে directly (সরাসরি) যারা থাকে না। ক্ষুধা-তৃষ্ণা সবই থাকে। তাই মৃত না পায়, তারা তঁদনুবর্ত্তী আচার্য্য-পরম্পরার ব্যক্তির উদ্দেশ্যে নিবেদনের প্রথা আছে। তবে ভিতর-দিয়ে তাঁর ভাবটাই কিছু-না-কিছু পায়।* সূক্ষ্ম দেহে থাকাকালীন স্থূল খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তবে কি শ্রীশ্রীঠাকুর আচার্য্য- থাকে না কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্যে খাদ্যাদি নিবেদিত পরম্পরা কথা স্বীকার করে নিয়ে সেই পথেচলার হলে মনে যে তৃপ্তি হয় সূক্ষ্ম দেহ ওটাই ভোগ নির্দ্দেশ দিলেন? করে। উত্তরঃ পুরুষোত্তমের অবর্তমানে যাঁরা তাঁর প্রতি ১০) প্রবৃত্তি কি soul এর অংশ? অনুরাগ নিয়ে তঁদনুবর্ত্তী হয়ে নিষ্ঠার সাথে তাঁর নিদেশগুলিকে বাস্তব কর্মের মাধ্যমে নিজের উত্তরঃ আত্মা হচ্ছে বান্ডল ওফ আইডিয়ার জীবনে ফুটিয়ে তুলে অন্যকে ভাগবত পোষণায় সমষ্টি। সেখানে নেগেটিভ ও পজিটিভ উদ্বুদ্ধ করে তুলতে পারেন তাঁরা সকলেই দু’ধরনেরই আইডিয়া না থাকলে সাম্যতা থাকে আচার্য্য। এহেন আচার্য্যদের পরম্পরার মাধ্যমে না। তিনি বাহিত হন। যেমন যুগ যুগ ধরে মহাপুরুষদের দর্শন ও জীবনতত্ত্বকে যাঁরা বহন ১১) আত্মাকে pure বলা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ করে চলেছেন তাঁরা সকলেই আচার্য্য। এখানে আত্মাকেই সব থেকে বড় গুরু বলেছেন। সেই কোনও ব্যক্তি বিশেষ নির্ধারিত নন। আর জায়গায় দাঁড়িয়ে আত্মাও যদি প্রবৃত্তির দ্বারা পুরুষোত্তম হচ্ছেন একাধারে ইষ্ট ও আচার্য্য। পরিচালিত হয় তাহলে তো আত্মা ভুল পথ ও তিনিই বিবর্তনের অগ্রদূত। এখানে শ্রীশ্রীঠাকুর দেখাতে পারে। কোনও বিশেষ ব্যক্তির পরম্পরার কথা বলেননি। ৭) মৃত্যুর পরও কি প্রবৃত্তি সঙ্গে থাকে? উত্তরঃ আত্মা শব্দের মানে হচ্ছে আইডেনটিটি। যেখানে আইডেনটিটি থাকবে সেখানে ভাল উত্তরঃ হাঁ। মৃত্যুর পরও প্রবৃত্তি জনিত মন্দের সহাবস্থান থাকবে। তা নাহলে তো ঝোঁকগুলো থাকে। পুর্বর্জন্মের ঝোঁক নিয়ে মানুষ জন্মাতো না। ৮) সেটা তো জড় দেহ না তাহলে সেটা কিভাবে ১২) ত্রিসন্ধ্যার টাইমিংটা যদি বলেন তাহলে ক্রিয়া করে? খুব ভালো হয়। উত্তরঃ জড় দেহ না থাকলেও প্রবৃত্তি জনিত উত্তরঃ সূর্যাস্তের পূর্বে, মধ্যাহ্নের সময় ঝোঁকগুলো মনোজগতে ক্রিয়াশীল হয়। দেহ না (দুপুর ১২টায়) আর সূর্যাস্তের পর। এই সময় থাকায় ওগুলোর পরিপূর্ণ হয় না। এটাই নরক ত্রিসন্ধ্যা করার উপযুক্ত সময়। যন্ত্রণা।

৬ ১৩) দাদা, মিনিমাম এবং ম্যাক্সিমাম টাইমটা দ্বিতীয় উত্তরঃ এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত যদি বলেন। মতামত যা হলো, দুনিয়ার সব কিছুই নিয়মের গন্ডিতে বাধা... দিন-রাত, ঋতু পরিবর্তন উত্তরঃ ম্যাক্সিমাম আনলিমিটেড। মিনিমাম ৪৫ ইত্যাদি অনেক কিছুই। ব্যতিক্রম থাকতেই মিনিট করে দু বার শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন। পারে, হয়তো ওই ব্যতিক্রম টাই নিয়ম! যেমন যার মন সব সময় জপ-ধ্যান নিরত থাকে ১৪) তার মানে যতদিন এই জন্ম মৃত্যুর circle (অজপা নাম) তার জন্য ত্রিসন্ধ্যা প্রযোজ্য নয় থেকে বের না হওয়া যায় ততদিন প্রবৃত্তি থেকে বলে মনে হয়। এমনও জানি পৃথিবীর কিছু মুক্ত হওয়া যাবে না। জায়গায় ছয় মাস দিন ছয় মাস রাত, সেখানে দিনরাত্রির নিয়ম খাটে না। উত্তরঃ একদম ঠিক কথা বলেছেন। ১৭) আর একটা জিনিস ভাবতে হবে নিয়ম যেন ১৫) জয়গুরু দাদা । ঊষায় নিশায় মন্ত্র জপ কৃচ্ছ্র সাধন না হয়ে যায় । নিয়ম যেন আপনা করার সঠিক সময় যদি আর একবার অনুগ্রহ থেকেই আসে জোর করে নয়। করে বলেন কৃতজ্ঞ থাকবো। বিছানায় বসে কি জপ করা যায় ঊষায়, নিশায়? উত্তরঃ ঠিক বলেছেন। তাঁর প্রতি ভালোবাসাই যেন মূল উদ্দেশ্য হয়। উত্তরঃ সূর্যাস্তের পূর্বে ঊষা এবং মধ্য রাত্রির পূর্বে নিশা। হাঁ, বিছানায় বসে জপ করা যায়, যদি ১৮) কিন্তু যারা ব্যাতিক্রম, যেমন - গিরিশ ঘোষ, বিছানা পরিচ্ছন্ন থাকে। হেম কবি বা এমন আরও অনেকে ? ১৬) সব নিয়ম তো মানতে পারি না।নিয়ম ঠিক উত্তরঃ এদের ব্যাপারে শ্রীশ্রীঠাকুর অমিয়- মত মানতে না পারলে কি ভক্তি বা অনুরাগ বাণীতে বলেছেন এরা হচ্ছেন ডাইনেমিক আসে না ? না কি ভক্তি বা অনুরাগ বাঁধা নিয়মেরও উর্দ্ধে? যদিও বিষয়টা খুব স্পর্শকাতর পার্সোনালিটির মানুষ। কর্মফল ভোগ হয়ে তবুও একটু যদি আলোচনা হয়, উপকৃত হব। গেলে এদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় এবং সমাজ এদের কাছ থেকে অনেক উপকৃত হয়। প্রথম উত্তরঃ ভক্তি বা অনুরাগ থাকলেই নিয়ম ১৯) যে নিয়মে ভক্তি আসে না তা কিন্তু ক্ষতি automatically পালন হয়ে যায়। আসল করে।আগে যেমন আমাদের পণ্ডিতেরা নীচ ঐটাই। ঐটা আসলেই সব ঠিক হয়ে যায় বলে জাতি ভেবে মানুষের ছায়া মাড়াতেন না। এটা আমার মনে হয়। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা নয়। সমাজের এক শ্রেণির মানুষকে দূরে রাখা। উত্তরঃ একে নিয়ম বলা যায় না,একপ্রকার প্রভুত্ব ফলানো, অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে।

৭ ২৫) পুরুষোত্তমের প্রদত্ত দীক্ষা ও অন্যান্য সিদ্ধ গুরুর দীক্ষার মধ্যে পার্থক্য কি? ২০) কীর্তন দ্রুত মনকে উচ্চে নিয়ে যায়? নাকি উত্তরঃ পুরুষোত্তম হচ্ছেন পূর্ণ ব্রহ্মের সাকার নাম জপ? বিগ্রহ। আর সিদ্ধ গুরুরা কিছু গুণের অধিকারী হওয়ায় তাঁদের ভ্রান্তিগুলোও শিষ্যে সঞ্চারিত উত্তরঃ কীর্ত্তন জোর করে মনকে উচ্চে নিয়ে যায় হয়। আর নাম জপ দ্রুত মনকে উচ্চে নিয়ে যায়। [প্রশ্নকর্তাঃ শ্রী রমেন্দ্র নাথ কোলে দা, শ্রী গোপাল মন্ডল দা, শ্রী অনুপ বৈদ্য দা,শ্রী ২১) বিশ্বাস ও নির্ভরতাই কি গুরু প্রদর্শিত পথে রাজকুমার মান্না দা, শ্রী রাজেশ ঘোষ দা, শ্রীমতী চলার মূল মন্ত্র? পলি ঘোষাল চক্রবর্তী মা, শ্রীমতীপ্রতিমা কোলে মা এবং উত্তরদাতাঃ শ্রদ্ধেয় ডাঃ সুখেন্দু পানি দা উত্তরঃ হাঁ। বিশ্বাস আর নির্ভরতা নিয়ে তঁৎপ্রদত্ত এবং শ্রদ্ধেয় শ্রী সুদীপ চক্রবর্তী দা। সমস্ত পথে চলতে হবে। অলস বা নিথর হয়ে বসে থাকলে চলবে না। প্রশ্নের উত্তর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ভাবাদর্শের উপর আধারিত।] ২২) মানুষ যদি তার গুরুকে সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করেন ও তাতে নির্ভরশীল হন ও গুরু যদি Sponsor by purushottamayurved.in প্রতারক হন সেখানে তো ঠকে যাবার সম্ভবনা থাকে? CONTACT +91 7001471431 উত্তরঃ হাঁ। তবে \"যথাপি আমার গুরু শুঁড়ি বাড়ি যায়, তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়\" - এমনটাও আছে। ২৩) যারা সৎ নাম জপ করেন ও মাছ মাংস ভক্ষণ করেন তারাও কি নামের মহিমা একই ভাবে উপলব্ধি করতে পারেন? উত্তরঃ না। সূক্ষ্ম ভাব ধরা যায় না নিরামিষাশী না হলে। ২৪) সদগুরু কি মানুষকে জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করেন? উত্তরঃ হাঁ। তাঁকে অনুসরণ করে চললে তবেই।

৮ পরবর্তী জন্মে সব মানুষই কি মানুষ জন্ম পাবে? ( ২য় পর্ব ) জগদিন্দু চক্রবর্তী জীবাত্মার পরমাত্মার মধ্যে পার্থক্য কি? এ প্রশ্ন প্রথম জীব অর্থাৎ উদ্ভিদ হতে পশু পর্যন্ত কিন্তু অনেকের মনে আসতে পারে। জীবাত্মা হল কোনরকম বিবেক ও বিচার বুদ্ধি থাকে না। তাই প্রবৃত্তি ওয়ালা আত্মা অর্থাৎ যে আত্মার সঙ্গে পাপ পুণ্য ইত্যাদি বোধ তাদের থাকেই না জড়িয়ে থাকে প্রবৃত্তি। কিন্তু কিভাবে? আগের শুধুমাত্র নিজস্ব প্রকৃতির প্রভাবেই তারা চলতে জন্ম থেকে যে মন সে নিয়ে এসেছে সেই মনের থাকে অর্থাৎ জীবন অতিবাহিত করে এবং মধ্যে বিগত জন্মের প্রবৃত্তি গুলো থেকে যায়, এইভাবে কোটি কোটি বছর ধরে চলতে চলতে যদিও মানুষ ভেদে সেগুলোর তারতম্য হয়। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মানুষ জন্ম পেতে পারে যদিও সেটারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এই দুনিয়ায় কোটি কোটি জীব বিভিন্ন ধরনের কামনা-বাসনা এবং তার বিকৃতি নিয়েও এ ব্যাপারে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন, \"যত জন্ম গ্রহণ করছে আবার দুঃখ যন্ত্রণা ভোগ rational (বিচার শক্তি সম্পন্ন) হয়, complex করতে করতে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু মুখে পতিত (প্রবৃত্তি)-টা ততটা free (স্বাধীন) অর্থাৎ হচ্ছে।। একেক ধরনের জীবের দেহ মন প্রাণ voluntary (স্বীয় ইচ্ছাধীন) হয়। ওদের সব একেক প্রকারের হয়। সেই মনের ভাব ও অনেকটা বেশি circumscribed (সীমাবদ্ধ )। কর্ম অনুসারে জীব চার রকম জন্ম পায়, যথা ওরা obsessed (আবিষ্ট) কিনা, সেই জন্যই উদ্ভিজ্জ, স্বেদজ, তৃতীয়ত অণ্ডজ এবং জরায়ুজ। ওরা educated (শিক্ষিত) হয় কম। Educated (শিক্ষিত) হয়, অথচ যদি প্রথম ধরনের জীব হল গাছপালা adjusted (নিয়ন্ত্রিত) না হয়, তাহলে লতাপাতা ইত্যাদি।‌ দ্বিতীয় ধরনের অর্থাৎ স্বেদজ disintegrated (বিশ্লিষ্ট) হয়ে যায়। মানুষের হচ্ছে জলে শ্যাওলা ধরনের বস্তুর মধ্যে যে সমস্ত অল্প বিস্তর স্বাধীনতা থাকায় যেমন তার কীট জন্মায়। তারপর বিবর্তনজনিত ক্রমোন্নতির উন্নতিও হতে পারে তেমনি তার অবনতিও হতে মাধ্যমে অন্ডজ জীব হিসাবে জন্ম পায়। অণ্ডজ পারে। পশুদের এ বালাই নেই বললেই হয়, জীব হল সেই সমস্ত জীব যারা ডিম ফুটে বেরোয় তবে Pedigree (বংশধারা) অনুযায়ী একই যেমন বিভিন্ন ধরনের পাখি, সরীসৃপ ইত্যাদি। জাতের পশুদের মধ্যে আচরণের কিছু কিছু এইভাবে জীবাত্মা বারবার এই বিভিন্ন ধরনের পার্থক্য দেখা যায়।\" [আঃ-প্রঃ ১৬ খন্ড] জীবাকৃতি পেতে পেতে শেষে মানুষ রূপী জীব কিন্তু মানুষের দেহ পেলেও সেই মানুষের মধ্যে হয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাই মানুষই হল ঈশ্বরের মানুষোচিত জ্ঞান-গুণের প্রকাশ নাও থাকতে সৃষ্টির উন্নততম প্রাণী। এটা একটা অত্যন্ত পারে, কারণ আগের কীটপতঙ্গ, পশু ইত্যাদি ভয়ংকরতম প্রসেস বা পদ্ধতি এবং প্রায় ৮৪ জন্মের প্রবৃত্তি ও সংস্কার থেকে যায়। এই সমস্ত লক্ষ যোনি অতিক্রম করে শেষ জন্মে মানুষ হয়। পশুচিত সংস্কার ও প্রবৃত্তিগুলিকে পরিবর্তন তাই বলা হয় একবার মানুষ জন্ম পেয়ে তাকে করতে করতে ভালো মানুষ হতে বহু জন্ম কামনা বাসনা দ্বারা আবৃত করে রেখে জীবন লাগে। তাই শ্রীশ্রীঠাকুরের কথা অনুযায়ী মানুষ অতিবাহিত করা একদমই উচিত নয়। অতিরিক্ত যদি প্রবৃত্তিগুলোকে ইষ্টের অনুকূলে নিয়ন্ত্রিত কামনা-বাসনা জড়িত জীবন যদি হয় তাহলে করার চেষ্টা না করে তাহলে খুবই মুশকিল পরবর্তী জন্মে মানুষ হয়ে আসা খুব কঠিন হয়ে আছে। তা না করলে এতগুলো জন্মের পশুগত দাঁড়ায়। সংস্কার ও প্রবৃত্তিকে অপসারণ করা খুব সহজসাধ্য নয়।

৯ পশু জন্মের প্রবৃত্তিগত সংস্কার অপসারণ না করার ফলে আমরা সমাজে অনেক মানুষের মধ্যে পশুর মত আচার ব্যবহার, দয়া-প্রেম- ভালবাসা-হীনতা, হিংস্রতা, নিষ্ঠুরতা বর্বরতা দেখতে পাই। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন, বিভিন্ন মানুষের বিবেক বিভিন্ন রকমের এবং তার কারণ হলো তার জন্মগত সংস্কার ও প্রবৃত্তিগত তারতম্যতা। মানুষ দেহ পাওয়ার পর সে যদি সংস্কার, স্বভাব ও প্রবৃত্তির পরিবর্তনের জন্য প্রচেষ্টা না করে তাহলে পরবর্তী জন্মে কি ধরনের দেহ পাবে সে সম্পর্কে সংশয় থেকে যায়। …ক্রমশঃ Sponsor by purushottamayurved.in CONTACT +91 7001471431

১০ আর্য্য দশবিধ সংস্কার (পর্ব ১৬) ডাঃ তপন দাস এবার আমরা উপনয়ন বিষয়ের কিছু তত্ত্ব বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুনের দ্রোণাচার্য্য, কৃপাচার্য্য, ধৌম্য এবং তথ্য নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। প্রমুখ গুরু থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের প্রদত্ত শিক্ষা উপনয়নঃ মনু সংহিতা মতে, যে সংস্কারের দ্বারা অর্জুনকে ‘দুর্বলতার’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আচার্য্যের সমীপে নীত হয়। তাই উপনয়ন। শেখাতে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই কুরুক্ষেত্রের বিপ্রের ৩ বছর ৩ মাস, ক্ষত্রিয়ের ৪ বছর ৩ ধর্মযুদ্ধের প্রারম্ভে ‘অনার্য্যজুষ্টম’, ‘নাস্তিবুদ্ধি’ মাস, এবং বৈশ্যের ৬ বছর ৩ মাসে উপনয়ন ইত্যাদি বিশেষণে ধমক খেতে হয়েছিল হতে পারে পিতার ইচ্ছানুযায়ী। (মনু সংহিতা, অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণের কাছে। উক্ত শিক্ষাগুরুদের ২য় অধ্যায়, শ্লোক ৩৭) মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই শ্রীকৃষ্ণকে ইষ্টগুরু রূপে বরণ করে নেবার পরেই তাঁর বিদ্যালাভ সম্পূর্ণ উপনয়ন কেন? হয়েছিল। মুন্ডক উপনিষদে গৃহস্থপ্রধান শৌনক অঙ্গিরাকে প্রশ্ন করেন, কি জানলে সব কিছু জানা যায়? একই সময়ে বহু ইষ্টগুরু বা সদগুরু থাকেন উত্তরে অঙ্গিরা বলেছিলেন, পরা এবং কিনা এ বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রশ্ন করা হলে অপরাবিদ্যা জানলে সবকিছু জানা যায়। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন: “এঁদের মধ্যেও স্তরভেদ আছে। World teacher (জগৎগুরু), divine অদৃশ্য, অগ্রাহ্য, অগোত্র, নীরূপ, চক্ষু-কর্ণ- teacher (ভাগবত গুরু), divine man পদবিহীন, নিত্য, বিভু, সর্বব্যাপী অতিসূক্ষ্ম (ভাগবত পুরুষ) অর্থাৎ পুরুষোত্তম বা অবতার অক্ষর ব্রহ্মকে, অর্থাৎ ব্রহ্মত্ব বা ঈশ্বরত্ব লাভ মহাপুরুষ যিনি, তিনি এককই থাকেন। তবে করা পরাবিদ্যার বিষয়। বেদশিক্ষা (আয়ুর্বেদ, তাঁর জীবদ্দশায় realised man (সিদ্ধপুরুষ) ধনুর্বেদ, গন্ধর্ববেদ, স্থাপত্যবেদ,) ন্যায়, আরো অনেকে থাকতে পারেন। যে কোন মীমাংসা, দর্শন, পুরাণ, কল্পসূত্র, ব্যাকরণ, realised man (সিদ্ধপুরুষ)-ই গুরু হতে নিরুক্ত, ছন্দশাস্ত্র, নীতি, অর্থশাস্ত্র ও জ্যোতিষ পারেন। তবে যিনি যে গুরুরই আশ্রিত হয়েই প্রভৃতি কর্মকাণ্ড শিক্ষা অপরাবিদ্যার বিষয়। সিদ্ধ হউন না কেন, তিনি প্রকৃত সিদ্ধ কিনা তার পরখ হচ্ছে—তিনি ঐ যুগপুরুষোত্তমে সশ্রদ্ধ পরাবিদ্যার গুরুকে আচার্য্য এবং নতিপরায়ণ কিনা। তাঁর দীক্ষায় দীক্ষিত না অপরাবিদ্যার গুরুকে উপাচার্য্য নামে অভিহিত হলেও, তাঁর গুরুর সম্বন্ধে তাঁর সোচ্চার স্বীকৃতি করা হতো। থাকবেই। এইটে যদি ঠিক থাকে, তবে প্রত্যেকে তার গুরুনিষ্ঠা বজায় রেখেও পরমগুরু যিনি তার শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাষায় ইষ্টগুরু এবং সম্বন্ধে অবহিত হয়ে চলতে পারবে। এতে শিক্ষাগুরু। প্রত্যেকেরই মঙ্গল এবং integration “শিক্ষাগুরু থাক না অনেক (সংহতি)-ও স্বতঃ হয়ে ওঠে। Realised man (সিদ্ধপুরুষ) যাঁরা, তারা বিভিন্নপন্থী হলেও শিখো যেমন পার, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও স্বীকৃতি ইষ্টগুরু একই কিন্তু থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়। সিদ্ধপুরুষ বলে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি অন্য সিদ্ধপুরুষ বা নিষ্ঠা সহ ধর।” পুরুষোত্তমের নিন্দা করেন, তবে বুঝতে হবে তাঁর মধ্যে খাঁকতি আছে।

১১ বিদ্যা লাভার্থে সদগুরুর দীক্ষা কেন নিতে হবে? শ্রীশ্রীঠাকুর—“মানুষ যদি কোন কিছু অবলম্বন মনুষ্যত্বের পর্যায়ে যারা দাঁড়ায় তাদের বুদ্ধিই না ক’রে একাগ্র হ’তে চেষ্টা করে, complex হয় আদর্শকে বা নীতিকে অবনমিত না করে (প্রবৃত্তি)-গুলি dormant, dull ও indolent প্রত্যেককে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে চলা। (সুপ্ত, ভোঁতা ও অলস) হ’য়ে যায়। কিন্তু মানুষ অপরকে বড় করেই তারা সুখ পায়। যদি সুকেন্দ্রিক হয়, তা’তে সেগুলি roused, active ও meaningful (জাগ্রত, সক্রিয় ও তাহলে আমাদের মনে প্রশ্ন উদিত হওয়া সার্থক) হয়, individuality grow করে স্বাভাবিক যে, যুগপুরুষোত্তম কি তাহলে (ব্যক্তিত্ব গজায়)। আমাদের শরীরে যতগুলি তৎকালীন সব গুরুরই গুরু? cell (কোষ) আছে, সেগুলি concentric (সুকেন্দ্রিক) না হ’লে ছিটিয়ে যেত, impulse শ্রীশ্রীঠাকুর—এইটে হলো প্রাকৃতিক সত্য। (সাড়া) carry (বহন) ক’রতে পারত না, বিচ্ছিন্ন তবে তার কোন গুরুত্বের ego (অহং) থাকে না। হ’য়ে থাকত। concentric (সুকেন্দ্রিক) হওয়াই যে বোঝে সে মানে। যে বোঝে না সে মানে না। হ'লো উন্নতিলাভের পরম পথ। ... Earth কিন্তু এই মানা না মানায় তার কোন ক্ষতিবৃদ্ধি (পৃথিবী) টা যদি sun-এ (সূৰ্য্যে) concentric হয় না। যারা মানে তারাই উপকৃত হয়। সূর্য (সুকেন্দ্রিক) না হ’তো তাহ'লে তা ভেঙে গুঁড়ো যেমন ভালমন্দ নির্বিশেষে সকলের উপরই গুঁড়ো হ’য়ে যেত। গ্রহগুলি যদি কোথাও নিবদ্ধ সমভাবে কিরণ বর্ষণ করে তিনিও তেমনি না থাকতো, তবে অস্তিত্ব বজায় রেখে চলতে নির্বিচারে সকলের মঙ্গল করে যান। তাঁর পারত না। আমাদের প্রত্যেকের ভিতরেই একটা দেওয়া মঙ্গল গ্রহণ করতে গেলেই চাই তাঁর যোগাবেগ আছে। ভালবাসা ও টান জিনিসটা প্রতি উন্মুখ হওয়া—তাঁকে ভালবাসা— তাঁর দেওয়াই আছে। বীজ ও ডিম্বকোষের মধ্যে টান প্রদর্শিত পথে চলা। নইলে তিনি আমাদের না থাকলে conception (গর্ভসঞ্চার) হয় না, মঙ্গলের অধিকারী করে তুলতে চাইলেও ব্যক্তিই বেরোয় না। ঐ টানকে রক্ষা করার জন্য আমাদের co-operation (সহযোগিতা) ছাড়া সুকেন্দ্রিক হওয়া লাগে। সেজন্য বামুন, ক্ষত্রিয়, তা’ তিনি পারেন না। পুরীতে জগন্নাথের মন্দিরে বৈশ্যের ছোট বয়সেই দীক্ষা নিতে হ’তো। দীক্ষা যদি যাও, তাহ’লে দেখতে পাবে জগন্নাথের হাত এসেছে দক্ষ কথা হ’তে৷ দীক্ষা মানে তাই যা’ নেই। জগন্নাথ জনে জনে হাত বিলিয়ে নিজে আমাদের দক্ষ করে তোলে। ......ধর্ম ও বিজ্ঞান হাতহীন হয়ে বসে আছেন। কিন্তু যেই আমরা পরস্পর জড়িত। ধর্মে যদি বিজ্ঞান না থাকে, তাঁকে আমাদের হাত দুখানি দিয়ে নিবিড়ভাবে তবে তা’ অন্ধ। আবার বিজ্ঞানে যদি ধর্ম না আঁকড়ে ধরবো অমনি আমরা তাঁর হাতে চলে থাকে, তবে তা খোঁড়া।” যাবো। তখন তাঁর ইচ্ছায় আমরা চালিত করবো (আঃপ্রঃ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৩৬০, সোমবার।) নিজেদের। এমনি করেই আমরা সেই মঙ্গলের অধিকারী হবো—যে মঙ্গল তিনি আমাদের দিতে অতএব বিদ্যা লাভার্থেই উপনয়ন সংস্কার। চান। (আঃপ্রঃ, নবম খন্ড, ৪. ৯. ১৯৪৭) জীবনীয় আচরণবিধি পালনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা ইষ্টগুরুর দীক্ষা গ্রহণ করে আচার্য্য সমীপে ‘প্রণিপাতেণ’ পরিপ্রশ্নেন, সেবয়া’-র মাধ্যমে পরা এবং অপরাবিদ্যা অর্জনের উদ্দেশ্যেই উপনয়ন। শুধু গলায় পৈতে ধারণই উপনয়ন সংস্কার নয়।

১১২ ‘ইষ্টনিষ্ঠাউৰ্জ্জনা’-কে প্রতিষ্ঠা দিতে হিমাইতপুরে লীলাকালীন উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, লুঠতরাজ, সম্ভ্রমহানি ইত্যাদি অনিষ্ট কর্ম কারীদের হাত থেকে বিপন্নদের বাঁচাতে, সকলকে নিরাপত্তা দিতে স্বস্তিসেবক বাহিনী গঠন করেছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। এবং ভারতীয় আর্য্যকৃষ্টিকে পুণঃ সংস্থাপন করার লক্ষ্যে পুরুষানুক্রমে অনুপনীতদের ব্রাত্যদোষ স্খালনের জন্য ৩৬ দিন প্রাজাপত্য ব্রত পালন করে সর্ববর্ণের জন্য উপনয়ন গ্রহণ করার শাস্ত্রীয় বিধি বলবৎ করেছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। স্বস্তিসেবক বাহিনীতে যোগদানের জন্য উপনয়ন গ্রহণ করা ছিল আবশ্যিক। ওই দুই ইষ্টকর্মকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর স্বীয় প্রতিনিধিস্বরূপ সতীশচন্দ্র গোস্বামীকে আচার্য্য রূপে নিয়োগ করেন। তার পর থেকেই সতীশচন্দ্র গোস্বামী আচার্য্য রূপে স্বীকৃতি পান সৎসঙ্গীদের কাছে। (সূত্র : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী ও সৎসঙ্গ আন্দোলন, পৃঃ ৯০-৯১) ক্রমশঃ..... Sponsor by purushottamayurved.in CONTACT +91 7001471431

১৩ অনুগল্প ফিরে পাওয়া শ্রী সুখেন্দু পানি শহরের অভিজাত এলাকায় সাজানো গোছানো মৃনালিনী চিনতে না পারায় বলে ওঠে আমি দোতলা বাড়িতে স্বামী পুত্রকে নিয়ে মৃনালিনীর ঋদ্ধিমান। জার্মানি থেকে চাকরী ছেড়ে বরাবরের সংসার। স্বামী একটা মাল্টিনেশনাল মত দেশে ফিরে এসেছি। আজ আমার নুতন কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ অফিসার। ছেলে বাড়ির গৃহ প্রবেশ। তাই আপনাকে নিতে অংশুমান শহরের কেতাদুরস্ত নামী দামী স্কুলে এসেছি। এরপর থেকে আপনি আমার কাছেই পড়াশোনা করে। আর আছে কাজের লোক থাকবেন। ঋদ্ধিমানের নুতন বাড়িতে পৌঁছে শর্মিষ্ঠা। মৃনালিনীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়। স্বামী মৃনালিনী বিস্মিত হয়ে যায়। এ তো তাঁরই বাড়ি। মারা গেছে। অংশুমানের বয়সী একটা ছেলে ঋদ্ধিমান মুচকি হেসে বলে দালাল মারফৎ খবর ঋদ্ধিমানকে নিয়ে আউট হাউসে থাকে এবং এ পাই অংশুমান আপনার বাড়ি বিক্রি করে দিতে বাড়ির সবকাজ দু হাতে সামলায়। মৃনালিনীর চায়। তাই যে বাড়িতে আমার শৈশব কেটেছে চেষ্টায় ঋদ্ধিমানকে স্হানীয় একটা সরকারী সে বাড়ি যাতে বেহাত না হয় তাই অংশুমানকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। যাবতীয় খরচ না জানিয়েই আমি এ বাড়ি কিনেনিই। এখন মৃনালিনীই বহন করেন। থেকে আপনি আপনার বাড়িতেই থাকবেন। যদি সময়ের গতিপথে একদিন মৃনালিনীর স্বামী অনুমতি দেন তাহলে আমি ও আপনার দেহত্যাগ করেন। অংশুমান ও ঋদ্ধিমান বৌমাআপনার সাথে থাকতে পারি। কলেজেরগন্ডি অতিক্রম করে হায়ার স্টাডিতে প্রবেশ করেছে। দুজনকেই প্রয়োজনে অন্য মৃনালিনী আনন্দে ঋদ্ধিমানকে জড়িয়ে ধরে রাজ্যে চলে যেতে হয়। শর্মিষ্ঠাও তার গ্রামে বলেন তুইই আমার যোগ্য উত্তরসূরী। তোর ফিরে যায়। বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হয়ে জন্যই আমি আমার সাধের বাড়ি ফিরে পেলাম। চলে। অংশুমান চাকরী পেয়ে নিউইয়র্ক চলে যায়। ঋদ্ধিমানও চলে যায় বার্লিনে। অংশুমান মৃনালিনীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। এদিকে মেন্টেনেন্সের অভাবে বাড়ির হাল বেহাল হয়ে পড়ে। হঠাৎ একদিন অংশুমান এসে বাড়ি সারিয়ে খদ্দের দেখে বাড়ি বিক্রি করে দেয় এবং মৃনালিনীকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে নিউইয়র্কে ফিরে যায়। তারপর অংশুমানের সঙ্গে মৃনালিনীর যোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন ঋদ্ধিমান বৃদ্ধাশ্রমে উপস্হিত হয়ে বলে মাসীমা আমাকে চিনতে পারছেন?

১১৪ প্রবন্ধ ‘মা’ দুর্গা আরাধনার তাৎপর্য সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকু র অনুকূ লচন্দ্র ডাঃ বিশ্বনাথ ভৌমিক শ্রীশ্রীচন্ডীতে বলা হয়েছে – মহাশূন্য মহাশূন্যই থেকে যেত। ঐ Strong সর্বমঙ্গলে মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে। Nuclear force সমস্ত অণু পরমাণুকে সংহত করেই বস্তু জগত সৃষ্টি হয়েছে। হচ্ছে। সমস্ত শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমহস্তুতে।। জাগতিক বস্তুকে দিচ্ছে বা সীমায়িত করছে, তাই সৃষ্টি স্থিতি বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনী বলা হয়েছে আদ্যাশক্তি মহামায়া। মায়াশক্তি গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণী নমহস্তুতে।। মানে হল যে শক্তি সমায়িত করে, আকার দান করে। তাই মহান মায়া বলা হয়েছে। শরণাগত দীনার্ত পরত্রাণ পরায়ণে। মাতৃকাশক্তি বলা হয়েছে। মা মানেই হল যা সর্বস্যাতি হরে দেবী নারায়ণী নমোহস্তুতে।। কিনা পরিমাপিত করেন। তাই প্রতিটি জাগতিক মায়ের মধ্যেই ঐ মাতৃকাশক্তি বর্তমান। অর্থাৎ হে ত্রিনয়না গৌরী, তুমি সকল মঙ্গলের পরিমাপিত বা সীমায়িত করার শক্তি বর্তমান। মঙ্গল স্বরূপিনী, কল্যাণী, সর্বসিদ্ধি বিধায়ণী, তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন প্রত্যেক মেয়েই তুমি সকলের শরণ্যা। হেনারায়ণী তোমাকে জগজ্জননীর অংশ। নমস্কার। তুমি সৃষ্টি, স্থিতি প্রলয়ের শক্তি স্বরূপা। হে নারায়ণী তোমাকে নমস্কার। শরণাগত, দীন শ্রীশ্রীঠাকুর মা দুর্গাকে কখনো মাটির প্রতিমা ও আর্তজনের পরত্রাণে সদাই তৎপর। তুমি হিসাবে দেখেন নি। তিনি বললেন, প্রতিমায় সকলের দুঃখ বিনাশ করিয়া থাক। হে নারায়ণী যাঁকে পূজা করা হয়, তিনি প্রতি ঘরের দেহধারী তোমাকে নমস্কার। এই উক্তির মধ্যে বিশাল মা। অর্থাৎ নিজের মায়ের উপর ভক্তি ভালবাসা সৃষ্টি বিজ্ঞান ও দর্শন ঋষির মুখে উচ্চারিত যার যত জীবন্ত তার কাছে দুর্গা পূজার সার্থকতা হয়েছে। আমরা যৎকিঞ্চিত তা পর্যালোচনা তত বেশি। নিজের মাকে খুশি ও তৃপ্ত না করে করার চেষ্টা করি। হাজার ঢাকঢোল বাজিয়ে দুর্গাপূজা করলেও কোন ফল হয় না। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আধুনিক বিজ্ঞান যে চারটি শক্তির কথা বললেন – বলছে তা হল – Gravitational force, “ভগবতী পূজা করি মানে – Electro-magnetic force, Strong নিজের মা’কেই উপাসনা করি।” nuclear force ও Weak nuclear force - যার মূল উৎস তারা বলছেন Unified মা দুর্গা দশভুজা। তার মানে ঘরের মা যিনি consciousness অর্থাৎ মহাচেতন সত্তা। তিনি একাধারে বধূ ও গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ প্রতিটি মানুষের সেবা পূজায় তিনি তৎপর। তাই ঋষিগণ যাকে নির্গুণ ব্রহ্ম, পরম কারণ, দুই হাতেই তাকে দশ হাতের কাজ সামলাতে পরমাত্মা বলেছেন। যাকেই আবার God, হয় তাই তিনি দশভুজা। মায়ের দশ হাতে দশ আল্লাহ, আহুর মাজদা ইত্যাদি বলা হচ্ছে। প্রহরণ।এগুলি আসলে ঐ মাতৃকা শক্তিরই মূলতঃ ব্যাপারটা একই। সেই পরম কারণ প্রকাশ। যা দিয়ে তিনি অসৎ বা অসুরকে পরিহার করেন। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন – মহাচেতন সত্তা। এখন শ্রীরামকৃষ্ণ দেব বলেছেন - ব্রহ্মা ও শক্তি অভেদ। নির্গুণ ব্রহ্মের “দূর্গতিনাশিনী হয়ে ক্রিয়াত্মিকা শাক্তি ওই আদিশক্তি মহামায়া। দশপ্রহরণ ধারণ করে বিজ্ঞানের ভাষায় যা Strong nuclear force. সন্তান-সংরক্ষণায় নিয়োজিতা।” এই forceটি না থাকলে কোন বস্তু, প্রাণী, জীব জগত, নক্ষত্র জগত কিছুই সৃষ্টি হত না।

১১৫ প্রবন্ধ অস্ ধাতু থেকে অস্ত্র শব্দটি উৎপন্ন। অর্থাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, যার প্রয়োগে বা ক্ষেপণে অস্তিত্ব সংরক্ষণ হয়। “এই মা আমার তার মানেই হল তিনি অসুর প্রকৃতি সম্পন্ন লোকেদের ঐ দশ রকমের অস্তিত্ব সংরক্ষণী এমনতর ঐশ্বর্য্যশালিনী শক্তি ও গুণ দিয়ে অকল্যাণকারী শক্তিকে দশপ্রহরণী বিনায়িত করেন, রুদ্ধ করেন। তাই তিনি ‘অসুরদলনী’। এই অসুর কারা? গীতার ষোড়শ যাঁতে অচ্যুত আনতিই আমার দুর্গ— অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, অসুর- সেই আনতির মধ্যে দিয়ে প্রকৃতিদের থাকে দম্ভ, দর্প, অভিমান, ক্রোধ, যখন মার চরণে আনত হই নিষ্ঠুরতা ও অজ্ঞানতা। তাদের শুচিতা, আচার ও স্বতঃসম্বিতে সত্যনিষ্ঠা নেই। তারা বর্তমানের সুখ ভোগ সক্রিয়তায়— নিয়েই ব্যস্ত। তারা নিজদিগকে সকলের প্রভু ও তখনই - কমবেশী সিদ্ধপুরুষ মনে করে। তারা ভাবে তারা বলবান, তাদের সমান আর কেউ নয়। মা আমার দুর্গতিনাশিনী দুর্গা।” তারা বিভ্রান্ত চিত্ত, মোহাচ্ছন্ন ও ঐশী পুরুষে বিদ্বেষ পরায়ণ। এমনতর অসুরস্বভাবসম্পন্ন মানুষদিগকে ‘মা’ নিয়ন্ত্রিত করেন, তাদের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। তার মধ্যে পশুত্ব ও সত্তাবিরোধী চলনকে, চলনগতিকে নিরুদ্ধ দেবত্ব দুইই আছে। এই পশুভাবকে সাধনা ও করেন। তাই তিনি অসৎ-দলনী, অসুরনাশিনী। তপস্যার দ্বারা অতিক্রম করেই মানুষ দেবত্বে যেসব মানুষ তাঁর শরণাগত হয় – অর্থাৎ ঐ অধিষ্ঠিত হয়। দেবগুণ সম্পন্ন হয়ে উঠে। তিনি মাতৃভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে মা’কে ভক্তি করে তাঁকে সিংহবাহিনী। অর্থাৎ পশুভাবের উপরে আধিপত্য ভালবেসে সবাইকে ভালবাসতে পারে তাদের করতে পারে ঐ মাতৃভাব। শারদা শব্দটি এসেছে জীবন শুভে নিয়ন্ত্রিত হয়, অকল্যাণ দূরে যায়। ‘শৃ’ধাতু থেকে, অর্থ বধ ও হিংসা। শ্রীশ্রীঠাকুর তাই তিনি কল্যাণী। মহিষাসুর বধ করেছিলেন হেসে বললেন, এতো ঠিকই হয়েছে। তিনি বলে তিনি মহিষমর্দিনী। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন – অসৎনিরোধী প্রচন্ডা হিংসাত্মক যা কিছু তিনি মহিষমর্দিনী মানে আত্মম্ভরি দম্ভ বিজয়িনী। নিরস্ত করেন। দুর্গার ধ্যানমন্ত্রেও মায়ের অসুরের থাকে অপরকে বঞ্চিত করে নিজের অষ্টশক্তির কথা বলা হয়েছে। এই অষ্টশক্তি হল ভোগ সুখের ধান্দা। সে জন্য সবাইকে সে তার মাতৃকাশক্তির আট রকমের পরাক্রমী শক্তির প্রকাশ। তাই মায়ের আর এক নাম শারদা। লোভ ও হিংসার শিকার বানায়। তাই তিনি শিবাণী। অর্থাৎ মঙ্গলদায়িনী। তিনি মাতৃকাশক্তি সবাইকে অভয় দান করে বলেন, কাউকে ফেলে দেন না। তাই তিনি জগদ্ধাত্রী। তোমরা সবাই মাতৃভাবে ভাবিত হয়ে সবার তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, অস্তিত্ব রক্ষাকারী হও। তাই তিনি অভয়া। মাতৃভাবে ভাবিত হলে ঐ সমস্ত অসুর ভাবের “মা সবারই মা, ভাবনা থেকে তার নিষ্কৃতি ও ভয়মুক্ত। এই কাউকে ছেড়ে নয়, মাতৃকা ভাব শক্তি অসৎ এর বিরুদ্ধে দুর্গ স্বরূপ কাউকে বাদ দিয়ে নয়, – তাই তিনি ‘দুর্গা। কাউকে পরিত্যাগ করে নয়।” এই হল মায়ের স্বভাবপ্রকৃতি। তাই মাকে মাটির পুতুল মনে করে পূজা করলে পূজার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় না। তাই শ্রীশ্রী ঠাকুর সাবধান বাণী বললেন, “মা এলেন, পুতুলের মতন তাঁকে পূজা করলে আমাদের প্রাণে তাঁর প্রতিষ্ঠা হল না, সে পূজা কি সম্বর্দ্ধনা নিয়ে আসতে পারে?”

১১৬ তাই প্রকৃত চক্ষুদান ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার তাৎপর্য পাশবিক কামনা বাসনাকে ঐ মায়ের চরণে উৎসর্গ করাই হল প্রকৃত বলিদান। পশুর রক্তে হল আমার প্রবৃত্তিরঙ্গিল চক্ষু তাঁকে দান করে ঐ কখনো মায়ের তৃপ্তি হয়? সেও তো তাঁরই মাতৃরঙ্গিল কল্যাণকারী দৃষ্টি তাঁর থেকে নেওয়া। সন্তান। এগুলিই হচ্ছে অপ ও বিকৃত ব্যাখ্যার আর তাঁর প্রতি ঐ মাতৃভাব শক্তিকে নিজের রূপ। বিসর্জন মানে – বি-সৃজ ধাতু থেকে প্রাণে বা অন্তরে প্রতিষ্ঠা করাই হল প্রকৃত প্রাণ উৎপন্ন। অর্থাৎ বিশেষ প্রকারে সৃষ্টি করা। যে প্রতিষ্ঠা। তাই শাশ্বত ভাগবত বিধান এই যে মায়ের আরাধনা আমরা করলামসেই মায়ের নিজ অন্তরে মাতৃভাবের বিকাশ না ঘটিয়ে সর্ব্বমঙ্গলকারিণী গুণ ও ঐশ্বর্য্য সমন্বিত নিজের মা’কে খুশি না করে, ভক্তি না করে, মাতৃভাবের বিশেষ ভাবে আমাদের অন্তর্জগতে প্রকৃত দেশ সেবা হয় না। কারণ সেখানে লোভ, সৃজন করে তোলাই হল বিসর্জনের তাৎপর্য। হিংসা, দম্ভ, দর্প এই অসুর ভাবগুলি জেগে তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, - উঠবেই এবং অমঙ্গল ও বিনাশ ডেকে আনবে। মাতৃভাব ঐ অসুর ভাবকে দমন করতে পারবে। “মনে করোনা তবেই প্রকৃত দেশ সেবা করার অধিকার মাকে বিজয়া দশমীতে বিসর্জন দিয়েছ, আসবে। নতুবা বাতুলতা মাত্র। নির্গুণ ব্রহ্মের বরং ভাব, ঐ দশভুজা, দশপ্রহরণধারিণী পরমা প্রকৃতি তিনি। প্রকৃষ্ট ভাবে যা করা হয়ে আছে তাই প্রকৃতি, ক্রিয়াত্মিকা শক্তি। তাই অসুরদলনী সেই মা তোমাআর মায়ের পূজা করা মানেই দুনিয়ার সব কিছুর তোমাতেই উৎসৃজিত হয়ে সাথেই একটা সার্থক সঙ্গতি সৃষ্টি করা। তিনি জীয়ন্ত দীপ্তিতে ভগবতী দুর্গা। ‘ভগ’ মানে ঐশ্বর্য্য তাই ভগবতী মানে ঐশ্বর্য্যশালিনী। যশ, ঐশ্বর্য্য, বীর্য্য, শ্রী, তোমার জীবনে জীবন্ত হ'য়ে উঠেছেন; জ্ঞান ও বৈরাগ্য – এই ছয়টি গুণ বা ঐশ্বর্য্যকে তাই সেই শুক্লা দশমী ‘ভগ’ বলা হয়। তাই এই ষড়্গুণ সম্পন্না বলেই তিনি ভগবতী। এই গুণ ও শক্তি সেই নির্গুণ ব্রহ্ম বিজয়া আমাদের সবারই অস্তিত্বের কাছে।” বা পরমাত্মার অংশ। তাই বলা হয় পুরুষ ও “বিজয়া মায়ের বিলয় নয়কো, বিসর্জ্জন, প্রকৃতি। ব্রহ্মা ও শক্তি অভেদ। শ্রীশ্রীঠাকুর বিসৰ্জ্জন মানেই হচ্ছে বিশেষ বিসৃষ্টি।” বললেন, বোধন মানে বোধসূত্র। যাকে আশ্রয় করে অন্তর বাহিরের যা কিছুকে বুঝে সুঝে “মা চলতে পারা যায়। তিনি বললেন, প্রতিপ্রত্যেকের ভিতর সৎসন্দীপনা নিয়ে “মহাশক্তির সন্তান – অসৎনিরোধী তাৎপর্য্যে আমরা যেন প্রত্যেকেই মূৰ্ত্ত হ’য়ে থাকুন, বোধ বিনায়িত মহাশক্তির অধিকারী হয়ে উঠি তাঁর আশীর্ব্বাদে জীবন তৃপ্তিতে ভরে উঠুক, - আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত্ত দীপ্তিতে ভরে উঠুক, বিজয়া-উৎসবে বৈজয়ন্তী বিকাশ-বিভবে বেদ, জ্ঞান, বিজ্ঞান বিভবান্বিত হ'য়ে উঠুক; জ্বলন্ত হয়ে উঠুক সবার অন্তরে।” নিষ্ঠা – মাতৃনিষ্ঠা, আনুগত্য কৃতিসম্বেগের সহিত এই হল বোধনের প্রকৃত তৎপর্য। পূজা মানেই শ্রমপ্রিয় তৎপরতায় সম্বর্দ্ধনা। অর্থাৎ যাঁর পূজা করব। তাঁর গুণাবলী মা’র প্রতিটি বৈশিষ্ট্যকে সুনিষ্ঠ অনুশীলনের মাধ্যমে আমাদের সম্যক বিধায়িত ক’রে রূপে বর্দ্ধনা নিয়ে আসবে। তাইই হল প্রকৃত বিশাসিত সঙ্গতিতে পূজা। ‘বলি’ মানে উৎসর্গ করা। নিজের সম্বুদ্ধ হ’য়ে ওঠে; হিংস্রতা, লালসা, দর্প, দম্ভ,

১৭ প্রতিপ্রত্যেকের মুখে হাসি ফুটুক, সন্দীপ্তি ফুটুক, ঊৰ্জ্জনা ফুটুক, আর সব নিয়ে সঙ্গতিতে সুসংবদ্ধ হ’য়ে উঠুক; এমনি ক'রেই মা’র আরাধনা কর, তা’ নিত্য-নিত্যই ক’রো, ক’রে নিজে সার্থক হও, প্রতিপ্রত্যেককে সার্থক ক’রে তোল;” তাই নিত্য অনুশীলন ও তপস্যার মাধ্যমে ইষ্টকেন্দ্রিকতাইয় ভিতরের পাশবক ভাবের সম্পূর্ণ ‘বলি বা উৎসর্গ’ করে মাতৃভাবের দৈবীভাব অন্তরে প্রতিষ্ঠা করে বিশেষভাবে সৃজিত হয়ে উঠার নামই হচ্ছে প্রকৃত অসুর দলনী সিংহবাহিনী মাতা দুর্গা দেবীর বা দুর্গা আরাধনার প্রকৃত তাৎপর্য। আমরা পুরুষোত্তমের দেওয়া এই দিগদর্শনে নিজেদের আলোকিত করে মাতৃপূজা সার্থক করে তুলি। “ত্রিষু লোকেষু নাস্তি মাতৃসমা গুরু” – নিত্য করণীয় তিনি বলেছেন। জয়গুরু। বন্দে পুরুষত্তমম্‌। [সূত্রঃ ‘শ্রীশ্রীঠাকু রের দৃষ্টিতে দেবদেবী’ – শ্রী দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়] Sponsor by purushottamayurved.in CONTACT +91 7001471431

১১৮ প্রবন্ধ ইষ্টভৃ তির তাৎপর্য্য শ্রী অনুপ বৈদ্য ‘ইষ্ট’ কথাটির অর্থ মঙ্গল, আর মঙ্গল মানে শুভ আর আমাদের জীবনসর্বস্ব যিনি, তাঁর জন্য বা কল্যাণ; এবং ‘ভৃতি’ অর্থ ভরণ- পোষণ । বাস্তবে নিত্যদিন আহার্য্য গ্রহণের পূর্বে সুতরাং ইষ্টভৃতি কথাটির অর্থ হল মঙ্গলের ভরণ যথাশক্তিইষ্টভৃতি শ্রদ্ধায় নিবেদন আমাদের বা পোষণ। আমরা বলি ঈশ্বর মঙ্গলময়, তিনি অবশ্যকরণীয়। তিনি আমার না-শরিক সর্বভূতে বিরাজমান। আর ইষ্ট হলেন মূর্ত্ত মঙ্গল। পরমাত্মীয়। এই ইষ্টভৃতি নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাই ইষ্টের ভরণের সঙ্গে সকলের সামগ্রিক প্রিয়পরমের প্রতি আমাদের ভালবাসাময় টানের মঙ্গল, সার্বজনীন মঙ্গল বা কল্যাণের সম্পর্ক। সৃষ্টি হয়। আর এই টান চারিয়ে যায় পারিপার্শ্বিক আমাদের শাস্ত্রে পঞ্চমহাযজ্ঞের কথা বলা আছে প্রতিটি সত্তার মধ্যে। ভালবাসা ভূমায়িত হয়ে – ঋষিযজ্ঞ বা ব্রহ্মযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, পিতৃযজ্ঞ, পড়ে। তখন প্রতিটি সত্তার মঙ্গলচিন্তা আমাদের নৃযজ্ঞ ও ভূতযজ্ঞ। এই পঞ্চমহাযজ্ঞের মাধ্যমে পেয়ে বসে। আমরা আমাদের পরিবেশ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি সত্তার জন্য ভাবা ও পারিপার্শ্বিকের জন্য বাস্তবে কিছু না করেই তদনুযায়ী করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান পারিনা। ইষ্টের প্রতি বাস্তব নিবেদন যতখানি যুগপুরুষোত্তম ধর্মের যে যুগোপযোগী ব্যাখ্যা আন্তরিক হবে, তাঁর প্রতি, তাঁর সৃষ্ট এই জগতের আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন সেখানে স- প্রতিটি সত্তার প্রতি টানও ততখানি আন্তরিক পারিপার্শ্বিক বাঁচাবাড়ার কথা তিনি আমাদের হবে। প্রাচীন ভারতীয় আর্য্য সমাজে ব্রহ্মচর্য বলেছেন। আমরা একা একা বাঁচতে পারি না, আশ্রমে ছাত্রেরা ভিক্ষা করে গুরুদেব বা আমাদের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠাকে সুষ্ঠু করে আচার্য্যের ভরণপোষণকরতো এবং তাঁর থেকে তোলার জন্য পরিবেশ পারিপার্শ্বিকের উপর জ্ঞান আহরণ করতো। এও এক রকম ইষ্টভরণ। আমরা নির্ভরশীল হতে বাধ্য। তাই আমাদের ইষ্ট হচ্ছেন আমাদের জীবনযজ্ঞের পুরোহিত। পরিবেশ,পারিপার্শ্বিককে রক্ষা করা, তাদের তাঁকে দান করা, তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন পোষণে পুষ্ট করা, সেবা সাহচর্য্যের স্বাভাবিকভাবেই আমাদের উপর এসে পড়ে। মাধ্যমে তাদের উন্নীত করে তোলাটাও আমাদের আমরা সুস্থভাবে সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকি যার প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। দয়ায় সেই পরম কল্যাণময়কে ভরণ পোষণ দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখা আমাদের পরম যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর প্রবর্তিত দীক্ষায় কর্তব্য। আমাদের বাঁচার উৎসকে যদি আমরা দীক্ষিত যারা তাদের ক্ষেত্রে যজন, যাজন ও ঠিক না রাখি, জীবনীয় করে না রাখি তবে ইষ্টভৃতি অবশ্য পালনীয় তিনটি বিষয়। আমাদের বাঁচাটাও স্তব্ধ হয়ে যাবে। তাই আমাদের প্রিয় মানুষগুলির সম্পর্কে ভাবা, বলা গুরুসেবা বা ইষ্টসেবার কোন বিকল্প নেই। ও করার মাধ্যমে তাদের প্রতি আমাদের টান গজায়; ঠিক তেমনি আমার প্রিয়পরম যিনি, ইষ্ট ইষ্টভৃতিকে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন সামর্থীযোগ, যিনি তাঁর জন্য ভাবা, তাঁকে নিজের জীবনে নিত্য নিবেদনের মাধ্যমে এটা আমাদের ফুটিয়ে তোলা অর্থাৎ নিজে হয়ে ওঠাকে যজনের সামর্থ্যকে বাড়িয়ে তোলে। ইষ্টভৃতিকে ক্রমাগত সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আর তাঁকে ভালবাসি বাড়ানোর চেষ্টা থাকলে তা আমাদের জীবনে বলে তাঁর কথা আমরা সকলকে বলি যাতে আনে প্রসার, কর্মকুশলতা ও অর্জনপটুতা। সবাই মঙ্গল অভিগমনে চলে, এটাই যাজন। ইষ্টভরণের নানারূপ আমাদের দেশে বহুকাল আগে থেকেই প্রচলিত।

১১৯ প্রবন্ধ গ্রামাঞ্চলে বাড়ীর গাছের প্রথম ফল বা ক্ষেতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ‘জাকাত’ এর কথা প্রথম ফসল দেবমন্দিরে বা সৎ ব্রাহ্মণকে দান বলা আছে – ইষ্টভৃতির সঙ্গে সেগুলির বাস্তবে করার প্রথা প্রচলিত আছে। গীতায় কর্মফল কোন তফাৎ আছে বলে মনে হয় না। জাকাত ত্যাগের কথা বলা হয়েছে। ইষ্টভৃতি হল বাস্তব প্রদান প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। কর্মফল ত্যাগ। আমাদের কর্মফল নিসৃত বাস্তব কোরান শরীফ বারংবার বলেছেন – “তোমরা আহরণ থেকে নিত্য ইষ্টকে নিবেদন করাই নামাজ প্রতিষ্ঠিত কর ও জাকাত প্রদান কর। এই ইষ্টভৃতি। কর্মের ফল হিসাবে আমরা যা পাই জাকাত আসলে ধর্মার্থে, জনকল্যাণার্থে দান তার অগ্রভাগ দেবতাকে, প্রিয়পরমকে দানের ছাড়া আর কিছুই নয়। হিন্দুশাস্ত্রে নিত্য মাধ্যমে তিনি আমাদের অন্তরে উদ্ভিন্ন হয়ে পঞ্চমহাযজ্ঞের বিধান তো আগে থেকেই আছে। ওঠেন। কর্মফল যদি ত্যাগ না করা হয় তবে পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবও তাঁর শিষ্যদের জীবনের উদ্বর্দ্ধন হয় না। ভোগের জন্য এই বলতেন – “এখানে যখন আসবে তখন হাতে ত্যাগটুকু করা আমাদের বিশেষ প্রয়োজন। করে একটু কিছু আনবে।” শিষ্যবর্গের মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর এক মূল্যবান শ্রুতিবাণীতে স্বতঃই এই বোধ জাগ্রত হোক এইই ছিল তাঁর জানাচ্ছেন – ইচ্ছা। গীতায় (‘কর্মযোগ’ অধ্যায়) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই ইষ্টার্থে দান সম্পর্কে যা বলেছেন “ইষ্টভরণ পিতৃপোষণ তার অর্থ করলে দাঁড়ায় – তোমাদের যজ্ঞ দ্বারা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্বর্দ্ধিত হয়ে দেবগণ তোমাদিগকে অভিলাষিত ভোগসমূহ প্রদান করবেন। তাঁদের প্রদত্ত এ না করে যা’ই করিস না বস্তুসমূহ তাঁদিগকে প্রদান না করে যে খায় সে অধঃপাতেই তোর চলন।” চোর। “ইষ্টান ভোগান হি বো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ তাই জীবনবৃদ্ধি এবং উদ্বর্দ্ধন যদি আমাদের তৈদ্দর্ত্তান প্রদায়ৈভ্যো যো ভুঙক্তে স্তেন এব সঃ” লক্ষ্য হয়ে থাকে তবে ইষ্টভৃতি তার অন্যতম সোপান। একরকম চ্যালেঞ্জ এর সুরে শ্রীশ্রীঠাকুর ।। ১২।। বলছেন – “সবচেয়ে তোর বড় ধান্ধা আগে ত্যাগ তারপরে ভোগ – “তেন তক্তেন ইষ্টভৃতি হলে ভুঞ্জিথাঃ” - আগে প্রত্যাশারহিত হয়ে দাও, তৃপ্তি দান কর, ফলস্বরূপ তুমিও তা পাবে। নিঃস্বার্থ তখন থেকেই দেখতে পাবি দান হওয়া চাই। আজকের স্বার্থসর্বস্ব দুনিয়ায় জীবন কেমন ফলে।” ইষ্টভৃতির তুল্য যজ্ঞ নেই। মানুষে মানুষে স্বাভাবিক প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে স- আবার বলছেন - পারিপার্শ্বিক বাঁচা বাড়াকে অব্যাহত রাখতে “যতই আসুক আপদ বিপদ ইষ্টভৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রীশ্রীঠাকুর প্রদত্ত যেমনই হোক প্রাণ ইষ্টভৃতি মন্ত্রের মধ্যেই এই যজ্ঞের প্রকৃত ইষ্টভৃতি আনেই আনে তাৎপর্য স্পষ্টভাবে পরস্ফুটিত হয়েছে – সবার পরত্রাণ।” ইষ্টভৃতির্ময়াদেব কৃতাপ্রীতৈ তব প্রভো ইষ্টভ্রাতৃ ভূতযজ্ঞৈস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ। তাই ইষ্টভৃতির তাৎপর্য বলে শেষ করা যায় না। ইষ্টভরণের ধান্ধায় আমাদের প্রবৃত্তিগুলি সুনিয়ন্ত্রিত হয়। গীতা, বাইবেল, কোরান সর্বত্রই এই ইষ্টভৃতির কথাই বিভিন্নভাবে বলা আছে। বাইবেলে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে যে চার্চ রেটের কথা বলা আছে,

২১০ প্রবন্ধ যার বাংলা অর্থ – হে দেব, হে প্রভো, তোমারই সেই মহাভিক্ষুককে যা’ দিতে হবে, তা’ অল্প প্রীতিপোষনার্থ আমি ইষ্টভৃতি করিলাম। ইষ্টভ্রাতৃ হলেও নিঃশেষে দেওয়া চাই। তা’র হিসেব ও জনসেবারূপ আমার এই যজ্ঞ দ্বারা রাখলে হবে না, তা’র রসিদ্‌চাইলে চ’লবে না। পারিপার্শ্বিক তৃপ্ত হউক। অর্থাৎ ইষ্টভৃতি ইষ্টকে দিনের মধ্যে আমাদের একটা কোন দান যেন নিবেদনের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিকের তৃপ্তিও এইরূপ পরিপূর্ণ দান হ’তে পারে। সে যেন সেই ইষ্টভৃতির অন্যতম লক্ষ্য। আর তাই ভ্রাতৃভোজ্য, পরিপূর্ণ স্বরূপের কাছে পরিপূর্ণ ত্যাগ হয় এবং ভূতভোজ্য ইত্যাদি সবটা নিয়েই পূর্ণাঙ্গ সংসারের মধ্যে এতটুকু ব্যাপারে কেবল তাঁ’রই ইষ্টভৃতি। এর সঙ্গে জড়িত পরিবেশের সর্বাঙ্গীণ সঙ্গে একাকী আমার প্রত্যহ একটি গোপন মঙ্গল। তাই দেশ ও জাতির পক্ষে ইষ্টভৃতি সাক্ষাতের অবকাশ ঘটে।” বিশ্বকবির মূল্যবান মহাযজ্ঞ যুগপুরুষোত্তমের দেওয়া এক অমোঘ এই কথাগুলি ইষ্টভৃতির তাৎপর্যকেই যেন তুলে বিধান। উইলিয়াম জেমস থেকে শুরু করে বহু ধরে সরলীকৃত রূপে। আর এইভাবে দার্শনিক, সমাজতাত্ত্বিকগণ ইষ্টভৃতির মত শ্রেয় শ্রেয়ভরণের মধ্য দিয়েই শ্রেয়লাভ সম্ভব হয়, উদ্দেশ্যে নিত্যদানকে সমর্থন করে গেছেন যুগ জীবন সার্থক হয়ে ওঠে। বন্দে পুরুষোত্তমম্‌। যুগ ধরে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ এ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে আমাদের জানিয়েছেন তাঁর ‘ত্যাগের Sponsor by purushottamayurved.in ফল’ নামক প্রবন্ধে। সেখানে তিনি লিখছেন – “সংসারের মাঝখান থেকে অন্ততঃ একটা CONTACT +91 7001471431 মঙ্গলের যজ্ঞ আরম্ভ করে দাও। সেই মঙ্গলযজ্ঞের জন্য তোমার ভাণ্ডারের একটা অতি ছোট দরজাও যদি খুলে রাখ তাহ’লে দেখবে, আজ যে অনভ্যাসের দ্বারে একটু টান দিতে গেলেই আর্ত্তনাদ ক’রে উঠছে, যা’র মরচে পড়া তালায় চাবি ঘুরছে না, ক্রমেই তা খোলা অতি সহজ ব্যাপারের মত হ’য়ে উঠবে – একটি শুভ উপলক্ষে ত্যাগ আরম্ভ হ’য়ে তা’ ক্রমশঃই বিস্তৃত হ’তে থাকবে। সংসারকে তো আমরা অহোরাত্র সমস্তই দিই, ভগবানকেও কিছু দাও – প্রতিদিন একবার অন্ততঃ মুষ্টিভিক্ষা দাও – সেই নিস্পৃহ ভিখারী তাঁ’র ভিক্ষাপাত্রটি হাতে হাসিমুখে প্রতিদিনই আমাদের দ্বারে আসছেন এবং প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন। তাঁ’কে যদি একমুঠো ক’রে দান করা আমরা অভ্যাস করি, তবে সেই দানই আমাদের সকলের চেয়ে বড় হ’য়ে উঠবে। ক্রমে সে আর আমাদের মুঠোয় ধ’রবে না। ক্রমে কিছুই আর হাতে রাখতে পারব না। কিন্তু তাঁকে যেটুকু দেব, সেটুকু গোপনে দিতে হবে, তা’র জন্য মানুষের কাছে এতটুকু খ্যাতি চাইলে চ’লবে না। কেননা, লোককে দেখিয়ে দেওয়া, সেটুকু একরকম ক’রে দিয়ে অন্যরকম করে হরণ করা।

২১১ প্রবন্ধ প্রকৃ ত ধর্মসাধন শ্রী রাজকু মার মান্না কালের গতিতে গতিময় আমাদের এই বসুন্ধরা। যেগুলিকে সঠিকভাবে অবলম্বন করে আমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে সময়ের তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারি বা তাঁকে উপলব্ধি ক্রমাগতি সচেতন কিংবা অচেতন ভাবে করতে পারি। এইজন্যই হয়তো শ্রীশ্রীঠাকুর বলে আমাদের সকলকে একসময় জীবনের শেষ গেছেন – “মত বহু হতে পারে এমনকি যত মুহূর্তটাতে নিয়ে আসে। এই একইভাবে মানুষ তত মত হতে পারে কিন্তু তা বলে ধর্ম বহু জীবনের অনেকগুলো দুর্গোৎসব পার করে হয় না।” শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ঠাকুরের বাণীতেও আমরা আরো একটা পুজোর সম্মুখে উপস্থিত আমরা পাই – “যত মত তত পথ।” হয়েছি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ পূজা দুর্গোৎসব। কিন্তু সম্প্রদায়গত বিভেদ ভুলে সকলের মধ্যে সংহতি মাতৃ আরাধনা কি এত সহজ কথা গা! ঠাকুর আনয়নের জন্য শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, বামাক্ষ্যাপা এনারাও তো মায়ের একটি বাণীতে বললেন - আরাধনা করতেন। কিন্তু আমাদের আরাধনা তো তাদের মতো করে হয়ে ওঠেনা! আমরা কি তবে “বুদ্ধ ঈশায় বিভেদ করিস, আরাধনার নাম করে প্রবৃত্তির খোরাক যোগাচ্ছি? শ্রীচৈতন্য রসুল কৃষ্ণে প্রতি ঘরে ঘরে তো আমাদের চলতি -ফিরতি গর্ভধারিণী মাতা রয়েছেন। তার সেবার মধ্যে জীবোদ্ধারে আবির্ভূত হন দিয়ে কি আমরা জগৎ মাতার তৃপ্তি, তুষ্টি অনুভব একই ওরা, তাও জানিস নে?” করতে পারি না? ধর্ম কিন্তু শুধুমাত্র খোল- করতাল, আমোদ-প্রমোদ নয়। ধর্ম মানে সম্প্রদায় নয়। ধর্ম হল বাঁচা বাড়ার নীতি। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে তিনি বারবার কেন বর্তমান যুগ পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আসেন? বললেন - তাঁকে বারবার আসতে হয়। তিনি বারবার “যে আচরণ, বাক্য, কর্ম এসে সময়োপযোগী যুগোপযোগী বাঁচা বাড়ার বাঁচা বাড়ার উৎস হয়, তথা ধর্মের নীতিবিধি গুলিকে আপডেট তাকেই জানিস ধর্ম বলে (update) করেন। নইলে ধর্ম কিছুই নয়।” পুরুষোত্তম নির্দেশিত জীবন বৃদ্ধির নীতি-বিধি কোথাও কোথাও আবার আমরা ধর্মের গুলিকে যে যতটা তার আচরণের মধ্যে দিয়ে সংজ্ঞার পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন ফুটিয়ে তুলতে পারে সে ততো বেশি ধার্মিক। দেখতে পাই। যেমন - মাছ-মাংস আমাদের অণু-পরমানণু, কীট-পতঙ্গ থেকে উন্নততর জীব স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। এটা আমাদের পর্যন্ত সকলকে যদি উৎকর্ষের পথে চলতে হয়, range of life কে shorten করে। সুতরাং নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয় তবে যে পথ বা এটা বাঁচা-বাড়ার নীতির বিরোধী। কিন্তু কোথাও নীতি অবলম্বনের দ্বারা তা সম্ভব তাই ধর্ম। হয়তো কোন সৈনিক যুদ্ধ করতে গিয়ে আটক শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন- হল বা বিশেষ বিশেষ শীত প্রধান অঞ্চলে “ধর্মে সবাই বাঁচে বাড়ে, যেখানে মাছ-মাংস খাওয়া ছাড়া অন্য কোন সম্প্রদায়টা ধর্ম না রে।” উপায় নেই সেখানে কিন্তু animal diet গ্রহণ হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-জৈন এই সকলই করাই ধর্ম। যদি তা না করে গোঁড়ামি করি এবং এক একটা সম্প্রদায় বা বলা যেতে পারে এক জীবন চলে যায় তা কতদূর ধর্ম হবে সেটা একটা মত বা পথ। ভাববার বিষয়। সর্বোপরি বাঁচা বাড়ার নীতি গুলিকে আলিঙ্গন করে নিষ্ঠা,ভক্তি, বিশ্বাস সহকারে ইষ্টমুখী হয়ে চলাই সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার ও প্রকৃত ধর্ম সাধন।

২১২ নিরামিষ রান্না শ্রী রমেন্দ্র নাথ কোলে ছোলার ডাল এবং সোয়াবিন দিয়ে এক অসামান্য স্বাদের রেসিপি যে কোনো পুজোর দিনে বা নিরামিষ খাবার প্ৰণালীঃ দিনে গৃহিণীরা চিন্তায় থাকেন নিরামিষ কী পদ প্রথমে একটি মিক্সারে আগে থাকে ভিজিয়ে রাখা রান্না করা যায়। আজকের এই প্রতিবেদনে হাফ কাপ ছোলার ডাল ও সিদ্ধ করে রাখা এক ছোলার ডাল এবং সোয়াবিন দিয়ে একটি কাপ সোয়াবিন বেটে নিতে হবে। এরপর একটি অসামান্য স্বাদের রেসিপি শেয়ার করা হলো যা কড়াইতে কিছুটা পরিমাণ সরষের তেল দিয়ে গরম ভাত বা রুটির সাথে খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু তাতে গোটা জিরে এবং হিং ফোড়ন দিয়ে বেটে লাগে। রাখা ছোলার ডাল এবং সোয়াবিন ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে। এখন এর মধ্যে পরিমাণ উপকরণঃ মত নুন, মিষ্টি, হলুদ গুঁড়ো এবং শুকনো লঙ্কা ১. ছোলার ডাল গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে। ২. সোয়াবিন ৩. টুকরো করে কাটা আলু এরপর মণ্ডটি ঠাণ্ডা করে নিয়ে চৌকো ৪. গোটা জিরে করে কেটে নিতে হবে। এরপর একটি ছোট্ট ৫. হিং বাটিতে এক চামচ মতো আটা পাতলা করে ৬. হলুদ গুঁড়ো গুলে নিয়ে চৌকো করে কেটে রাখা টুকরোগুলো ৭. শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো তাতে ডুবিয়ে গরম তেলে এপিঠ ওপিঠ করে ৮. ধনে গুঁড়ো লাল করে ভেজে রাখতে হবে। ৯. জিরে গুঁড়ো ১০. আদা বাটা এবার ওই ভাজা তেলের মধ্যে আরও ১১. টমেটো বাটা কিছুটা তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে ১২. কাঁচা লঙ্কা এবং তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে তার মধ্যে টুকরো ১৩. আটা করে কাটা আলু, আদা বাটা, টমেটো বাটা, ধনে ১৪. নুন গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা ১৫. চিনি গুঁড়ো সবকিছু দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিতে ১৬. তেজপাতা হবে। মশলা কষানো হয়ে গেলে কিছুটা পরিমাণ ১৭. সরষের তেল জল দিয়ে আলু সিদ্ধ করে নিতে হবে। আলু সিদ্ধ হয়ে গেলে উপর থেকে ভেজে রাখা সোয়াবিন ও ডালের টুকরোগুলো এবং কাঁচা লঙ্কা ছড়িয়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিতে হবে। এরপর গরম গরম পরিবেশন করুন রুটি, লুচি,পরোটা ও ভাতেরসাথে।

২১৩ আবেগ (Emotion)কি? আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার উপায় কি? আবেগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল ও অপরাধ হ্রাস শ্রী রমেন্দ্র না থ কোলে আবেগ-কে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। আবেগকে ১. দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দেওয়া অনেকে অনুভূতির সমার্থক ধরে নেয়। যদিও কোনো কিছু নিয়ে তাৎক্ষণিক হৈ-হুল্লোড় করা অনুভূতি শারিরীক/মানসিক দুইই হতে পারে, উচিত নয়। কোনো পরিস্থিতিকে আবেগ দিয়ে আবেগ মূলতঃ মানসিক। এটা এমন একটি বিবেচনা না করে যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করুন। মানসিক অবস্থা যা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই উদ্ভূত হয়; সচেতন উদ্যম থেকে নয়। এর সাথে মাঝে ২. সঠিক সমাধান মাঝে শারিরীক পরিবর্তনও প্রকাশ পায়। যে বিষয়গুলো আপনাকে আবেগপ্রবণ করে, সেক্ষেত্রে আবেগকে বলা যায় অনুভূতির উৎস। সেগুলো মন থেকে মুছে ফেলতে হবে। আবার শারীরিক ভাবে বলতে গেলে মসৃণ পেশী প্রয়োজনে অন্য কিছুর প্রতি মনোযোগী হোন। এবং বিভিন্ন গ্রন্থির কারণে শরীরের অন্তর্নিহিত যদি কারো মাধ্যমে মনঃক্ষুণ্ণ হোন, তাহলে ওই পরিবর্তনই হল আবেগ৷ সামগ্রিকভাবে, চেতনার ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমাধান করুন। যে অংশ অনুভূতি বা সংবেদনশীলতার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তাকে আবেগ বলা যায়। ৩. সচেতনতা বাড়ান আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন সচেতনতা। আবেগ(Emotion) শব্দটি এসেছে ল্যাটিন কোন্ কোন্ পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে শব্দ Emovere থেকে। Morgan & King রাখতে পারছেন না, সেগুলো খেয়াল করুন। এর মতে আবেগ এর ৫ টি উপাদান থাকা রাগ, ক্ষোভ, হতাশা, অস্থিরতা ইত্যাদি দরকার। সেই উপাদানগুলো হচ্ছেঃ নেতিবাচক বিষয়ের কারণ চিহ্নিত করতে পারলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। ১। আবেগের মানসিক বা আত্মনিষ্ঠ অনুভূতি। ২। শারীরিক উত্তেজনা। ৪. চিন্তা পরিবর্ত ন করুন ৩। শরীরবৃত্তীয় ভিত্তি। যে সব বিষয় নিয়ে ভাবলে আপনি আবেগাপ্লুত ৪। মৌখিক, ভাষাগত এবং অঙ্গ হয়ে পড়েন, সেসব বিষয় মনে পড়লে চিন্তা পরিবর্তন করুন। সে সময় ভালো কোনো স্মৃতির সঞ্চালনমূলক বহিঃপ্রকাশ। কথা মনে করুন। চিন্তাধারা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ৫। সংশ্লিষ্ট প্রেষণামূলক অবস্থা। করলে কম আবেগাপ্লুত হবেন। আবেগ এক ধরনের অনুভূতি। এর মধ্যে ৫. ইতিবাচক হওয়া ভালোবাসা, ঘৃণা, সুখ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা, রাগ, ইতিবাচক হোন। জীবনের ইতিবাচক বিষয়গুলো বিশ্বাস, ভয় ইত্যাদি রয়েছে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভাবুন। যোগব্যায়াম করুন, নিজেকে সময় করতে না পারলে অনেক কিছুই হারাবেন। তাই দিন, অন্যকে সাহায্য করুন। এভাবে কাজ আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা প্রয়োজন। করলে আবেগ থাকবে হাতের মুঠোয়। আবেগ নিয়ন্ত্রণের কিছু কৌশল জানিয়েছেন অনেক মনোবিজ্ঞানীরা।

২১৪ আবার ভয় পেয়ে সাধ্যের অতিরিক্ত কোন কাজের ঝুঁকি না নেওয়া ভাল। এতে অনেক ব্যক্তির উত্তেজিত, আলোড়িত ও বিক্ষুব্ধ বিপদ থেকে বাঁচা যায়। আবার সমাজের ভয়, অবস্থাই হলো আবেগ। যদিও মনে করা হয়, মান-সম্মানের ভয়, মৃত্যুর ভয় ইত্যাদি ব্যক্তিকে মানুষ যুক্তি দ্বারা পরিচালিত, কিন্তু বাস্তবে দেখা অন্যায় ও অসামাজিক কাজ থেকে রক্ষা করে। যায়, মানুষের জীবনে যুক্তির চেয়ে আবেগের তাই আবেগের ভাল ও মন্দ - দুটো দিকই ভূমিকাই প্রধান। পৃথিবীর ভাল-মন্দ সব কাজের আছে। মিলেমিশে বাঁচতে হলে মানুষের ভাল পিছনে একমাত্র নিয়ন্ত্রক হলো আবেগ। এই আবেগকে উৎসাহিত করা দরকার। তেমনি মন্দ আবেগের কারণেই শাহজাহান তাজমহল আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পৃথিবীর বহু বানিয়েছিলেন, অষ্টম এডওয়ার্ড ও গৌতম বুদ্ধ সমস্যার সমাধান করা ও অপরাধ হ্রাস করা সিংহাসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। মায়ের ভালবাসার সম্ভব। কিভাবে? আসুন জানি। কারণে মানুষ বেঁচে থাকে, বীরেরা দেশপ্রেমের কারণে জীবন দেয়। মাদার টেরেসা, বিজ্ঞানীরা আবেগ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু দিনরাত পরিশ্রম করেন মানুষের প্রতি আবেগের প্রকাশ শিক্ষালব্ধ। মানুষ অপরাধী ভালবাসার কারণে। এই আবেগের (স্নেহ, হয়ে জন্মায় না। সে তার আবেগের প্রকাশকে মমতা, সহমর্মিতা, দয়া, ভালবাসা ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বলেই অপরাধ করে। কারণে আমরা মিলেমিশে বাস করি। আবেগের পৃথিবীর সব বড় বড় মনীষী, রাষ্ট্রনায়ক, বৈচিত্র্যের (আনন্দ, দুঃখ, ভয়, উত্তেজনা মহাপুরুষদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা ইত্যাদি) কারণে আমাদের জীবন উপভোগ্য যায়, তাঁদের চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের মূলে রয়েছে হয়। আবার এই আবেগের কারণেই (রাগ, আত্মশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। অর্থাৎ তাঁদের হিংসা, ঘৃণা, প্রতিশোধ-স্পৃহা, লোভ ইত্যাদি) প্রত্যেকের আবেগের প্রকাশ ছিল সুচিন্তিত ও যুদ্ধ, খুন, হানাহানি, ধ্বংস, রেপ সহ নানা মার্জিত। অপরাধ, পারিবারিক কলহ, নানা বিশৃঙ্খলা হয়। তীব্র আবেগের কারণে ব্যক্তি তার বিচার- আবেগ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলেও বিবেচনা, বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে আবেগের প্রকাশ যেহেতু শিক্ষালব্ধ, তাই পারেনা, নিজের উপর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ হারায়। আবেগের প্রকাশ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক ফলে অন্ধ মাতৃস্নেহ সন্তানের দোষ দেখে না, রকম হয়। কেউ সামান্যতে রেগে হুলস্থুল বাধায়, ভালবাসায় অন্ধ ব্যক্তি প্রেমিক বা প্রেমিকার কেউ রাগের পর্যাপ্ত কারণ থাকার পরেও থাকে প্রতারণার সম্ভাবনাকে আমলে নেয় না বলে নির্বিকার, শান্ত, স্বাভাবিক। কেউ সামান্য জ্বরে প্রতারিত হয়ে কষ্ট পায়, রাগে অন্ধ ব্যক্তি ভীত হয়, কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও অপরাধ করে বা নিজের চেয়ে বেশী সবল উপন্যাস লেখে। কেউ তেলাপোকা দেখে ভয়ে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে বিপদে পড়ে। আধমরা হয়, কেউ বিষধর সাপ ধরে। এই তীব্র আবেগে রক্তচাপ, নাড়ীর স্পন্দন, পার্থ্যক্যের কারণ আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলের হৃদস্পন্দন বাড়ে, পাকস্থালীর কাজ বন্ধ হয়ে ভিন্নতা। আমাদেরকে ছোটবেলা থেকে নিজের যায়, এমনকি মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। আবেগকে কি করে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কিভাবে আবেগের ফলে মানসিক অস্থিরতা থেকে দ্বন্দ্ব, নিজের আবেগ প্রকাশ ও উপভোগ করতে হয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, হতাশা ইত্যাদির কারণে সে বিষয়ে বড়রা নির্দেশনা দেন না বা আবেগের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, মনোসংযোগ যথাযথ প্রকাশের তেমন সুযোগ করে দেন না। ব্যাহত হয়। একই আবেগ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ফলে অধিকাংশ সময় আমাদের আবেগের কখনও খারাপ, কখনও ভাল ভূমিকা রাখে। প্রকাশ হয় স্বেচ্ছাচারী, অমার্জিত ও হানিকর। যেমন - ভয় মানুষের কাজের উদ্যমকে হ্রাস তাই ছোটবেলা থেকে মানুষের আবেগকে করে। ফলে মানুষ অনেক কিছু করা থেকে বিরত নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কিছু করণীয় আছে। থাকে, অনেক ক্ষতি হয়। এটি খারাপ।

২১৫ ৩। আত্মবিশ্বাসের অভাব, প্রতিকূ ল পারিবারিক- সামাজিক-আর্থিক-প্রাকৃ তিক পরিবেশ, স্নেহ- আবেগ নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশলসমূহ হলো ভালবাসা-নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি শিশু- ১। শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক। তার মনে যুক্তির চেয়ে কিশোরদের মনে ভয় সৃষ্টি করে। আবেগের প্রভাব বেশী থাকে। তাই তার যা ভাল লাগে, তাই পেতে চায়, তাই করতে চায়। ফলে শিশু-কিশোররা অনেক সময় ভয়, লজ্জা, শিশুকে তার কাজে বাধা দিলে, বকা দিলে, নিন্দা ও সমালোচনার ভয়ে আবেগকে প্রকাশ না খেলনা কেড়ে নিলে, বা শিশু যা করতে বা পেতে করে জোর করে দমিয়ে রাখে। আবেগকে জোর চায় তা না দিলে সে আবেগের মাত্রাতিরিক্ত করে দমিয়ে রাখা অনুচিত। এতে যেকোন প্রকাশ ঘটায় (চিৎকার করে কাঁদা, গড়াগড়ি ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে দেওয়া, হাত পা ছোড়া, আঘাত করা ইত্যাদি)। পারে। তাই বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিয়ে, প্রয়োজনে সহযোগিতা করে তাদের মনে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন,চার বছর বয়স পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস জাগাতে হবে। তাদের সাথে বাবা শিশুর আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। শিশুর মাকে বন্ধুসুলভ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ আবেগের প্রকাশ হতে দিতে হবে। করতে হবে যাতে সন্তানরা তাদের কোন আবেগ (ভয়, দুঃখ, কষ্ট, লজ্জা ইত্যাদি) বা সমস্যা তারপর ধীরে ধীরে শিশুকে তার আবেগের গোপন না করে। প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণ শেখাতে হবে। ৭/৮ বছর বয়স থেকে শিশু তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। সন্তানদের সাথে কিভাবে বন্ধুসুলভ ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে তার সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করা যায়, সে বিষয়ে আবেগিক বিকাশ যাতে স্বাভাবিক গতিতে অনেক বাবা মায়েরই পরিষ্কার ধারণা নেই। চলতে পারে, সেদিকে পিতামাতা ও শিক্ষকের সন্তানের সাথে খেলা, (খেলার সুযোগ করে লক্ষ্য রাখা দরকার। কারণ শিশুর আবেগের সুষ্ঠু দেওয়া, খেলতে মাঠে নিয়ে যাওয়া, অন্য বিকাশের সাথে তার সামাজিক, নৈতিক, ধর্মীয় শিশুদের সাথে খেলতে উৎসাহিত করা, বিকাশ সম্পর্কিত। সাইকেল চালানো বা সাঁতার শেখানো, বাড়ীতে শিশুদের খেলার জন্য একটি জায়গার ব্যবস্থা ২। পিতামাতা ও শিক্ষকের উচিত, শিশুর করা ইত্যাদি), একসাথে সময় কাটানো-খাওয়া- যৌক্তিক দাবী পূরণ করা ও অযৌক্তিক দাবী কেন টিভি দেখা-বেড়াতে যাওয়া, দোষ করলে পূরণ করা সম্ভব নয়, তা বুঝিয়ে বলা। শিশুকে বুঝিয়ে দিয়ে শাসন করা (অতিরিক্ত শাসন করা যাবেনা। তাতে শিশু আপনাকে ভয় শিশুকে তার নিজের ও তার পরিবারের ও ঘৃণা করবে, অনেক কিছু গোপন করবে, ক্ষমতা-অক্ষমতা সম্বন্ধে অবহিত করা উচিত। আপনাকে এড়িয়ে চলবে), শিশু কোথায় যাচ্ছে, তাহলে সে অযৌক্তিক দাবী করবে না, নিজের কার সাথে মিশছে, কি করছে, এগুলো মন দিয়ে ক্ষমতার অতিরিক্ত কিছু করতে চাইবে না। শুনুন, খোঁজ রাখুন, কোন সমস্যায় পড়লে এভাবে শিশুকে তার পারিবারিক, সামাজিক, সাহায্য করুন, শুধু দোষারোপ করবেন না। আর্থিক ও অবস্থাগত পরিস্থিতির সাথে শিশুর সাফল্যে আনন্দিত হোন, পুরস্কার দিন। সঙ্গতিবিধান করতে শেখানো জরুরী। ব্যর্থতায় তাকে উৎসাহ দিন, সাহায্য করুন। পারিবারিক নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় শিশুর মত নিন। এভাবে ধীরে ধীরে শিশুর সাথে আপনার আন্তরিকতা তৈরী হবে।

২১৬ ৫। আবেগের প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণে পরিবার ও শিক্ষকের ভূ মিকা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বাবা মায়ের উচিত শত ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুদের সাহচর্যে আনন্দ উপভোগ করতে বা সন্তানদের সময় দেওয়া, মাঝে মাঝে তাদের কৌতুহল মেটাতে গিয়ে শিশু-কিশোররা প্রায়ই সারপ্রাইজ দেওয়া, সাধ্যমত সন্তানকে উপহার নানা অপরাধে জড়ায়। কখনও কখনও তাদের কিনে দেওয়া, পরিবার নিয়ে কাছাকাছি কোথাও কোন চাহিদা অপূর্ণ থাকলে তারা অনৈতিক কাজ খেতে যাওয়া, আত্মীয় বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা করে। তাই এসব বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষকের দেওয়া, অসুস্থ রিলেটিভদের দেখতে যাওয়া, সতর্ক থাকা জরুরী। বাড়ীতে ও বিদ্যালয়ে ছুটিতে আত্মীয়দের বাড়ী বা দেশের বাড়ী শিশুদের শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি। কোনমতেই সন্তানদের সাহিত্য চর্চা, সঙ্গীত চর্চা, অঙ্কন, খেলাধূলা, বিশেষ দিনগুলো ভুলে যাওয়া বা ব্যস্ততার আবৃত্তি, অভিনয়, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কারণে বিশেষ দিনগুলোতে সন্তানের সাথে না প্রতিযোগিতা ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাওয়া উচিত নয়। এতে সন্তান আপনার কাছে এসবে অংশ নিলে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বাজে অনুভূতি তৈরী হয়। ও আবেগমূলক চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটে। মাঝে মাঝে সন্তানকে অপ্রত্যাশিত কোন উপহার সহশিক্ষামূলক কাজে অংশ নিতে দিলে শিশুর দিন, বেড়াতে নিয়ে যান। তাহলে সন্তানের আত্মশ্রদ্ধা তৈরী হয়। ইতিবাচক আবেগের বিকাশ হবে এবং সন্তান বুঝবে আপনি তার আচরণে খুশী। ৬। আবেগের প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পরিবার, আত্মীয়, সমাজ, শিক্ষক, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক ৪। আবেগের অভিজ্ঞতা দুরকম – সুখকর পরিবেশ (প্রতিপক্ষকে নানাভাবে নির্যাতন করা অভিজ্ঞতা (আনন্দ, ভালবাসা, মমতা, উল্লাস, বা সহাবস্থান ), দেশের আইনগত অবস্থা কৌতুহল, সৌন্দর্যবোধ, সৃজনস্পৃহা ইত্যাদি) (বিচারহীনতা, প্রকাশ্য নানা অপরাধ ও অনিয়ম এবং দুঃখজনক অভিজ্ঞতা (দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, ঘটা বা না ঘটা) ইত্যাদির ভূমিকা রয়েছে। হতাশা, দুশ্চিন্তা, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি)। আমরা মনে শিশুরা বড়দের আবেগের প্রকাশ অনুকরণ করি, জীবনে শুধু সুখকর অভিজ্ঞতাই জরুরী। করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আবেগের কিন্তু জীবনে দুঃখজনক অভিজ্ঞতা বা কষ্ট প্রকাশ মার্জিত না হলে শিশুর আবেগের প্রকাশ পাওয়াও সমান জরুরী। কারণ ব্যর্থতা, দুঃখ, ত্রুটিপূর্ণ হয়। বাবা মাকে কথায় কথায় গালি প্রত্যাখ্যান, হতাশা - এগুলোও জীবনের দিলে, মারলে, শিক্ষক আক্রমণাত্মক হলে, বন্ধু অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। অনেকে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বা প্রতিশোধপ্রবণ হলে শিশুরাও তেমনই হয়। তাই তীব্র কষ্ট পেয়ে আত্মহত্যা করে বা নেশাগ্রস্ত হয় শিশুদের সামনে অন্যদের, বিশেষ করে বড়দের জীবনের অর্থ খুঁজে পায় না বলে। তাই শিশুকে এরকম আচরণ করা অনুচিত। ছোটবেলা থেকে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শেখাতে হবে, জীবনে নেতিবাচক কিছু ঘটলেই জীবনের অর্থ শেষ হয়ে যায় না। সব প্রতিকূ লতাকে পরাজিত করে এগিয়ে চলার নামই জীবন। শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের প্রতি (বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু -বান্ধব ইত্যাদি) দায়িত্ব পালনও জীবনের ধর্ম।

২১৭ ৮। যেকোন সমালোচনাকে সহজভাবে গ্রহণ ও সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করাতে হবে। তাহলে শিশুর আবেগের সুষ্ঠু বিকাশে গণমাধ্যম ও শিশুর মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা তৈরী হবে না। পাঠ্যক্রমের ভূমিকাও ব্যাপক। \"বখাটে ছেলের ভীড়ে ললনাদের রেহাই নাই, ৯। শিশুকে নিজের ক্ষমতা-অক্ষমতা সম্বন্ধে মেলায় যাইরে\"- এধরণের গান নারী নির্যাতনকে সচেতন থাকতে এবং অপরকে তার ক্ষমতা ও উস্কে দেয়, মানুষের মধ্যে ধর্ষকাম প্রবৃত্তি যোগ্যতা অনুযায়ী মর্যাদা দিতে শেখাতে হবে। (অন্যকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ লাভ) জাগায়। ফলে তাহলে নিজের অক্ষমতা নিয়ে শিশু মনে হতাশা, যৌন নিপীড়ন, রেপ, এসিড সন্ত্রাস, খুন, হীনমন্যতা তৈরী হবে না, নিজের যা কিছু আছে, ইভটিজিংসহ নারীর প্রতি নানা সহিংসতা ঘটে। তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শিখবে। অন্যের প্রতি রাস্তায় মেয়েদের উত্যক্ত করা, নারীরা শত ঈর্ষাও অনুভূত হবে না। নির্যাতন, অবহেলা সব সহ্য করবে - সিনেমা- নাটকে-সাহিত্যে এমন দর্শনের উপস্থিতি নারীর ১০। শিশুকে নিজের ক্ষমতা ও যোগ্যতার প্রতি পুরুষদের হীন মানসিকতা তৈরী করে প্রেক্ষিতে তার আকাঙ্খার স্তর নির্ণয় করতে দেয়। যেকোন পরিস্থিতি মেনে নিয়ে জীবনে দিতে হবে। তাহলে সে ব্যর্থ বা হতাশ হবে না। প্রতিষ্ঠিত হবার মানুষের চেষ্টাকে দেবদাসের মত বেশীরভাগ বাবা-মা ছেলেমেয়ের সাধ্যের নেতিবাচক চরিত্রগুলো নষ্ট করে দিয়ে অতিরিক্ত ফল আশা করেন, ব্যর্থ হলে গালি বিপথগামী হতে উৎসাহিত করে। খবরে দেন। ফলে সন্তান কষ্ট পায়, কেউ কেউ পরীক্ষার প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ফল খারাপ করে আত্মহত্যা করে। নারী নির্যাতন ঘটা ও সেসবের প্রতিকার না হওয়ার খবর পড়ে ও শুনে এগুলোকে মানুষ ১১। প্রত্যেক মানুষের সীমাবদ্ধতা আছে - এই স্বাভাবিক ঘটনা মনে করে। ফলে পরোক্ষভাবে সহজ সত্যকে স্বীকার করে সফলতা, বিফলতা অনাচার মেনে নেবার মানসিকতা তৈরী হয়। বা জয়-পরাজয়কে সহজভাবে গ্রহণ করতে শেখাতে হবে। যেকোন ব্যর্থতা বা পরাজয়ের \"বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান, কারণ থাকে। সেটি উপলব্ধি করে পরবর্তীতে তা শিবঠাকুরের বিয়ে হল তিন কন্যা দান। এক কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করতে উৎসাহ দিতে হবে ও সাহায্য করতে হবে। কন্যা রাঁধে বাড়ে...\"- এধরনের কবিতা বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সম্পর্কে ১২। ভুলত্রুটি কেউ ধরিয়ে দিলে সেগুলি বিদ্বেষ ছড়ায়। \"বাক বাকুম পায়রা, মাথায় দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। বাবা মাকেও টায়রা বউ সাজবে...\", \"খোকা যাবে সন্তানের ভুল, দূর্বলতা বা দোষকে উপেক্ষা না শ্বশুরবাড়ি... \" - এসব কবিতা ছোট ছোট করে মেনে নিয়ে সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা শিশুদের মাথায় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার বা কিছু করতে হবে। করার চিন্তার পরিবর্তে বিয়ের চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়। এসব বিষয় পরিহার করা দরকার। ১৩। ব্যর্থতা, হতাশা, নৈরাজ্য, নির্যাতন, প্রত্যাখ্যান প্রভৃতিকে জয় করার চেষ্টা করতে ৭। সত্য-সুন্দর-মহৎ কাজের প্রতি হবে। যেকোন পরিস্থিতিতে মনোবল অটুট রাখা শেখাতে হবে। তাহলে নিরাশ হয়ে আত্মহত্যা বা আকর্ষণবোধ, অসত্য-অন্যায়-অসামাজিক নেতিবাচক কিছু করবে না। কাজের প্রতি ঘৃণাবোধ, প্রতিবেশী, গরীব আত্মীয় ও সাধারণ মানুষের প্রতি মমতা- সহানুভূতি-সহমর্মিতাবোধ ইত্যাদির চর্চা নিজেরা যথার্থভাবে করে তা শিশুদের শেখাতে হবে।

২১৮ আবেগের সুষ্ঠু বিকাশ ও প্রকাশের মাধ্যমেই শিশুর স্বভাব-চরিত্র, ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। ১৪। ছোটবেলা থেকে পরিবর্তিত সামাজিক- আবেগিক সমতা ব্যক্তির গঠনমূলক ব্যক্তিত্ব পারিবারিক পরিবেশ, কর্ম ও শিক্ষাক্ষেত্র, অন্য সৃষ্টিতে সহায়তা করে, ব্যক্তির জীবনে শান্তি, যে কোন অবস্থা ও পরিবেশের সাথে সঙ্গতি শৃংখলা, সুস্থিতি বজায় রাখে। তাই এ বিষয়ে বিধান করে চলার অভ্যাস গঠন করে দিতে সকলের, বিশেষ করে বাবা মার সজাগ থাকা হবে। তাহলে শিশুর সহ্যশক্তি বাড়বে। জরুরী। ১৫। আনন্দ, কৌতুহল, বিস্ময়, শিহরণ ইত্যাদি Strong emotions are invitations to আবেগ সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে। এগুলো explore internally, not excuses to নতুন জ্ঞান আহরণে শিশুদের আগ্রহী করে। misbehave externally. এসব আবেগ মানুষের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে মানব সভ্যতাকে উন্নত করেছে। You may not always be able to choose your emotions but you can ১৬। আমরা শিশুদের শুধু পড়তে বলি, খেলতে choose how you respond & express দিই না। কিন্তু খেলাও জরুরী। হারলে কেমন them. লাগে, জিতলে আনন্দের উপলব্ধিটা কেমন ইত্যাদির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয় খেলার মাধ্যমে। তথ্য - ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। খেলাধূলা করলে শিশু-কিশোররা ব্যস্ত থাকে। ফলে খারাপ কোন কাজে লিপ্ত হবার সুযোগ Sponsor by purushottamayurved.in পায় না। শরীর-মন ভাল থাকে, বিনোদন পায়, ভাল লাগে, শিশুর সামাজিক বিকাশ হয়, খেলায় পারদর্শিতা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ফলে কোন হতাশা বা ব্যর্থতায় শিশু ভেঙ্গে পড়ে না। সন্তান দোষ করলেও অনেক বাবা মা অন্য বাচ্চাকে দোষ দেয়। এতে শিশু প্রশ্রয় পায়, তার মধ্যে অসহিষ্ণুতা জন্ম নেয়, আক্রমণাত্মক মনোভাব গড়ে ওঠে। এটি অনুচিত। ১৭। তিরস্কার, উপহাস বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা CONTACT +91 7001471431 দ্বারা শিশুর অসংযত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই শিশুকে বুঝিয়ে আবেগকে সংযত করতে শেখাতে হবে। ১৮। শিশুদেরকে নিজের কাজ নিজে নিজে করার স্বাধীনতা ও দায়িত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে দিতে হবে। এতে শিশুরা আত্মনির্ভরশীল হয়। ফলে ভয়, দ্বন্দ্ব, সংকোচ, দ্বিধা এসব নেতিবাচক আবেগ দূর হয়।

২১৯ মোহিনীবিদ্যা শ্রী সুদীপ চক্রবর্তী ম্যাজিক, জাদু, ইন্দ্রজাল ইত্যাদি বিষয়ের উপর টানটান উত্তেজনায় পাশে বসা দিদির দিকে আমাদের অনেকেরই বেশ আগ্রহ থাকে, বাঙালি তাকিয়ে ছিলাম, কি করে সম্ভব হচ্ছে...! দিদি হলে তো কথাই নেই! ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ করার ইঙ্গিত করলেন এবং শুধু দেখে যেতে ইশারা করলেন। যাদু বিদ্যায় প্রখ্যাত জাদুকর পিসি সরকার ও তার উত্তরসূরী এবং অন্যান্য অনেক বাঙালি আরো বিস্ময় অপেক্ষা করছিল.. এরপর জাদুকর ভারতবর্ষে তথা বিশ্বে বিশেষ খ্যাতি জাদুকর \"ওয়াটার অফ ইন্ডিয়া\" এই কথা বলার লাভ করেছেন তাদের অসাধারণ যাদুবিদ্যার সঙ্গে-সঙ্গে কোয়ার্টার লিটার পাত্রের জল হাফ কারণে। লিটার পাত্রে ঢাললেন এবং তা পূর্ণ হয়ে উঠলো..! এরপর, হাফ লিটার পাত্রের জল এক ছোটবেলায় শ্রদ্ধেয় জাদুকর পিসি সরকার লিটার পাত্রে ঢাললেন, তাও পূর্ণ হয়ে উঠলো! মহাশয়ের যাদুবিদ্যা দেখার বা যাদু প্রদর্শনী এবং পরপর সেই কোয়ার্টার লিটার পাত্রের জল দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বেশ মনে ৫ লিটার পাত্রের আধারকেও পরিপূর্ণ করে আছে, বাবার সঙ্গে আমরা তিন ভাই ও দিদির তুলল! এরপর আবার উচ্চস্বরে বললেন সঙ্গে এই ম্যাজিক শো দেখতে গিয়েছিলাম। \"ওয়াটার অফ ইন্ডিয়া\"। অসম্ভব ভিড় হয়েছিল... প্যান্ডেলের বাইরেও অনেক মানুষ সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল! জানিনা পরের বিস্ময়...তিনি একজন সহকারীকে বাবা কিভাবে টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন! ডেকে পাঁচ লিটার জলের পাত্রটি নিয়ে যেতে যাইহোক, সেই জাদু প্রদর্শনী দেখা আমার কাছে বললেন, কিন্তু সহকারি মহাশয় জলের পাত্রটি ছিল এক পরম সৌভাগ্যের এবং বিস্ময়ের দর্শক আসনের দিকে জল ছিটিয়ে দেবার মত ব্যাপার যা আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছ। করে, পাত্র থেকে জল ছিটিয়ে দেবার অভিনয় করলেন....! কিন্তু দর্শক আসনে একটুও জল সেই কোন ছোটবেলায় দেখা কয়েকটি পড়লো না!! পাত্রে জলই ছিল না, সব ভ্যানিশ ম্যাজিক, এই পরিণত বয়সে এখনো আমার হয়ে গিয়েছিল! কাছে বেশ বিস্ময়ের ব্যাপার! এরপরের আরেকটি ম্যাজিক এমন ছিল... তার মধ্যে একটি,... এমনিতে খুব সাধারণ যা হল, একটি মানুষকে বাক্সবন্দী করে দর্শক ম্যাজিক মনে হলেও আমার কাছে ছিল বেশ আসন থেকে কয়েকজন লোককে ডেকে এনে বিস্ময়কর ব্যাপার। যা ছিল... স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি চারিদিক থেকে শিকল দিয়ে বাক্সটিকে তালা সাতটি জলের পাত্র, ... ৫ লিটার থেকে শুরু বন্ধ করা হলো, তারপর বাক্সটিকে এক জায়গা করেকোয়ার্টার লিটারের অধার পর্যন্ত, অর্থাৎ... থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হল। পাঁচ, চার, তিন, দুই,এক, হাফ, কোয়ার্টার এরপর বাক্সের ভিতর মানুষটির উদ্দেশ্যে কিছু লিটার। অসাধারণ এক মিউজিক সহযোগে প্রশ্ন করা হলো এবং উত্তরও পাওয়া গেল। কিছু ম্যাজিক শুরু হলো... প্রথমে পাঁচ লিটার সময় পর, বাক্সটি খোলা হল... কিন্তু বাক্সের আধারকে জলে পূর্ণ করলেন, তারপরে সেই পাঁচ ভিতরে কাউকে পাওয়া গেল না...! তারপর লিটার জলকে ৪ লিটারের পাত্রে ঢাললেন, বাক্সটিকে আবার শিকল দিয়ে চারিদিক থেকে তারপর ৩ লিটার, তারপর ২ লিটার এবং তালা বন্ধ করা হলো এবং আবার কিছু প্রশ্ন করা সবশেষে কোয়ার্টার লিটার পাত্রে ঢাললেন! কিন্তু হলো এবং উত্তর মিলল! শেষে বাক্সটি সবার কোন পাত্র থেকেই জল উপচে পড়লো না! সামনে খোলা হলো, এবং মানুষটি হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলেন!

৩১০ ম্যাজিকের একদম শেষ দিকে ম্যাজিশিয়ান সম্পূর্ণ যেন অন্য মানুষ হয়ে দর্শক আসনের এতক্ষণ আমি আমার ম্যাজিক দেখার কিছু দিকে তাকিয়ে জানালেন... এবার আমি যেটা অভিজ্ঞতার কথা জানালাম। আপনাদের জানাতে বা দেখাতে চলেছি তাকে এবার আসল কথায় আসি, যা আমার কাছে শুধু ম্যাজিক বলবেন না অন্য কিছু, তা আপনাদের বিস্ময়কর নয় অভূতপূর্ব বলে এখনো মনে হয়! ব্যাপার। আপনারা সকলে একদম শান্ত হয়ে একে ম্যাজিক বলবো না অন্য কিছু, তা আমি বসুন...। আপনাদের বিবেচনার উপর অর্পণ করলাম। আপনাদের মধ্যে থেকে দশজন আমাকে তবে আমি এইটুকু শুধু জানাতে চাই যে পরবর্তী যেকোনো ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন, অবশ্যই জীবনে আমি যত ম্যাজিক শো দেখেছি তা' তা রুচি বিরুদ্ধ বা অন্যায়.... প্রশ্ন যেন না হয়। আগের দেখা সেই ঘটনার তুলনায় কিছুই বিস্ময়কর ভাবে এরপরে বললেন.... প্রশ্ন নয়....! আমাকে মুখে বলতে হবে না, প্রশ্ন আপনারা মনে মনে করবেন, আমি তার যথাযথ উত্তর ট্রেনিং শেষে আমার প্রথম ট্রান্সফার দেবার চেষ্টা করব। কোয়েম্বাটুরে এসেছি। বড় সুন্দর পরিবেশ, বেশ ভালো লেগে গেল, স্টাফের সংখ্যাও কম, আপনাদের পাঁচ মিনিট সময় দেও য়া হলো। কিছুদিনের মধ্যে সকলের সঙ্গেই বেশ একটা নিজেদের মধ্যে থেকে দশজন আপনারা বেছে বন্ধুত্বপূর্ণ হৃদ্যতা গড়ে উঠলো। সকলেই ভীষণ নিন। এরপর বিনয়ের সঙ্গে আবার জানালেন কো-অপারেটিভ। আমার নেভীর সার্ভিস জীবনে আপনারা ডিসিপ্লিন ফোর্স এর সদস্য.... তবুও এই ট্রান্সফারের অভিজ্ঞতা ছিল অনবদ্য। সবিনয়ে জানাই কোন রকম সাইড টক বা আওয়াজ যেন একদম না হয়। প্রশ্নকারীরা মনে \"Magic\" দেখার অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে এবার মনে প্রশ্ন করে হাত তুলবেন আমি উত্তর আসল কথায় আসি। আমি তখন কোয়েম্বাটুরে, জানাবো.... সময়টা ১৯৭৮ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে, আমি সবে ছুটি কাটিয়ে ডিউটি স্টেশনে স্বাভাবিকভাবেই আমন্ত্রিত কিছু বিশিষ্টজন রিপোর্ট করেছি। একদিন শুনলাম \"Navy day\" এবং সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে থেকেই প্রশ্ন উপলক্ষে বিশিষ্ট আমন্ত্রিতদের মধ্যে একজন করা হয়েছিল। সব প্রশ্ন আমার মনে নেই, বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান আছেন, তার ম্যাজিক \"বিশেষ\" যেগুলি এখনও স্মরণে আছে সেগুলি প্রদর্শন চিরাচরিত 'ম্যাজিক শো' থেকে একটু জানানোর চেষ্টা করছি.... অন্য ধরনের এবং অভূতপূর্ব! একজন সিনিয়র অফিসার দাঁড়িয়ে হাত আমরা প্রায় সকলেই আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা তুললেন, ম্যাজিশিয়ান তাঁকে আশ্বস্ত করে বসতে করছিলাম এই ম্যাজিক শো দেখার জন্য। নির্দিষ্ট বললেন, তারপর বলতে শুরু করলেন...আপনি দিনে অন্যান্য প্রোগ্রামের একদম শেষ দিকে, আপনার নেক্সট ট্রান্সফার এবং প্রমোশন সম্বন্ধে ম্যাজিক শুরু হলো সন্ধ্যার পরে। প্রথমে সাধারণ জানতে চাইছেন। তারপরে উত্তরে তিনি সময় ও কিছু ম্যাজিক দেখানোর পর, অসাধারণ কিছু কোন সময়ে ট্রান্সফার এবং প্রমোশন হবে নতুন ধরনের ম্যাজিকও দেখলাম.. যেমন, বললেন। সঙ্গে আরো একদম শূন্য থেকে উপরে হাত তুলে ফল, ফুল, জানিয়েছিলেন....অফিসার, আপনি বর্তমানে পায়রা, ইত্যাদি সব নিয়ে আসছেন! এই কাজের দায়িত্বে আছেন, যা আপনি জানাননি তবুও বললাম এবং আপনার ট্রান্সফার সেদিনকার ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ দিতে যেখানে হবে সেখানে আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন দায়িত্ব গেলে অনেক সময় নেবে। আমি সংক্ষেপে মূল পাবেন। বিস্ময়ের আরো বাকি ছিল ... ঘটনা জানানোর চেষ্টা করছি...। সেদিনের প্রদর্শনীতে আমরা যারা দর্শক ছিলাম তাদের মধ্যে স্থানীয় কিছু বিশিষ্ট/বিজ্ঞ জন ছিলেন এবং স্টাফ ও সিনিয়র অফিসারসরা ছিলেন।

৩১১ ঠিক দুই মিনিট পরেই টেলিফোন অপারেটর এসে জানালেন...\"Sir, there is a call from একজন সিনিয়র অফিসার হাত তুলতে head office, commander... (যার নাম ম্যাজিশিয়ান বললেন...আপনি আপনার মায়ের ম্যাজিশিয়ান বলেছিলেন) wants to speak সম্বন্ধে জানতে চাইছেন.... to you....\" আজকে (একটা সময় উল্লেখ করে) আপনার মা কি বলবো একে..! হসপিটালে এডমিট হয়েছেন, সিচুয়েশন একটু শুধুই কি \"magic! thought reading? ক্রিটিকাল, কিন্তু তিনি সেরে উঠবেন। আপনি এভাবে মনের কথা জেনে নিয়ে উত্তর দেওয়া কি এক্ষুনি trunk call করে সংবাদের সত্যতা করে সম্ভব?!\" যাচাই করা এবং মায়ের অবস্থা সবিস্তারে জেনে দর্শক হিসাবে আমরা সকলেই বাকরুদ্ধ, নিতে পারেন। অফিসারটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উঠে বিস্ময়কর এক অবস্থায় অন্য জগতে চলে গিয়ে \"lightening call book\" করে সংবাদের গিয়েছিলাম। স্মৃতির মণিকোঠায় এখনো এ সত্যতা যাচাই করেছিলেন এবং অন্যান্য সব অভিজ্ঞতা অম্লান হয়ে আছে। সংবাদ জেনেছিলেন। কিছুক্ষণ পরে এসে অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছিলেন Sponsor by purushottamayurved.in ম্যাজিশিয়ান মহাশয়কে। CONTACT +91 7001471431 মাঝে একজন হাত তুলেছিলেন, তাকে প্রায় সঙ্গে-সঙ্গে বলেছিলেন আমি আগেই জানিয়েছিলাম কোন অনৈতিক প্রশ্ন করবেন না। এরপর একজন বিশিষ্ট আমন্ত্রিত হাত তুলতে তিনি বললেন....\"আপনার ছেলে বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছে, (কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে তাও জানালেন) চিন্তা করবেন না, আপনার ছেলে সফল হবে। মাঝে আপনার ছেলে ছুটিতে আসবে।\" সম্ভবত তারিখও জানিয়ে দিয়েছিলেন। একদম শেষে, কমান্ডিং অফিসার (ক্যাপ্টেন) কে Navy dayর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পর বললেন স্যার, আর কিছুক্ষণের মধ্যে head office থেকে আপনার বন্ধু (নাম জানিয়েছিলেন) trunk callএ আপনাকে Navy dayর শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছেন.... আর দু মিনিটের মধ্যে আপনি তা রিসিভ করতে চলেছেন!!!!

৩১২ শারদ অভিবাদন শ্রী প্রীতিগোপাল দত্তরায় (সম্পাদক) সমাগত দুর্গাপূজা, বিজয়া এবং দশেরা উপলক্ষ্যে প্রজ্ঞাপনের সকল সুধী পাঠক, লেখক, এবং সত্তাচর্যী মানুষকে আন্তরিক শ্রদ্ধা প্রীতি শুভেচ্ছা এবং জয়গুরু জানাই। মা-দুর্গার কাছে তাঁর সন্তানদের চিরন্তন প্রার্থনা – রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি। আমাদের জীবনের যেখানে যা কিছু সঙ্গতিবিহীন, অসুন্দর, অশোভন, বিরূপ, কুরূপ, মলিন, বর্ণহীন হয়ে পড়েছে, সে-সব নূতন পবিত্র রূপে সাজিয়ে দাও। অসত্যের কাছে, অন্যায়ের কাছে, অজ্ঞানের কাছে, অশিবের কাছে, অন্ধকারের কাছে, মৃত্যুর কাছে প্রবৃত্তি-লাঞ্ছিত জীবনের মুহুর্মূহু পরাজয়ের মর্মন্তুদ গ্লানিকে পরাজিত করে জীবনের জয়কে প্রতিষ্ঠিত কর। অসৎনিরোধী পরাক্রম-সমন্বিত সপরিবেশ জীবন-বর্ধনের সাত্বত যশপ্রভা দশদিক উদ্ভাসিত করে তুলুক। সত্তাঘাতী সমস্ত শত্রুর নিধন হোক। বিশ্বের অস্তিত্ব নিঃসপত্ন হোক। এই প্রার্থনা সত্য হোক। সার্থক হোক। জগন্মাতা দেবী দুর্গার কাছে এই প্রার্থনা তাঁর সন্তানদের বিহিত কৃতিসাধনে উদ্দীপ্ত করে তুলুক। সকলের সুস্থি স্বস্তি ও শান্তি কামনা- সহ শারদ অভিনন্দন জ্ঞাপন করি। Sponsor by purushottamayurved.in CONTACT +91 7001471431


Like this book? You can publish your book online for free in a few minutes!
Create your own flipbook