Important Announcement
PubHTML5 Scheduled Server Maintenance on (GMT) Sunday, June 26th, 2:00 am - 8:00 am.
PubHTML5 site will be inoperative during the times indicated!

Home Explore Proggapon July 2023

Proggapon July 2023

Published by dharmakatha, 2023-07-29 11:00:10

Description: Proggapon July 2023

Keywords: Proggapon July 2023,dharmakatha

Search

Read the Text Version

জীবন বৃদ্ধিদ মাসিক ই-পত্রিকা, জুলাই ২০২৩ স্মরণ নেওয়া তাঁকেই ভাল উত্তম যিনি যত, চেনা যে কঠিন পুরুষোত্তমে তিনি মানুষেরই মত।

সূচিপত্র প্রজ্ঞাপন জুলাই ২০২৩ আষাঢ়-শ্রাবণ ১৪৩০ সম্পাদকীয় কিছু কৈফিয়ত – শ্রী প্রীতিগোপাল দত্তরায় সম্পাদক শ্রী প্রীতিগোপাল দত্তরায় কবিতা ২ – জীবন মেলা – শ্রীমতী শ্যামলী দাস সহসম্পাদক ২ – ঘুমের দেশে – শ্রী রাজ কুমার মান্না শ্রী সুখেন্দু পানি, ৪ – ভালতে আলো – শ্রী দিবাকর পাল শ্রী অনুপ বৈদ্য ৭ – তুমি আসবে বলে – শ্রী সুখেন্দু পানি ৮ – আলোছায়া – শ্রীমতী শ্রীধারা দাস প্রকাশক ৮ – ইচ্ছা – শ্রীমান প্রীতম কুন্ডু শ্রী পৃথ্বীশ কু ন্ডু প্রশ্নোত্তরে যাজন ৩ – জীবন জিজ্ঞাসা (পর্ব – ২০) ধারাবাহিক প্রবন্ধ ৫ – হিন্দু সংখ্যার বিশ্বজয়(১ম পর্ব) – শ্রী শোভন লাল মুখার্জী ১৩ – মানসিক রোগ, অবসাদ কি? কেন? প্রতিকার সম্বন্ধে পুরুষোত্তম অনুকূলচন্দ্র (১ম পর্ব) – ডাঃ বিশ্বনাথ ভৌমিক প্রবন্ধ ৯ – দুনিয়াকে ঠিক করবে কে? – শ্রী জগদিন্দু চক্রবর্তী ১০ – এত হিংসা কেন – ডাঃ তপন দাস

১ সম্পাদকীয় কিছু কৈফিয়ত শ্রী প্রীতিগোপাল দত্তরায় কিছুদিনের নীরবতার পর প্রজ্ঞাপন আবার মুখর হয়ে উঠেছে। মাঝের এই কয়েক মাসের স্তব্ধতার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। পত্রিকার সাময়িক নীরবতা বহু মানুষকে ব্যথিত করেছে। হঠাৎ কেন পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হল, উদবিগ্ন মানুষের প্রশ্ন নিরন্তর পত্রিকার পরিচালকদের কাছে আছড়ে পড়েছে। এর থেকে একটা বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যত ক্ষুদ্র ও অকিঞ্চিৎকর হোক না কেন প্রজ্ঞাপনের আয়োজন, সহৃদয়-হৃদয়ে এই সাত্বত-সাহিত্য-মাধ্যমটি একটি প্রীতির স্থান তৈরি করে নিতে সফল হয়েছে। কোনও পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশের জন্য যে ন্যূনতম ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, তা আমাদের নেই। দুই থেকে তিন জন মাত্র ইষ্টৈকপ্রাণ মানুষ অদম্য উদ্যম ও স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহে পত্রিকার যাবতীয় সম্পাদনা-আল্পনা-প্রকাশনার গুরুদায়িত্ব বহন করে চলেছেন। তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। কিন্তু সার্বিক ব্যবস্থার দীনতা কখনও-সখনও প্রকাশনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের বিশ্বাস, সুধী পাঠকগণের আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে এবং সর্বোপরি শ্রীশ্রীঠাকুরের করুণায় প্রজ্ঞাপন তার সমস্ত দুর্বলতা অতিক্রম করে আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সৎ-সাহিত্য প্রকাশনার লক্ষ্যে স্থির ও সার্থক হতে পারবে। আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আধুনিক সমাজে শ্রীশ্রীঠাকুরের শাশ্বত সাত্বত বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক তীব্র গতিতে – প্রজ্ঞাপন-পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে এই প্রার্থনা দয়ালের শ্রীচরণে নিবেদন করি। জয়গুরু

২ কবিতা জীবন মেলা ঘুমের দেশে শ্রীমতী শ্যামলী দাস শ্রী রাজ কু মার মান্না জীবন মেলার চলার পথে মিষ্টি মধুর সঙ্গীরা সব পথ চলেছি একা যাবে ঘুমের দেশে সঙ্গে আছেন পরমপিতা ভাবনা সকল আসবে এবার পথ যতই হোক বাঁকা। স্বপ্নেরই বেশে। সুখ দুঃখের পসরা সাজিয়ে প্রেমিকা যেমন করে চিন্তন প্রেমিকের শ্রীমুখ বসেছে এই মেলা। জীবন জুড়ে ঘটে চলেছে ইষ্ট যদি হতেন প্রেমিক আজব সে এক খেলা। হতই কত সুখ! হাজার মানুষ হরেক জিনিস ইষ্ট মোদের বড়ই রসিক শ্রী অনুকূল নাম জমজমাটি ঘর, জীবন মেলায় আপন তিনিই জপ চিন্তন তাঁরে শুধু মিলবে গোলক ধাম। আর সকলেই পর। এই মেলাতে কি কি নিলাম, রাধা নামের জোয়ার আনো কি কি দেবো বিলিয়ে, শরীর মনেতে সময় নদীর অকূল স্রোতে আপদ - বিপদ দূর হবে ভাবনা যে যায় মিলিয়ে। তাঁরই স্মরণেতে। ভাঙলে মেলা ফিরতে হবে স্মরণ - মনন - জপের গাড়ি চড়ে দাও ঘুমে পাড়ি ভাবি কেবল তাই কি পেয়েছি কি যে দেবো অনুরাগে মনটি ভরে প্রেমসে বলো জয় কি যে নিয়ে যাই! শ্রীহরি! এসেছিলেম নতুন প্রাণে দেখতে জীবন মেলা ফিরব আবার আপন ঘরে সাঙ্গ করে খেলা। 

৩ প্রশ্নোত্তরে যাজন জীবনজিজ্ঞাসা প্রশ্ন ১ঃ- বন্দেপুরুষোত্তমম্ ধ্বনি দেওয়া প্রশ্ন ৪ঃ- শুদ্ধাত্মা হয়ে ওঠা বা পাওয়ার জন্য হয় কেন? দীক্ষার কি প্রয়োজন। কার দীক্ষা নেব? উত্তরঃ- বন্দেপুরুষোত্তমম্‌ ধ্বনি দিয়ে উত্তরঃ- ইষ্ট না থাকলে বা ইষ্টকে গ্রহণ না অন্তরে ইষ্ট উদ্দীপনার সৃষ্টি করা হয় এবং করলে অন্তরে শুদ্ধতা আসে না। আবার শুধু অপরকেও ইষ্টোদ্দীপ্ত করে তোলা হয়। ইষ্ট গ্রহণ করলেই হবে না। তাঁর নিদেশ গুলিকে অন্তরে বিশ্বাস রেখে নিষ্ঠার সাথে প্রশ্ন ২ঃ- শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে পরিপালন করে চলতে হবে। তবেই অন্তরে পুরুষোত্তম বলা হয় কেন? ভাগবত দীপ্তি প্রজ্বলিত হবে। দীক্ষা না নিলে উত্তরঃ- পুরুষোত্তম মানে যিনি উত্তম তাঁর নিদেশ গুলি পরিপালনের দায়বদ্ধতা পূরণকারী ও বৈশিষ্ট্যপালী। শ্রীশ্রীঠাকুর তৈরি হয় না। সদগুরুর দীক্ষা নেওয়াই শ্রেয়। অনুকূলচন্দ্র প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্যের উপর যিনি ব্রহ্মজ্ঞ এবং অস্তিত্বের সংরক্ষণ এবং দাঁড়িয়ে তার উন্নয়নের দিক নির্দেশ তাকে ক্রমবর্দ্ধনশীল করে তোলার যা কিছু দিয়েছেন। তিনি শুধু আধ্যাত্মিক দিক মরকোচ যিনি জানেন তিনিই সদগুরু। নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি। প্রত্যেকের জীবন চলনার খুঁটিনাটি সমস্ত যা কিছুর প্রশ্ন ৫ঃ- “কোন কিছু আজ বুঝেছি আবার নিদান দিয়েছেন। যেমন শ্রীকৃষ্ণ কাল বুঝা যায় না - হেঁয়ালি ইত্যাদি ব'লে দিয়েছিলেন তদানীন্তন কালের শৃগাল সেজো না - কারণ ইতর জন্তুরাও যা' অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে। তাই বোঝে তা' ভোলে না। তাই এই প্রকার শ্রীশ্রীঠাকুরকে পুরুষোত্তম বলা হয়। বলাটাই দুষ্ট বা অস্থির বুদ্ধির পরিচায়ক।” - এই কথাটির অর্থ কি? এখানে শৃগাল সাজা প্রশ্ন ৩ঃ- শুদ্ধাত্মা কি? কিভাবে শুদ্ধাত্মা ব্যাপারটা কি? হয়ে ওঠা যায় বা পাওয়া যায়? উত্তরঃ- কপটতা এবং কুটিলতাকে আশ্রয় উত্তরঃ- শুদ্ধাত্মা বলতে বোঝায় যার করে যারা চলে তারাই শৃগাল প্রকৃতির মানুষ। প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ আছে। যারা যারা সব বুঝেও আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবৃত্তিকে সত্তাপোষণী রকমে ব্যবহার জন্য মুহুর্মুহু রং বদলায় এবং যা কিছু করতে পারে। ইষ্টের প্রতি অচ্যুত জানাগুলোকে বিস্মৃত হওয়ার বা বুঝতে না অনুরাগ বা টান হলে প্রবৃত্তির উপর পারার অভিনয় করে তারাই শৃগাল প্রকৃতির আধিপত্য লাভ করা যায়। মানুষ।

৪ কবিতা জীবনজিজ্ঞাসা ভালতে আলো প্রশ্ন ৬ঃ- প্রকৃত ভক্তকে কিভাবে চেনা যাবে। শ্রী দিবাকর পাল ভন্ড ভক্তই বা কি? জাল ভক্তি কি? উত্তরঃ- সৎ এ নিরবচ্ছিন্ন সংলগ্ন থাকার ভগবান তোকে করেছে মানুষ, চেষ্টাকেই ভক্তি বলে। মানুষ যখন সৎ চিন্তায় কেন তা কিরে তুই জানিস? নিরন্তর ডুবে থাকে তখন তার চিন্তা, আচার ও তাঁরই মতো করে গড়েছে তোকে ব্যবহারে উদারতার লক্ষণ প্রকাশ পায়। যাতে তার মত তুই হতে পারিস। বোকার মতো কেনরে তুই— কোনও প্রতিকূল অবস্হায়ই এই উদারতা দেখে বেড়াস পরের দোষ? শিথিল হয় না। প্রকৃত ভক্ত নির্ভীক প্রকৃতির পরের দোষ কুড়িয়ে নিয়ে হয়। প্রকৃত ভক্তের অহঙ্কারও খুব পাতলা হয়। কেন দোষের বোঝা ব'স! জাল ভক্তের অহঙ্কার খুব মোটা হয়। একটু ডিগ্রি থাকলেই বিদ্বান হবি আহত হলেই খোলস ছাড়ে এবং প্রকৃত রূপ এ কথা তোকে বলল কে? প্রকাশ করে ফেলে। জাল ভক্ত শুধুমাত্র কালিদাসের কোন ডিগ্রি ছিল? উপদেশ দিতেই ভালবাসে। উপদেশ নিতে তার লেখা পড়ে লক্ষ লোকে! পারে না। কেউ উপদেশ দিলে চটার এবং তাই বলি আমার সোনামণি বিরক্তির লক্ষণ প্রকাশ পায়। এরা বহুনৈষ্ঠিক দেখতে থাক সবার ভাল, হয়। যেদিকে সুবিধা পায় সেদিকেই ঢলে পড়ে। সবার ভালোয় ভাল হয়ে করবেই তুমি জগৎ আলো। প্রশ্ন ৭ঃ- “যা'র উপর যা' - কিছু সব দাঁড়িয়ে আছে, তা-ই ধর্ম্ম” - কার উপর কি দাঁড়িয়ে আছে? উত্তরঃ- প্রত্যেকটি যা কিছুর অস্তিত্ব যে ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপলের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যার ব্যত্যয়ে অস্তিত্ব বিপন্ন হয় বা মুছে যায় সেই ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপল ওফ লাইফকে ধর্ম বলে। ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপল ওফ লাইফের উপর সব যা কিছুর অস্তিত্ব দাঁড়িয়ে আছে। [এই প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্নগুলি উত্থাপন করেছেন শ্রদ্ধেয় শ্রী রমেন কোলে মহোদয় ও উত্তর দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় ডাঃ সুখেন্দু পানি মহোদয়]

৫ হিন্দু সংখ্যার বিশ্বজয় (Without war) প্রবন্ধ শ্রী শোভন ল াল মুখার্জী 1. সংখ্যার শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানবজাতি (১ম পর্ব) আমরা জানি বর্তমানে যে যুগে আমরা বাস করি আমরা যখন বেড়াতে যাই তখন যে হোটেলে রুম তা হল ডিজিটাল যুগ। কনিউমেরাল শব্দের বুক করি তা সবই নম্বরেরই প্রকাশ যেমন Room অর্থ হল সংখ্যা নির্দেশক প্রতীক, চিহ্ন বা শব্দ। no. 3, 4 ইত্যাদি। এমনকি আমাদের অতি ডিজিটাল কথাটা এসেছে ডিজিট বা সংখ্যা প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বরটি বা ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে। ডিজিটকে বলা হয় নাম্বার বা হল ডিজিটাল। আমরা যে ছোট বড় দোকান বা (Numerals) আমাদের সংস্কৃতে ডিজিট এর শপিং মল যেখান থেকে যাই কিনি না কেন বা মানে হল অঙ্ক। আমরা যারা প্রাচীন, মধ্য বা মালপত্র ব্যবসার প্রয়োজনে কোথাও পাঠাই না কেন ইংরেজ আমলের নাটক, সিনেমা বা যাত্রাপালা বিল বা চালান তৈরি করতে হয় সেটাকে Digital দেখেছি তারা সবাই এটা প্রত্যক্ষ করেছি যে Number দিয়ে প্রকাশ করতে হয়। পাড়ার দোকান সর্বত্র অপরাধী বা বন্দিকে শৃঙ্খলে বেঁধে বা শপিং মল যেখান থেকে যাই কিনি না কেন রাজসভা বা কোর্টে বিচার করা হচ্ছে। এমনকি সবকিছুর ভ্যালু বা দাম এবং কোয়ান্টিটিকে আমরা আমাদের ঘরের পোষ্য কুকুরকেও আমরা প্রকাশ করি কিছু না কিছু সংখ্যা দ্বারা। যেমন 2 শিকল দিয়ে বেঁধে রাখি, রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে কেজি আটা, 15 কেজি চাল, 500 গ্রাম ডিটারজেন্ট যাই। Chain হল শৃঙ্খলের বা শিকলের সবই সংখ্যার প্রকাশ মাত্র। আমরা যে টাকা পয়সা ইংরেজি নাম। তার মানে শৃঙ্খলে বাঁধা কোন মুদ্রা যা কারেন্সী নামে পরিচিত সেটা ডলার, সেন্ট, জীব নড়াচড়া করতে পারলেও তার স্বাধীনতা পেসো বা রুবল যাই হোক না কেন সবই সংখ্যা থাকে না বা মুক্ত হতে পারে না। ঠিক তেমনি দ্বারা প্রকাশ করা কাগজ বা মেটাল। আমাদের আমরা সভ্য জগতের মানুষ সংখ্যার শৃঙ্খলে সুস্থতা, ফিজিক্যাল কন্ডিশনকে আমরা সংখ্যা দিয়ে পুরোপুরি আবদ্ধ বা বন্দি। সংখ্যা ব্যাতীত প্রকাশ করি যেমন ব্লাড প্রেসার (BP), সুগার আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা একেবারেই (Diabetes), হার্ট বিট (Pulse), প্লেটলেট্ অচল। এখন কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বোঝার কাউন্টিং সবই কিন্তু সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করতে চেষ্টা করা যাক। আমাদের আধার নাম্বার, প্যান হয়। নাম্বার, ভোটারকার্ড (যা EPIC নাম্বার নামে এই ঘটনাগুলি কি প্রমাণ করে না যে আমরা অতি পরিচিত), ফ্ল্যাটের নাম্বার কলকাতার অথবা বড় অবশ্যই সংখ্যার শৃস্খলে বন্দি? এখন কথা হল যে কোনো শহরের রাস্তার নাম্বার, Passenger আমরা যে সংখ্যা দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ট্রেন বা মেইল ট্রেন যার গায়ে নম্বরগুলি বলে অতি প্রয়োজনীয় লাভ ক্ষতি, যোগ, বিয়োগ, গুন্ বা Up or Down করে চিহ্নিত করা থাকে, ভাগ করে থাকি সেগুলি এল কোথা থেকে?

৬ এরও উত্তর - না। তাহলে ইউরোপ এই সংখ্যাগুলি পেল কোথা থেকে? ঐতিহাসিক গবেষকরা বলেন যে কেন না জীবজগতের অন্য কোনো প্রাণী সংখ্যা আরব বণিকরা এটা শিখেছিল ভারতীয়দের কাছ ব্যবহার করে না, করে শুধুমাত্র মানুষ নামক থেকে। অষ্টম শতাব্দী নাগাদ আরব বণিকরা আমাদের সভ্যজীবেরা। মানুষ নামক জীবের মস্তিষ্ক প্রসূত ভারতের দীর্ঘ উপকূল অঞ্চলে বাণিজ্য করতে এসে চিন্তা ভাবনা থেকে আবিষ্কার হয়েছে ডিজিট এগুলি আয়ত্ব করে। এই আরব বণিকরা আবার যেত বা নাম্বার। পৃথিবীতে শত শত যত গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপের বন্দরে বন্দরে। এডেন, বসরা, ভাষা আছে, তাদের প্রতিপ্রত্যেকের নিজস্ব আলেক্সান্ড্রিয়া সহ মিশরের একাধিক বন্দরে ছিল সংখ্যা অবশ্যই আছে। যেমন ধরুন গ্রিক, তাদের অবাধ যাতায়াত। ইউরোপ এই ডিজিট বা রোমান, মিশরীয়, হিব্রু, জার্মান, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ, অঙ্কগুলি পেয়েছিল আরবদের কাছ থেকে। প্রথমের জাপানীজ বা স্প্যানিশ এর মতো প্রথম শ্রেণীর দিকে (At first) এগুলি চালু ছিল আরব বণিকদের ভাষা - এদের প্রতি প্রত্যেকের আছে বা ছিল হিসাবপত্রের মধ্যে। এছাড়াও যাদের প্রচেষ্টায় সংখ্যা প্রকাশের নিজস্ব সিম্বল বা চিহ্ন । সংখ্যাগুলির ভিত মজবুত হয়েছিল তারা ছিলেন আরব বর্তমানে যে প্রসঙ্গ তুলে ধরতে চাই, সেটি হল খলিফা। আরব দুনিয়ার সুপ্রিম ক্ষমতার অধিকারী আমরা যে ডিজিটগুলি ব্যবহার করছি সেগুলি খলিফা এবং আরব স্কলারদের প্রয়াসে ইসলামী কোন ভাষার সিম্বল? সেগুলি কি বাংলা, ওড়িয়া, অসমীয়া না তামিল, তেলুগু ভাষা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছিল এই উদ্ভূত? এর উত্তর পাব না, কেন না আমাদের সংখ্যাগুলি। এখন প্রশ্ন, কেন আরব বণিকরা এই প্রচলিত symbolগুলি এসেছে ইংরেজি ভাষা সংখ্যাগুলিকে তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করত। এটা থেকে। আমাদের ভারতবর্ষে ব্রিটিশরা যখন তাদের কি নিজস্ব সংখ্যামালা ছিল? এরও উত্তর - শাসন করতো তখন তারা তাদের রাজ্য না। কি ছিল এই সংখ্যামালার বিশেষত্ব যার জন্য বিস্তারের পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের নিজেদের দেশের নিউমেরালস ত্যাগ করে কয়েক জন্য এই নিউমেরালস সমূহ চালু করেছিল। হাজার km দূরের ভারতীয় প্রকাশভঙ্গিকে তারা 1854 সালে ইংরেজদের দ্বারা প্রকাশিত চার্লস নিজেদের করে নিলো? এই বিষয়ে আমরা ভারতীয়রা উডের ডেসপ্যাচ যা কিনা ইতিহাসে মাগনা- গর্বের সঙ্গে বলতে পারি আমাদের পূর্বপুরুষদের কার্তা-অফ-ইন্ডিয়া (Magna Carta of মস্তিষ্ক-প্রসূত ব্রাহ্মী ভাষা থেকে এই সংখ্যাগুলির India) নামে পরিচিত তার পরে যে শিক্ষা উদ্ভব। পরবর্তী কালের অষ্টম শতাব্দীর সংস্কৃত ব্যবস্থা ভারতবর্ষে ইংরেজরা চালু করে, সেখান ভাষাতে এই নিউমেরালগুলিকে খুঁজে পাওয়া যায়। থেকে এই সংখ্যামালা আমাদের দেশে চালু আমাদের পূর্বপুরুষরা গণিতের ব্যবহার, চর্চা ও হয়। তাহলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেল যে অভ্যাসের এমন মেলবন্ধন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন এগুলি ভারতীয় নয়, এগুলি ইংরেজদের তার ফসল আজ ও সারা বিশ্বের গণিতচর্চার মাধ্যম প্রবর্তিত সংখ্যা। এখন জানতে হবে প্রচলিত 1, হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে। এই সংখ্যামালার 2, 3, 4.....9 & 0 Digit গুলি কি ইংরেজদের সংক্ষিপ্ত প্রকাশভঙ্গি, ডেসিমাল পদ্ধতি ও প্লেস উদ্ভাবিত বা মস্তিস্কপ্রসূত নিজস্ব চিহ্ন বা ভ্যালুতে প্রকাশ করার ক্ষমতা এতটাই সহজ যে গ্রিক, Symbol? এর উত্তর আসবে কিন্তু - না। ল্যাটিন, চৈনিক বা মিশরীয় কারুরই সেই সুবিধা ছিল তাহলে এগুলি কি ইউরোপের অন্য দেশ না। বহু পাশ্চাত্য মনীষীরা একথা স্বীকার করেছেন। সমূহের যেমন গ্রিক, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি বা গবেষণার ফলে এটা জানা যায় যে খ্রিস্টপূর্ব 3য় ল্যাটিনের মত ভাষায় ব্যবহৃত হত?

৭ কবিতা শতাব্দী থেকে 3য় খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আমাদের তু মি আসবে বলে বৃহত্তর ভারতবর্ষে চালু থাকা ব্রাহ্মী ভাষার মধ্যে নিউমেরালস গুলিকে খুঁজে পাওয়া শ্রী সুখেন্দু পানি যায়। বৈদিক আর্যরা একক, দশক, শতক, সহস্র , অযুত, নিযুত, প্রযুত, অর্বুদ, সমুদ্র, তুমি আসবে বলে মনের জানালা মধ্য, অন্ত ও পরার্ধ সংখ্যাগুলিকে ব্যবহার খোলা রেখে বসে আছি দীর্ঘ প্রতীক্ষায় করেছে। ডানদিকের প্রত্যেক সংখ্যাকে পাওয়া যায় বামদিকের সঙ্গে 10 গুন্ করে। এদিক ওদিক সেদিক চেয়ে এই সিস্টেমকে অবশ্যই ডেসিমাল সিস্টেম দেখতে দেখতে দিন যে চলে যায়। বলে অভিহিত করতে পারি। ডেসিমাল কাল বৈশাখীর ঝড়ে তোমায় খুঁজেছি সিস্টেমের ব্যবহারের লিখিত প্রমাণ মেলে খুঁজেছি তোমায় নিত্য বজ্রপাতে অনেক পরে গুজরাটে প্রাপ্ত এক কপার আকাশ-ঝরা বৃষ্টির ফোঁটায় খুঁজেছি তোমায় প্লেটে(595 A.D.) সেখানে আমরা 346 সংখ্যাকে দেখতে পাই। রাজা ভোজদেবের খুঁজেছি হাড় কাঁপানো শীতে। সময়ের (870 A.D.)গোয়ালিয়র ঊষার উল্লসিত রশ্মিছটায় খুঁজেছি ইনস্ক্রিপশনে আমরা জিরোর ব্যবহার দেখতে পাই, সংখ্যা দুটি হল 50 ও 270. খুঁজেছি সন্ধ্যার বিষন্ন আঁধারে সম্রাট অশোকের শিলালিপি, বিভিন্ন হিন্দু জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতায় খুঁজেছি তোমায় মন্দির গাত্রে, গোয়ালিয়র সারনাথ inscriptionএ এই ব্রাহ্মী ভাষার ব্যবহার খুঁজেছি অমানিশার নিস্তব্ধ চরাচরে। দেখা যায়। আমরা যদি অষ্টম শতাব্দীর প্রেম আমার, সংস্কৃত ভাষার নিউমেরালস গুলিকে এবং বর্তমানকালে চালু নিউমেরালস পাশাপাশি তুমি আসবে বলে, ভালবাসবে বলে রেখে বিচার করতে বসি তা হলে দেখবো 1 অশ্রু ধারায় স্নাত হতে হতে - 9 পর্যন্ত 7 টি সংখ্যার চিহ্নের গঠনগত বসে আছি বহুকাল ধরে, সাদৃশ্যের দিক থেকে পুরোপুরি মিল আছে। অবশেষে হল যে দেখা সংস্কৃত আবার এগুলিকে পেয়েছে ব্রাহ্মী আমারই হৃদয়ের গোপন ঘরে। থেকে। আরবরা যখন এগুলি তাদের প্রয়োজনে নিয়ে যায়, তখন তারা কিছুটা অদল বদল করে নিয়েছিল। তারপর এগুলি ইউরোপ ঘুরে কি করে আমাদের কাছে ফিরে আসলো এবং বিশ্বজয় করে ফেললো তারই বর্ণনা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। ক্রমশঃ........

৮ ইচ্ছা কবিতা শ্রীমান প্রীতম কু ন্ডু আলোছায়া শ্রীমতী শ্রীধারা দাস কাঠফাটা রোদ্দুরে ভরা দুপুরে, অনেক সময় অনেক রকম দূরে কোন পাখি ডাকে ডুকরে। ইচ্ছে আমার করে, চলে যায় সুরে চড়ে আকাশের ওই দূরে – ইচ্ছেটা যদি পূরণ হয় অবাধ চলন তার তবেই মনটা ভরে। কোথা বাধা নাই যার সাদা মেঘে ভর করে এখন আমার খুব ইচ্ছে নেমে যায় নীল কোলে। গরমটাকে কমাই, সেই কোল জানো কার? তাই যখন পারি আমি আমাদের সেই মা 'র একটা গাছ লাগাই। অহরহ যার কোলে, জন্ম মৃত্যু খেলে – জানি না কবে আমার ইচ্ছে পূরণ হবে? কুহেলিকা মায়াময় বন্ধনে বাঁধা রয় – মা বলেছেন “ইচ্ছা তোমার মন কাঁদে মুক্তির আশে – নিশ্চয়ই পূরণ হবে”। লীলাময়ী অক্লেশে হাসে। জগৎ জননী তিনি না খুলিলে দ্বার খানি জ্ঞানচক্ষু নাহি কভু খোলে – বিভ্রান্তির অতলেতে দোলে।। পরম দয়াল মোর ঘুচাও এ নিশি ঘোর প্রেম রূপে তোমারি প্রকাশ।। প্রেমের অঞ্জন আঁকি এ মায়া রে দাও ফাঁকি চেতনায় চৈতন্য রূপে নিত্য কর বাস। সর্বভূতে তোমারই প্রকাশ।।

৯ দুনিয়াকে ঠিক করবে কে? প্রবন্ধ শ্রী জগদিন্দু চক্রবর্তী স্বভাবের দিক থেকে মানুষ দুরকম হয়, এক প্রবৃত্তির বৃত্তের মধ্যে এদের অবস্থান অর্থাৎ হলো ঈশ্বর কোটি মানুষ আর এক হল জীব প্রবৃত্তি দ্বারাই বদ্ধ। এদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ কোটি মানুষ। ঈশ্বরকোটি মানুষ হলো তারাই যাঁরা জাল কেটে বের হতে চায়। ভগবান শ্রী শ্রী জন্ম থেকেই ঈশ্বর চিন্তায় ব্যাপৃত থাকে। রামকৃষ্ণের ভাষায়, যেমন কিছু কিছু মাছ জাল তাঁদেরকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বোঝাতে হয় না, তাঁরা কেটে বেরোতে চায় যদিও তারা সবাই পারে না সর্বদা ঈশ্বরের স্মরণ, মনন ও ধ্যান করেন। হয়তো বা একটা কি দুটো পারে। জন্মগত স্বভাবের মধ্যে এগুলো থাকায় তাঁরা সবসময়ই এই চিন্তা অর্থাৎ ধ্যান নিয়েই থাকেন। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি পরিবারের, ঈশ্বরকোটি মানুষের সংখ্যা কলিযুগে অত্যন্ত কম দেশের এবং সমাজের তাতে কিন্তু ঈশ্বরকোটি আর বর্তমানে ঘোর কলিতে সেই ধরনের মানুষ মানুষের জন্ম হওয়া একান্ত প্রয়োজন কিন্তু তা আর প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। ঠাকুর যে শুদ্ধ হচ্ছে কই? বর্ণগত বিভ্রাট, বিপুল পরিমাণে বর্ণ আত্মার কথা বলেছেন সেটা হল এই ধরনের সংকর সৃষ্টি এবং মূলত এক কথায় বলা চলে মানুষ। আমাদের দেশ ভারতবর্ষে একটা সময় বিবাহ ব্যবস্থাটা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হওয়ায় এই ঈশ্বরকোটি মানুষের সংখ্যা কিন্তু খুব কম ছিল না। সমস্ত মানুষ কিন্তু আর পৃথিবীতে জন্ম নিতে তাই আমরা চিরকাল অনেক সাধু-সন্তের পারছেন না। তাই ঠাকুর তাঁর জীবদ্দশায় পদধুলিতে পৃথিবীকে ধন্য হতে দেখেছি। সৎসঙ্গ প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন এই অবস্থাটাকে জগতেও একটা সময়ে এই সমস্ত মানুষের সংখ্যা ঠেকাতে এবং তাঁর ভাষায়, বিবাহগুলো যদি অনেক ছিল। আগ্রা সৎসঙ্গেও স্বামীজি মহারাজের ঠিক ঠিক হয় তাহলে তিন পুরুষের মধ্যেই ঘরে যে সমস্ত শিষ্য ছিলেন তাঁরা প্রায় সবাই কিন্তু ঘরে ব্রহ্মজ্ঞ মানুষের অভাব হবে না। আর ছিলেন সাধন ভজনে সিদ্ধ মহাত্মা। আমাদের তাহলে কোন চিন্তাই নেই। সৎসঙ্গেও কিন্তু ঈশ্বরকোটি মানুষ তখন ছিলেন যেমন অনন্ত মহারাজ, কিশোরী দা, গোঁসাই বাবা সর্বশেষে একটা কথাই বলা যায় যে ঈশ্বর এবং পরবর্তীকালে পঞ্চানন সরকারদা, বিজ্ঞানী কোটি মানুষ যদি আর না জন্মায় তাহলে এই কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্যদা, সুশীল বসু ইত্যাদি পৃথিবীকে আর কখনোই ঠিক করা যাবে না সে স্বনামধন্য সাধকবৃন্দ। আমরা যতই বক্তৃতা দিই এবং লেখালেখি করি না কেন। আর অপরদিকে আরেক ধরনের মানুষ যারা হলেন জীবকোটি অর্থাৎ জীবত্ব বা পশুত্ব যাদের ভেতর বেশি বা বলা চলে প্রবৃত্তির আকর যারা। আহার, নিদ্রা, মৈথুন, ভয় ও অহংকার এই পঞ্চকর্মের যারা দাস যদিও তাদের মধ্যে কিছু মানুষ ঈশ্বরের পরিধির মধ্যে যাবার চেষ্টা করেন তবুও কিন্তু এরা হলেন বদ্ধ জীব। কিসে বদ্ধ?

১০ প্রবন্ধ এত হিংসা কেন ডাঃ তপন দাস ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে, বাংলা ভাষায় রচিত বিখ্যাত লোভ, কাম, ক্রোধ, মদ, মোহ ও মাৎসর্য্য গানের কলি, “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন নামের ষড়রিপু। দেহরথের ৬টা ঘোড়ার জীবনের জন্য” নস্টালজিয়ার সিঁড়ি বেয়ে যাঁদের লাগাম, দেহরথের সারথী ইষ্টগুরুর হাতে স্মৃতি অধিকার করে আছে, সেইসব বুদ্ধিজীবিরা, সঁপে দিতে পারলে একেবারে নিশ্চিন্ত হওয়া সমাজ-বিজ্ঞানীরা কি জবাব দেবেন পশ্চিমবঙ্গের যায়। আর সেই ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন নোংরা রাজনীতি-কেন্দ্রিক হিংসা, নারী-নির্যাতন, দিলেন শ্রীশ্রীঠাকু র অনুকূ লচন্দ্র। আমি মৃত্যুর খবর শুনে! কতটা বোধ-বিপর্য্যয় হলে অক্রোধী, আমি অমানী, আমি নিরলস ... “পূরণ, পোষণ, প্রীতিচর্য্যার” পবিত্র নীতিকে পাশ ইত্যাদি মন্ত্রে “স্বতঃ-অনুজ্ঞা”-র নিত্য কাটিয়ে নীতিহীন রাজনীতির ক্ষমতা দখলে অনুশীলনের বিধানের মাধ্যমে। হিংসাকে রাখার জন্য বিরোধী মতবাদীদের হত্যা পর্যন্ত প্রতিরোধ করার জন্য এর চাইতে উপযুক্ত করতে পারে! আবার যার প্রমাণ পাওয়া গেল কোন নিদান আছে কি-না আমার জানা সমাগত পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা' নেই। সংশ্লিষ্ট \"সত্যমেব জয়তে\" সম্বলিত সীলমোহরের যুগ-বিধায়ক বর্ত মান পুরুষোত্তম আধিকারিকদের পরিহাস করে যেন বলতে শ্রীশ্রীঠাকু র অনুকূ লচন্দ্র \"প্রাচ্য-প্রতীচ্য চাইছে, তোমরা কতখানি সৎ তোমাদের নিয়ন্ত্রণে বর্ণাশ্রমানুশাসকম্ আর্য্য চিরায়নম্।\" বিবেকের কাছে একবার জিজ্ঞেস করে দেখো সূত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে এক তো! হিংসামুক্ত সুবিন্যস্ত পরমরাষ্ট্রিক সমবায় হিংসার উৎপত্তি গঠন করার সূত্র দিলেন। সেই অমোঘ বুদ্ধিজীবিগণ, সমাজবিজ্ঞানীরা, মনোবিদেরা বিধানকে পাশ কাটিয়ে হিংসার প্রতিবিধানের এর কি ব্যাখ্যা দেবেন জানিনা, তবে যুগত্রাতা জন্য থানা, পুলিশ, মিলিটারী, কোর্ট, বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সংশোধনাগার প্রভৃ তির ব্যবস্থা করেও হিংসা হিংসার কারণ প্রসঙ্গে বলছেন, অহঙ্কার থেকে দমন করতে পারছেন না রাষ্ট্র পরিচালকেরা। হিংসার উৎপত্তি। “অহঙ্কার আসক্তি এনে দেয়; তাই যদি পারত নির্বাচনের ন্যায় একটা সরল আসক্তি এনে দেয় স্বার্থবুদ্ধি; স্বার্থবুদ্ধি আনে কাম; প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের হিংসা এবং কাম হতেই ক্রোধের উৎপত্তি; আর, ক্রোধ থেকেই হিংসার পরিণতি মৃত্যুর মিছিল দেখতে হতো আসে হিংসা।’ না। এ কেমন রাজনীতি? ছিঃ! তাহলে বোঝা গেল, হিংসার মল কারণ অহঙ্কার। যুগ-বিধায়ক বর্ত মান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকু র অহঙ্কারের উৎপত্তি প্রবৃত্তি পরায়নতা থেকে। অনুকূ লচন্দ্রের বিধান অনুযায়ী হিংসাকে দূর

১১ করতে হলে ভক্তির চাষ দিতে হবে। ভক্তির সংস্কারের অনুশাসন মেনে চলছে বলে প্রিয়জনের দ্বারা প্রিয়জনদের হত্যার মতো সংজ্ঞায় তিনি বলছেন, ‘‘সৎ-এ নিরবচ্ছিন্ন সংলগ্ন নৃশংস ঘটনা সমাজে বিস্তার লাভ করতে পারছে না। তবে, রাষ্ট্র ব্যবস্থা যদি এখনই ভারতীয় থাকার চেষ্টাকেই ভক্তি বলে।’’ তাহলে সৎ-এ আর্য্যকৃষ্টিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব না দেয়, স্বভাববিধ্বংসী প্রতিলোম জাতকদের জন্ম বৃদ্ধি নিরবচ্ছিন্ন সংলগ্ন থাকার চেষ্টা করার জন্য ভাবী পেতে থাকে, তাহলে অচিরেই হিংসা আমন্ত্রিত হবে ঘরে ঘরে! পিতামাতাকে সদগুরুর আদর্শ গ্রহণ করতে হবে। হিংসা প্রতিরোধের জন্য যুগ-বিধায়ক তারপর পরমপিতা প্রদত্ত দিব্য বিবাহ-সংস্কারে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র একেবারে সমস্যার মূলে হাত দিয়ে বললেন, “ভক্তি এনে দেয় জ্ঞান; সংস্কৃত হয়ে শুদ্ধাত্মাকে আকর্ষণ করে প্রহ্লাদের জ্ঞানেই সর্বভূতে আত্মবোধ হয়; সর্বভূতে আত্মবোধ হ’লেই আসে অহিংসা; আর, অহিংসা ন্যায় দিব্য ভক্ত সন্তানের জন্ম দিতে হবে। হতেই প্রেম। তুমি যতটুকু যে-কোন একটির অধিকারী হবে, ততটুকু সমস্তগুলির অধিকারী ভারতের নিজস্ব সংবিধান কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে হবে।’’ এর সমর্থন আছে। বর্তমানের চিকিৎসা বিজ্ঞানও একেবারে অঙ্কের হিসেব। আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি-ইচ্ছার ‘ছোট-আমি’-টার অহঙ্কারের এর সমর্থন করেছে। সুস্থ দম্পতির সুস্থ দাম্পত্য লাগামটাকে যদি ভক্তির মুঠো দিয়ে কষে না ধরা যায় তাহলে ধাপে-ধাপে হিংসার আশ্রয়ে জীবনের মাধ্যমে সুস্থ মানবের জন্ম দেওয়ার পৌঁছে যাবে। যার পরিণতি অস্বাভাবিক মৃত্যু। আর যদি জীবন নামক রথের চালক ছ’-টা বিধান দিয়ে। এ ব্যতীত জন্মগত দুরারোগ্য ঘোড়ার (ষড়রিপু) লাগাম জীবন-রথের সারথি স্বরূপ ইষ্টগুরুর হাতে সমর্পণ করা যায়, তাহলে, শারিরীক এবং মানসিক ব্যাধি প্রতিরোধের অন্য সরল প্রাণ, মধুর বচন, আর বুকভরা প্রেমের ডালি দিয়ে সবাইকে আপন করে নেওয়া যায়। কোন চিকিৎসা নেই। (Ref. DAVIDSON’S একটা পিপীলিকারও ব্যথা নিরাকরণের জন্য প্রাণ কাঁদে। PRACTICE OF MEDICINE/ GENETIC আবার যে হিংসা মৃত্যুর দ্যোতক তাকে শক্ত হাতে দমন করতে হলে হিংসা দিয়েই করতে FACTOR OF DISEASE). রাষ্ট্রের হবে। হিংসাকে হিংসা দ্বারা জয় করার নাম অহিংসা। যেমন দুষ্টক্ষত বা গ্যাংগ্রীন থেকে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কর্ণধারেরা শরীরকে বাঁচাতে হলে আক্রান্ত অংশটিকে কেটে বাদ দিতে হয়। বাদ না দিলে দেহকে বাঁচান বিশ্বস্ত, সুস্থ পে-ডিগ্রীড কুকুরের, ঘোড়ার জন্ম যায় না। তেমনি সমাজ রক্ষা, রাষ্ট্র রক্ষা করতে নিয়ে গবেষণা করলেও মানুষের বেলায় উদাসীন। একুশ বছরের ছেলে আর আঠারো বছরের মেয়ে হলেই হলো। বংশ, বর্ণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা---কোন কিছুই না দেখে স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টের সাহায্যে বিয়ে করতে পারবে, আবার বনিবনা না হলে ডিভোর্সও করতে পারবে! এখন তো আবার বিয়ে না করেও লিভ-টুগেদার আইনের সাহায্যে সন্তানের মা হতে পারা যায়। যার দৃষ্টান্ত লোকসভার সদস্যা নুসরত জাহান। রাষ্ট্রের জন- প্রতিনিধিরা যদি সুস্থ দাম্পত্যের প্রজনন বিজ্ঞানকে অসম্মান করতে পারেন, সেখানে সাধারণ নাগরিকগণ আরো বেশি সুযোগ পেয়ে যাবে লাগামহীন যৌন-জীবন যাপন করার! পরমপিতার অশেষ করুণায় আমাদের গ্রামীণ ভারতবর্ষের তথাকথিত অশিক্ষিত মানুষগুলো এখনো কোন- না-কোনভাবে ভারতীয় আর্য্যকৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা,পিতামাতায় ভক্তি রেখে বিবাহ

১২ হলে অনুরূপ নীতির অনুসরণ না করতে আমরা আবার গীতা গ্রন্থের স্রষ্টা পার্থসারথী পারলে সমাজ-রাষ্ট্রের অঙ্গে পচন ধরে যাবে, শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয়ে ফিরে যাব। শ্রীকৃষ্ণ পরবর্তী রাষ্ট্রের সত্তাটাই মারা পড়বে। বহির্ভারতের বুদ্ধদেব, যীশুখ্রীষ্ট, হজরত রসুল প্রমুখ পুরুষোত্তমগণও আর্য্য ভারতীয় ওই আর্য্য ভারতের মা কালী শুম্ভ-নিশুম্ভকে, শ্বাশ্বত নীতির অনুসরণ করেছেন মানব মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে, শ্রীরামচন্দ্র সভ্যতাকে বাঁচাতে। তাঁরা আগ্রাসন করতে, রাবণকে বধ করে ওই দৃষ্টান্ত স্থাপন ধর্মান্তকরণ করতে, অযথা কাউকে হিংসা করেছিলেন। অযথা কাউকে হত্যা করেন নি। করতে কোথাও কি বলেছেন? তবে কেন এত অযথা কাউকে হত্যা না করে পার্থসারথি হিংসা? কেন এত জিঘাংসা? ওই হিংস্র শ্রীকৃষ্ণ মামা কংসের পাঠানো অসুর-রাক্ষস জিঘাংসাকে যদি কঠোর হাতে দমন করতে নামক সত্তাহিংস জিঘাংসা বৃত্তিধারীদের হত্যা এগিয়ে না আসেন জীবনপিয়াসী শুভ করেছিলেন। অপকৌশলী অসৎ সাম্রাজ্যবাদী বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তথা রাষ্ট্র নায়কেরা, তাহলে কংসকে হত্যা করে, উগ্রসেনকে কারাগার মানবতার অপমৃত্যুর কালো ছায়া মানব থেকে মুক্ত করে তাঁকে পুনরায় রাজ্যে সভ্যতার অঙ্গে ক্রমে ক্রমে গ্যাংগ্রীন উৎপাদন অভিষিক্ত করেছিলেন। ধর্মপথভ্রষ্ট অসৎ করবে নিকট ভবিষ্যতে। অসৎ নিরোধে তৎপর আগ্রাসনী জরাসন্ধকে হত্যা করে জরাসন্ধের না হয়ে, অসৎকে প্রশ্রয় দিয়ে রাষ্ট্রের পবিত্র মন্ত্র পুত্র সহদেবকে রাজ্যে আভিষিক্ত “সত্যমেব জয়তে” সম্বলিত সীলমোহরের করিয়েছিলেন। সব হিংসার মূল উৎপাটন আধিকারিক হওয়াটা যেমন ভণ্ডামি, তেমনই করে, এক পরম রাষ্ট্রীক সমবায় প্রতিষ্ঠার অসৎ নিরোধে উদাসীন থেকে সৎসঙ্গী সেজে লক্ষ্যে কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধ সংগঠিত করে ভক্ত হওয়াটাও কিন্তু ভণ্ডামী! সকলের কথা জীবনবাদের জয়গান গেয়েছিলেন। ভবিষ্যত বলতে পারব না, সেই দিক দিয়ে বিচার প্রজন্মকে জীবনবাদী হবার জন্য উপহার দিয়ে করতে গেলে আমি নিজে কিন্তু ভণ্ড। ভক্ত গেলেন শ্রীমদ্ভবদ্গীতা। আমাদের রাষ্ট্রীয় স্তোস্ত্র হতে গেলে ঠাকুরত্বকে জাগাতে হবে চরিত্রে। “বন্দে মাতরম্” ধ্বনির উৎস শ্রীমদ্ভবদ্গীতা। সেটা যখন জাগাতে ব্যর্থ হয়েছি, তাহলে আমি একদা শ্রীমদ্ভবদ্গীতা গ্রন্থকে আদর্শ মেনে ভণ্ড ছাড়া আর কি! তাই ভণ্ডামি ত্যাগ করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছিল। আমাকেও গুটি কেটে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে সেসব মহান ইতিহাস ভুলে গণতান্ত্রিক পথে পড়তে হবে, পরিস্থিতিকে সামাল দিতে। রাজনীতি করতে গিয়ে হিংসাশ্রয়ী হয়ে আমরা পরিস্থিতিকে এড়িয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারব যদি ভারতমাতার সন্তানদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে না। তুলি, ভারতমাতা সেই অপমান কতদিন মুখ বুঁজে সহ্য করবেন?

১৩ মানসিক রোগ, অবসাদ কি? কেন? প্রতিকার সম্বন্ধে প্রবন্ধ পুরুষোত্তম অনুকূ লচন্দ্র ডাঃ বিশ্বনাথ ভৌমিক, সহ-প্রতিঋত্বিক (১ম পর্ব) পৃথিবীতে এমন মানুষ প্রায় নেইই যারা মানসিক অবসাদ সম্পূর্ণ এক ভিন্ন চিত্র। শুধুমাত্র জীবনে কোন বিরূপ পরিবেশ, প্রতিক্রিয়ার দুঃখ (sadness) বা নিরানন্দ সম্মুখীন হননি। শারিরীক, মানসিক, (unhappiness)ছাপিয়ে অন্য এক ছবি অর্থনৈতিক বা অন্য কোন সমস্যায় জড়িয়ে এক্ষেত্রে রোগীরা ডাক্তারের সামনে তুলে ধরে। পড়ে অন্ততঃ কিছুদিন মানসিক দুঃখ যন্ত্রণা চরম হতাশা, নিম্নগামী আত্মবিশ্বাস, অপদার্থতা, বা তারই হাত ধরে আসা অবসাদ বা ঘরের কোনে একাকী বসে কান্না, অকারণে ডিপ্রেশনে ভোগেননি এমন লোকজনের অপরাধবোধ অনিদ্রা, কাজ কর্ম্মে অনীহা – সংখ্যা হয়ত কোটিতে গুটিক। মানসিক ইত্যাদি নানা উপসর্গ নিয়ে রোগীরা ডাক্তারের যন্ত্রণা, কষ্ট কিন্তু মানসিক অবসাদ বা কাছে আসে। এর সাথে থাকে কিছু শারিরীক ডিপ্রেশন নামে কোন অসুখ নয়। এবং উপসর্গ – যেমন ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, এসব মানুষ জন তার জন্য খুব একটা বুক ধড়ফড় করা, কোষ্ঠকাঠিন্য, যৌন ইচ্ছা চিকিৎসকের কাছে আসেন না। প্রিয়জনের কমে যাওয়া বা অবদমন, অকারণ আশঙ্কা বা মৃত্যু, আর্থিক সংকট, শারিরীক অসুস্থতা – Anxiety কিম্বা খিটখিটে ভাব (Irritability), এ সবই আমাদের জীবনের স্বাভাবিক উত্তেজনা খুব বেড়ে যাওয়া (extreme ঘটনা। এসব পরিবেশকে মানুষ সময়ের excitability and agitation) ইত্যাদি সাথে সাথে সামলে ওঠে। কিন্তু মুশকিলটা প্রকার। এছাড়া আত্মহত্যার প্রবণতা বা চূড়ান্ত হয় যখন মানুষ এসব পরিবেশের সাথে মন সংযোগের অভাব এসব তো আছেই। তাল মেলাতে পারে না এবং ধীরে ধীরে রোগের বাড়াবাড়ি হলে কেউ কেউ ঘরের এক Depression বা হতাশা বা অবসাদে কোনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে অবান্তর আক্রান্ত হয়। কল্পনার জগতে, কানে অদ্ভূত সব আওয়াজ আসে, বা অবান্তর দৃশ্য (Hallucination) এর যত দিন যাচ্ছে বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে শিকার হয়, অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি। অবসাদগ্রস্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন ঠিকমত এইসব উপসর্গের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না বাড়ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায় নিলে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত রোগীদের আত্মহত্যার পারে। খবর। বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে মানসিক অবসাদে ভুগছেন এমন রোগীদের প্রসঙ্গত বলা ভাল যে, কোন গবেষণাগারে মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও যথেষ্ট। পরীক্ষার মাধ্যমে কিন্তু সাধারণভাবে এ অসুখ

১৪ ধরা যায় না। রোগের যথোপযুক্ত উপসর্গ তাকে জীবন ও আনন্দের অধিকারী করে দেখেই চিকিৎসক এই জাতীয় রোগ নির্ণয় তাদের ভরসাস্থল হয়ে উঠে মানুষের মতই করে থাকেন। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে মানুষের ভগবান হয়ে উঠেছেন। সব অবতার সময়মত স্নায়ু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পুরুষগণই তাই। এটা আমাদের ভাল করে যাওয়া কিন্তু এ রোগ নিরাময়ের বলিষ্ঠ বুঝতে হবে। তাইতো তিনি নিজে যখন ডাক্তারী পদক্ষেপ। সমস্ত মানসিক ব্যাধির মধ্যে এই করা শুরু করলেন এবং কছুদিন করার পর তখন কালান্তক মানসিক অবসাদ বা Depression অনন্ত মহারাজকে বলছেন, “অন্তারে শুধু দেহের সুচিকিৎসা, সুপরিচর্য্যার মাধ্যমে সব থেকে চিকিৎসা করে কি হবে? রোগ তো মানুষের বেশি পরিমাণে সারিয়ে তোলা যায়। অবশ্যই মনে। তাই মনের চিকিৎসা করা দরকার।” তাই এই সব ক্ষেত্রে নিরাময়ের জন্য রোগীর শুরু হল তাঁর বৈপ্লবিক শরীর মানসীয় চিকিৎসা, পরিবার পরিজনের এক বিশাল ভূমিকা আছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে Psycho চিকিৎসকগণ বলেন যে আত্মীয় পরিজন Somatic Disorder এবং তার Analytical বন্ধুবান্ধব তাদের প্রীতিসুলভ, সহানুভূতিমূলক Treatment বা বিশ্লেষণাত্মক চিকিৎসা। ভূমিকা কিন্তু বিরাট সাফল্য এনে দেবে পূর্ণ সুস্থতার জন্য। মনোচিকিৎসা বিজ্ঞানে যে সব ওষুধপত্র চিকিৎসকগণ দিয়ে থাকেন তার সব কটিই কিন্তু অবসাদ্গ্রস্ত রোগী ধীরে ধীরে যেহেতু মনের মূলে যে জৈব রাসায়নিক বিশৃঙ্খলা বা পরনির্ভর হয়ে পড়ে সেই হেতু তার পরিবার অসাম্য দেখা যায় তার ভারসাম্যকে ফিরিয়ে পরিজন বন্ধু বান্ধবের বিশেষ কর্তব্য হল আনতে সাহায্য করে, যেমন এমিট্রিপিটিলিন, রোগীকে বুঝা ও তাকে সর্বদা ইতিবাচক ইমিপ্র্যামিন গ্রুপের ওষুধ বেশী ব্যবহার করা উৎসাহ প্রদান করা। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু হয়। হাল আমলে ডক্সিপিন, ডথিপিন বা সমাজে এই জাতীয় রোগীকে আত্মীয় বন্ধু ফ্লুক্সিটিন ইত্যাদির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। বান্ধব ‘পাগল’ বলে উপহাস বা অবহেলা মানসিক রোগ বা অবসাদ রোগের ক্ষেত্রে করেন, যা কখনই উচিত নয়। মনে রাখতে অনেক ক্ষেত্রেই বংশগত বা জিনগত কারণও হবে মনের ক্রিয়া আসলে এক জৈব রাসায়নিক থাকে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ক্রিয়া। মানুষের যেমন Heart, Kidney, পূর্বপুরুষগণের মধ্যে কারো না কারো এই Liver বা বিভিন্ন Organ এর অসুখ হয়, ঠিক ধরনের রোগ ছিল। তবে বংশগত কারণ ছাড়াও তেমনি জৈব রাসায়নিক সাম্য ব্যবস্থার বিভিন্ন কারণ হিসাবে যেগুলো বলা হল সে পরিবর্তন হলে মনও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই কারণেও এ রোগের দেখা মিলছে। অনেকের এটিও যে কোন শারিরীক অসুখের মতই ধারণা এই ধরনের রোগীরা বিবাহ করতে পারে একটি অসুখ। কোন তথাকথিত পাপের বোঝা কিনা। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে গোপন না করে নয়। এটা খুব সহানুভূতির সঙ্গে বুঝতে হবে। উপযুক্ত ক্ষেত্র বিচার করে তারা বিবাহ করতে পুরুষোত্তম অনুকূলচন্দ্র সারা জীবন এটার পারে যথাযথ নিয়ম পালনের মাধ্যমে । উপর দাঁড়িয়েই মানুষের নিরাকরণ করে

১৫ সংক্ষেপে মানসিক রোগগুলিকে প্রধানত দুটি দুর্বলতা থাকে তখন সে সন্দেহ করে তার স্ত্রী শ্রেণীতে ভাগ করা যায়, যেমন – হয়ত জৈব সুখের জন্য অন্য পুরুষে আসক্ত। (1) Psychogenic or functional mental অন্য পুরুষের সাথে কথা বলতে দেখলে, illness অর্থাৎ পরিবেশ যেখানে রোগের হাসতে দেখলে তার সন্দেহ হয় যে এই বোধ উৎপত্তিস্থল। পরিবেশ বলতে পরিবার পরিজন, হয় তার স্ত্রী ঐ পুরুষে আসক্ত হয়ে পড়েছে, বা পরিবেশ কর্মস্থল সবটাই। কোন নারীর যদি অতিরিক্ত কামাসক্তি থাকে (2) Somatogenic or organic mental পুরুষের যদি কামাসক্তি কম থাকে সেখানেও illness অর্থাৎ দেহই যেখানে রোগের এই সন্দেহবাতিক কাজ করে। বিপরীত ক্ষেত্রে উৎপত্তিস্থল। মনোজ মনোরোগকে আবার তিন পুরুষের প্রতিও তার স্ত্রীর সন্দেহ ঐ একই ভাগে ভাগ করা হয়েছে – (1) Neurosis বা কারণে হতে পারে এবং তা কোন ক্ষেত্রে কি বিকার, বায়ুরোগ (2) Psycho-somatic বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভয়াবহ পরিণতি লাভ illness – এর আওতায় সাধারণতঃ জন্মগত, করে যার বহু নিদর্শন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বংশগত, ক্রমোজোম, জিন বা DNA এর ত্রুটি, আমরা নিয়তই দেখতে পাই। এই জন্যই Autonomic nerve system, endocrine শ্রীশ্রীঠাকুর উপযুক্ত বিবাহের কথা বলেছেন সব gland ত্রুটিজনিত, আঘাত জনিত, নেশা দিক মিলিয়ে Psycho-physical, আসক্তি জনিত ইত্যাদি, (3) বাতুলতা বা Genetical সব লক্ষণ মিলিয়ে এক কথায়। Psychosis. Neurosis (বায়ুরোগ) আবার আমাদের শাস্ত্রে ও ঋষি বাৎস্যায়ন তার গ্রন্থে পাঁচ রকম দেখা যায়, যথা – স্নায়বিক দৌর্বল্য বলেছেন কি জাতীয় পুরুষের সঙ্গে কি জাতীয় (Neurasthenia), Hypocondriasis (রাগ নারীর বিবাহ বা মিলন বাঞ্ছনীয়। তার ব্যত্যয় রোগ বাতিক) উৎকণ্ঠা (Anxiety state)এই হলেই বিপর্যয় ঘটবে। বিস্তারিত হবে বলে সেই অবস্থায় রোগী অমূলক দুশ্চিন্তা অবাস্তব ভয়ে প্রসঙ্গ এখানে দেওয়া হল না। পাঠকবৃন্দ আচ্ছন্ন থাকে। Hysteria – যথা অজ্ঞান হওয়া, বাৎস্যায়ন বিরচিত ‘কামসূত্র’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন হাত পা কাঁপা, অকারণে হাসি বা কান্না, কথা বন্ধ করলেই জানতে পারবেন। তবে আদি ও করা, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ভাব, Obsession – অকৃত্রিম গ্রন্থ হওয়া চাই। তারপর আছে বাতিকগ্রস্ত হওয়া ইত্যাদি। বিরাটত্বের ভ্রান্তি ও উৎপীড়নের ভ্রান্তি। এগুলি খুব দুরারোগ্য খেদ উন্মত্ততা মিশ্রিত বিষণ্ণতা বাতুলতা বা Psychosis আবার চার Maniac depressive Psychosis. রকমের হতে পারে যথা অতিরিক্ত উল্লাস বা উত্তেজনা আবার চূড়ান্ত চিত্তভ্রংশতা(Schizophrenia), ঔদাসীন্য, বিমর্ষ বা নিরুৎসাহ হয়ে পড়া। এগুলো খুবই অবাস্তব ধারণা, অনুভূতিহীনতা ইত্যাদি। ভ্রম সংক্ষেপে অবতারণা করা হল মাত্র। কারণ এই বাতুলতা বা Paranoid – সন্দেহ বাতিক গ্রস্ততা বিষয়গুলি বিস্তারিত আলোচনা ও শিক্ষার বিষয় যে সব কিছুই সন্দেহের চোখে দেখে। যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে শেখানো হয়। বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাস তো থাকেই না কাউকেই বা কোন বিশষভাবে বলেছেন যে জীবনের প্রথম দশটি কিছুকেই বিশ্বাস করতে পারে না। স্বামী স্ত্রীর বৎসর খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবনে। প্রতি অকারণ সন্দেহ বা স্ত্রীর স্বামীর প্রতি ক্রমশঃ......... অকারণ সন্দেহ অবিশ্বাস। বিশেষ ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি সুন্দরী হয় এবং পুরুষের যদি বিশেষ যৌন

আপনার মৌলিক লেখা বাংলায় টাইপ করে পাঠান আমাদের মেইল এ [email protected] আপনার নাম এবং ফোন নাম্বার উল্লেখ করতে ভু লবেন না


Like this book? You can publish your book online for free in a few minutes!
Create your own flipbook