Important Announcement
PubHTML5 Scheduled Server Maintenance on (GMT) Sunday, June 26th, 2:00 am - 8:00 am.
PubHTML5 site will be inoperative during the times indicated!

Home Explore Untitled document

Untitled document

Published by Binayak Ghosh, 2022-11-15 16:50:08

Description: Untitled document

Search

Read the Text Version

অমর বসনা জন্মিলে মরিবে অমর কেহ না হবে তবু এ মন প্রয়াস করে শুধুই বাঁচিবার তরে। মনের বাঁধন ভাঙবো কেমনে অমর হওয়ার বাসনা রাখিবো যতনে। কেনো সুন্দর ভু বন ছাড়িতে যে হয় তার উত্তর কারো জানা নয়। কতো কাজ রেখে বাকি মানষু চলে যায় দিয়ে ফাঁকি। ফেরানো নয় সম্ভব তারে তাই মায়া ত্যাগ শেখো যতনে। মরিতে না চায় কেউ এ সুন্দর ভু বনে অমর হওয়া সম্ভব নহে।। স্কু লের ঘন্টা অনেকদিন পর আবার বাজলো স্কু লের ঘণ্টা নতু ন করে আহ্বান জানিয়ে জাগিয়ে তু ললো প্রাণটা। ঘরবন্দী দশা তাহলে ঘুচল অবশেষে স্পন্দনহারা হৃদয় এবার স্পন্দিত হলো বেলাশেষে। বাজলো আবার স্কু লের ঘন্টা জীবন আবার ছন্দে ভরা করোনাকে বডু ়ো আঙু ল দেখিয়ে খুললো স্কু লের বন্ধ তালা।।


ভাষা বাংলা আমার মাতৃ ভাষা বাংলায় আমি বলি কথা বাংলা আমার ভালোবাসা তাই বাঙলাতেই আমার জেগে ওঠা। বাংলা আমার বলু ি ফোটঁ ায় বাংলা শেখায় কথা বাংলা আমার নিবিড় ছোযঁ ়ায় বেচেঁ থাকার ভরসা। বাংলায় আমি তর্ক করি বাংলায় লিখি কবিতা বাংলায় আমি কলম ধরি বাংলায় বন্দী আমার মনের ছবিটা। বাংলায় আমি দেখি সূর্য ওঠা বাংলায় দেখি কুয়াশা বাংলায় রোজ বিকেল বেলায় দেখি পাখি ঘরে ফিরে যাওয়া। বাংলায় লেখে রবি ঠাকুর বাংলায় লেখে নজরুল বাংলায় ভালোবাসা শরতচন্দ্রের ঐতিহ্য বাংলাতেই বিভূ তিভূ ষণের। তাই তো আমি বাংলায় লিখি বাংলায় করি প্রতিবাদ বাংলায় আমি জীবন্ত থাকি বাংলায় আমার অবকাশ। আমি নইকো লেখক নইকো আমি কবি আমার এক নয়নে বাংলা ভাষা অন্যটাতে মাতৃ ভূ মি।।


ভয় ভয় কে পেওনা ভয় একবার পিছিয়ে গেলে সামনে এগোনো সহজ নয়। ভয় কে পেওনা ভয় কারন এগিয়ে যাওয়া মানষু কে দাবিয়ে রাখা সহজ কম্য নয়। জীবনে চলার পথে আসে অনেক... বাধঁ া সত্যের পথে এগিয়ে যেতে থাকে অনেক... ধাঁধা। ভয় কে বারবার পাও ভয় যদি স্বয়ং ঈশ্বরকেও পাশে পাবে না বয়ে যাবে সময়ের অকুল নদী। কাধঁ ে পাও যদি শান্তনার হাত বাই বাই বলো তাকে বলো দরকার নেই সমবেদনার। ভয় পায় নি সুভাষ ভয় পায় নি দাদা পাইনি ভয় সি. আর. দাস পাইনি ভয় রবীন্দ্রনাথ। কারন বাঙালি ভয় পেতে শিখিনি ভয় পায় নি ব্রিটিশদের চোখে চোখ রাখতে পাই নি ভয় অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়তে ভয় পায় নি দলকে নেতৃ ত্ব দিতে পাই নি ভয় প্রতিবাদে নাইট উপাধি ফেরাতে। ভয় পেয়ে কখনও পিছিয়ে এসো না নিজের অতীতকে দেখে শেখো জীবনের পথচলাকে থামিয়ে রেখো না। ভয় পেয়ে যারা পিছিয়ে আসে ভয় পেয়ে যারা দড়িতে ঝোলে তাদের থেকে কিছুই শিখো না তাদের থেকে কোনোকিছুর আশা রেখো না। ভয় কে পেওনা ভয় কারন আজকে পিছিয়ে গেলে ভয় পেয়ে ভবিষ্যতে থাকবে না তু মি কারোর স্মৃতি হয়ে।।


শব্দের খোজঁ আমি হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ কবিদের ভিড়ে আমি জেতার আশায় আসবো কখনও ফিরে। আমি মনে থাকবো হয়তো কোনো প্রতীক্ষায় আমি বেচেঁ আছি হয়তো জেতার অপেক্ষায়। আমি রোজ খুজঁ ে চলেছি নতু ন কোনো শব্দ আমি অচেনা শব্দের জালে থেকে যাচ্ছি নিস্তব্ধ। আমি হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ হয়তো হেরে যাচ্ছি রোজ আমি আসবো দরূ ত্ব ভেদ করে করে নতু ন শব্দের খোঁজ।। অদ্ভু ত আলাপ সেদিন কলেজে স্মরণ সভা চলছিল। বিমলেশ ক্লাস শেষ হওয়ার পর আর দাড়ালো না চলে গেলো সোজা কলেজস্ট্রিট। বিমলেশের পরিচয় দিয়ে রাখা ভালো, উনি সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ছেন অঙ্ক নিয়ে, অভিজাত পরিবারের ছেলে বয়স ৩০-৩২ ,কবিতা লেখা পেশা,সেদিন ওর পরনে ছিলো ঢলঢলে জামা আর কিঞ্চিত পরিষ্কার একটি জিন্স, চোখে মোটা চশমা। বিমলেশ একটি বকু স্টল থেকে একটি পত্রিকা সংগ্রহ করে বাসস্ট্যান্ডে বসে ছিলো। হঠাৎই সারা আকাশ মেঘে ঢেকে গেল,আর শুরু হলো মষু লধারে বষৃ ্টি। কলকাতা বোধহয় এমন বষৃ ্টি অনেকদিন পরই দেখেছিল পুরো রাস্তা ফাকঁ া হয়ে গেলো আর ওই ফাকঁ া বাসস্ট্যান্ডে বিমলেশ একা বসে। চারিদিক কেমন নিস্তব্ধ শুধু বষৃ ্টি পড়ার শব্দ হচ্ছে।বিমলেশ একটা কবিতা লিখছিল আর সেই সময় বাসস্ট্যান্ডে আবির্ভ াব হলো একটি মেয়ের, মেয়েটির পরনে আকাশী কুর্তি ও জিন্স চোখে চশমা, হাতে ছিল একটি বই যেটি বিমলেশের দষৃ ্টি আকর্ষন করে। বইটি ক্যালকুলাস এর সে জানত বইটি M.sc এর ।বাস স্ট্যান্ডে একজনের সঙ্গী পেয়ে সে কথা বলার জন্য উদগ্রীব ছিল। বিমলেশ বলেই বসলো \"আপনি কি অঙ্ক M.Sc এর ছাত্রী?\" মেয়েটি বলে \" হ্যাঁ,কেনো?\"ও বললো \"আমিও অঙ্ক B.sc এর ছাত্র, আপনার হাতে বইটি দেখে জিজ্ঞেস করলাম\" মেয়েটি ঠোটঁ কুঁ চকে হেসে বলে\"আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে না \" বিমলেশ বললো \"হ্যাঁ,জানি বয়সটা একটু বেশি কিন্তু আমার অঙ্কের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে এখানে এনেছে\"। কিছুক্ষন আলাপ পরিচয় চলে তারপর কথায় কথায় উঠে আসে বিমলেশের কবিতার কথা মেয়েটি একটি কবিতা শুনতে চায় তখনই বাসস্ট্যান্ডে প্রবেশ করে এক ভদ্রলোক।বিমলেশ তার কবিতা পড়তে থাকে লোকটি কিছুক্ষন পর কটু দষৃ ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বাইরে চলে যায়। মেয়েটি তার কবিতার প্রশংসা করে। দজু নের মধ্যে গল্প জমে ওঠে এদিকে বষৃ ্টি থেমে এসেছে কিছুটা। তারপর তাদের মধ্যে প্রেমের বিষয় নিয়ে কথা শুরু হয়। মেয়েটি প্রেমে ডাহা ফেল হবার কথা টা বলে এবং তার মনের আক্ষেপ প্রকাশ করে । বিমলেশ তাকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে । মেয়েটির কথায় বিমলেশের মনে যে প্রভাব পড়ে , তা স্পষ্টতই বোঝা যায়। মেয়েটির চোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে।তখন বিমলেশ বলে\" দাড়াও তোমাকে একটা কবিতা


শোনাই দেখবে তোমার মনের সব ব্যাথা নিমেষে উধাও হয়ে যাবে\" বিমলেশ তার লেখা ডিপ্রেশন কবিতাটি শোনায়। কবিতাটা শোনার পর মেয়েটি তার চোখের জল মোছে এবং বলে\" কবিতাটা আমি যদি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এ শুনতাম তাহলে আজ হয়তো জীবনটাই অন্যরকম হতো\" ।মেয়েটির কথার মানে সে বঝু তে পারে না ,তাই সে কিছু জিজ্ঞেস করতে যায় , কিন্তু জিজ্ঞেস করার আগেই একটি বাস আসে মেয়েটি উঠে যায় আর বলে \" আমার বাস চলে এসেছে, আপনার সাথে আলাপ হয়ে খুব ভালো লাগলো,এই মহু ূর্ত টা আমার মনে থাকবে\"মেয়েটির কথায় স্পষ্ট তার বিমলেশকে ভালো লেগেছে।তারপর মেয়েটি বাসে উঠে গেল এবং বিমলেশ তাকে হাতনারা দিয়ে বিদায় জানালো। কিন্তু বাসের সব লোক তার দিকে তাকিয়ে রইলো যেনো তারা বঝু তে পারছে না বিমলেশ কাকে হাতনারা দিচ্ছে। মেয়েটির বলা কথা গুলি বিমলেশের মনে দাগ কেটে যায়।সে বাড়ি ফিরে, রাতে অনেকক্ষণ এই কথা গুলো নিয়ে ভাবে আর বঝু তে পারে মেয়েটিকে তার ভালো লেগেছে। কিন্তু বলবে কী করে?তার নাম জানে না ,ফোন নম্বর নেই ।তারপর তার মনে পড়ে মেয়েটি স্কটিশচার্চ কলেজে পড়ে বলেছিল আর বিমলেশও সেই কলেজেই পড়ে তাই সে ভাবে কাল M.sc এর রুমে গিয়ে দেখা করবে। পরের দিন সে তাড়াতাড়ি কলেজে যায় আর গিয়েই M.sc এর রুমে ঢু কে যায় সেখানে মোটামটু ি সবাই তাকে চেনে যেহুতু সে কবিতা লেখে। কিন্তু মেয়েটার বিবরণ দিয়ে কোনো খোজঁ ই সে পেলো না হতাশ মখু ে B.Sc এর ঘরে ফিরছিলো আর রুমে ঢোকার আগে তার চোখ পড়ল হল ঘরটার দিকে যেখানে কাল স্মরণ সভা চলছিল। বিমলেশকে অজ্ঞান অবস্থায় আমরা ওই হল ঘর থেকে উদ্ধার করি। একসপ্তাহ ক্লাসে বিমলেশকে আনমনা লাগছিল।আমি টিফিন টাইম এ ওকে জিজ্ঞেস করি \" কি হয়েছে রে তোর\"ও আমাকে সে রাতের ঘটনা বিস্তারিত বলে। তারপর আমি মজা করে বলি \" কীগো প্রেমে পড়লে নাকি, ওর নাম কি?\" বিমলেশ বলে\"ও সৌম্যাদতৃ া M.sc ফার্স্ট ইয়ার আমদের কলেজেই পড়ত,১৩ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনাটা না ঘটালে \"। আমি জিজ্ঞেস করি\" কি ঘটনা?\" ও বলে \" তোরা এক সপ্তাহ আগে যার জন্যে স্মরণ সভা করছিলি.....।\" আমি তখন ওকে থামিয়ে দেই, আমার কাছে পুরো ঘটনাটা জলের মত পরিস্কার।আমি ভয়তে ভয়তে ওকে বলি \" সৌম্যাদতৃ া দি আমাদের কলেজের ওপর থেকে ঝাঁপ মেরেছিল তু মি জানো \" ।বিমলেশ বলে এটা জানা ছিলো তবে ও কেনো ঝাঁপ মেরেছিল সেই কারণটা আমি জানি। তারপর একবছর কেটে যায় ।বিমলেশ কেমন যেনো একটা হয় গেছে।একদিন ও আমাকে একটা চিঠি দেয়। আর বলে এটা রাতে পড়বি। আমি বাড়ি চলে যাই চিঠির কথাটা ভু লে যাই। পরের দিন কলেজে ঢোকার মখু ে খুব ভিড় দেখি বিমলেশের মোটা চশমাটার একটু করো বডি টার পাশে পড়ে আছে। সবাই বলছে \"বিমলেশ আত্মহত্যা করেছে............\"। তারপর একটা বছর কেটে গেল। রেডী হচ্ছি কলেজে যাওয়ার জন্য। আজ বিমলেশের মতৃ ্যুদিন কলেজে একটা স্মরণ সভা হবে। ব্যাগ গোছাতে গিয়ে বেরিয়ে এলো একটা চিঠি। চিঠিতে লেখা \"১২/২/২০২০ প্রিয় বিনায়ক, এখনও আমার কাছে অজানা, অচেনা সেই রাতের ঘটনা।সেই ঘটনার আপছা স্মৃতি আজও আমার মনে পড়ে, হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গা কোনো ভোরে।আজও যখন ওই বাসস্ট্যান্ডের সামনে যায় মনে পড়ে ওর স্মৃতি। মনে হয় সেই মহু ূর্ত টা যদি আরও একবারf ফিরে পেতাম!!! হোক না মহু ূর্ত টা অদ্ভু ত, অলৌকিক, কল্পনাতে মোড়া। ওকে আমি ফিরে পেতে চাই তাই ওর কাছেই চলে যাওয়ার পথ খুজঁ জি। তোর কবি দা\" চিঠিটা পড়ার পর ওর আত্মহত্যার কারন টা বঝু তে পারলাম। বাথরুমে ঢু কে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করলাম সেদিন আর কলেজে যাওয়া হলো না।আজ আরও একটা ১৩ ফেব্রুয়ারি আমি ওই বাসস্ট্যান্ডে গেলাম আর কোনার সিট দটু োতে ওই চিঠিটা আর রজনীগন্ধার তোরা রেখে বসলাম আবার বষৃ ্টি এলো আর আমি ওদের সাথে বেশ ভালোই গল্প জমালাম অনেকদিন পর দেখা হলো প্রিয় বন্ধু টার সাথে,ওদের আমি আমার লেখা ডিপ্রেশন কবিতাটা শোনালাম। আবার হয়তো ১৩ ই ফেব্রয়ারি আসবে আর ওই বাসস্ট্যান্ড সাক্ষী হবে কোনো অদ্ভু ত আলাপের।। শেষ পরিণতি রোজ একঘেয়েমি জীবনযাপন করে কলেজ জীবনের ছাত্রনেতা আশুতোষ বেরা। বাড়ি থেকে অফিস, অফিস থেকে বাড়ি, সকাল ৯: ০০টায় বের হয় আর ঢোকে রাত ৯: ০০টায়। জীবনের সবটু কু দিয়ে দিয়েছে তার কাজে। বলে রাখা ভালো আশুতোষ খুব লড়াকু আর কাজপাগল ছেলে কোনো কাজ একবার শুরু করলে যতই বাঁধা আসুক সেই কাজটা সে শেষ করবেই। আজ হয়তো ও বিধানসভার সদস্য হতে পারত। একদমই বাড়িয়ে বললাম না, কলেজে রাজনৈতিক


পালাবদলের প্রধান নেতৃ ত্ব ও নিজেই দিয়েছিল। একবার কাউন্সিলার হওয়ার সুযোগও এসেছিল, কিন্তু তাঁর বাড়িতে রাজনীতি জিনিসটাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিলো। তাই সবকিছু ছেড়ে এখন এই শহরের কোলাহলে শুধু কাজ আর জীবন অতিবাহিত করার জন্য তার ক্ষীণ প্রাণশক্তিকে সে বাচঁ িয়ে রেখেছে। অফিসে লিফটে ওঠার সময় মাঝে মধ্যে এইসব কথাগুলো সে মনে করে। তবে জীবনে কর্মক্ষেত্রে বেশ উন্নতি করেছে আশুতোষ। ইদানিং তার কাজের বড্ডো চাপ চলছিলো। অফিসে প্রচু র নতু ন লোক নেওয়া হবে তার জন্যই ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নপত্র বানাচ্ছে সে। সেদিন ছিলো ইন্টারভিউ ও প্রশ্নপত্র নিয়ে লিফটে উঠছিলো, ঠিক সেই সময় একটা মেয়ে হঠাৎ প্রায় ঝড়ের বেগে আবির্ভূ ত হলো। লিফটের দরজা প্রায় খুলিয়ে ভেতরে ঢু কলো। আশুতোষ এতে খানিক বিরক্ত হলো, মেয়েটিকে কিছু করা কথাও শুনিয়ে দিলো। মেয়েটির তাকে চেনা চেনা লাগছিল। তাই আর অপেক্ষা না করে বলেই ফেললো \"আমি কি আপনাকে চিনি?\"আশুতোষ অচেনা কারুর সাথে কথা বলতে পছন্দ করতো না। কিন্তু মেয়েটির গলার স্বর তার চেনা লাগে, সে গম্ভীরভাবে কৌতূ হলের সুরে বলে \"হতে পারে!\"মেয়েটি আর কথা বাড়ালো না। মেয়েটি তাদের অফিসেই ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। আশুতোষ তার কেবিনে চলে গেলো আর মেয়েটি ওয়েটিং রুমে বসে রইলো। হঠাৎ সেদিন আশুতোষের পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ছিলো, মানে কলেজের বন্ধু দের কথা সে বঝু তে পারলো, মেয়েটি আর কেউ নয় তার বন্ধু দেরই একজন । নামটা কিছুতেই তার মনে পড়ছিলো না তাই সে উঠে গিয়ে ইন্টারভিউ লিস্টটা চেক করে আর বঝু তে পারে ও অন্নিশ্রি ব্যানার্জী। নামটা দেখতেই আশুতোষ আনমনা হয়ে পড়ে তার পুরোনো দিনের অনেক কথা মনে পড়তে থাকে...। লিফটেই তাদের প্রথম আলাপ হয়েছিলো কলেজের প্রথম দিনে একবারে বন্ধ লিফট কে প্রায় খুলিয়ে ভেতরে ঢোকে সে। অন্নিশ্রিকে প্রথম দেখেই আশুতোষের মনের মধ্যে একটা আন্দোলন শুরু গিয়েছিল। বন্ধু ত্বটা বেশ ভালোই ছিলো তাদের মধ্যে। কিন্তু সেটা ওই লিফটের ওঠা নামাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।সে কখনও তার মনের কথা তাকে বলে উঠতে পারেনি। তাদের সেদিন প্রায় ৭বছর পর দেখা দেখা হয়েছিলো , অন্নিশ্রির মখু েতেও অনেক বদল ঘটেছে তাই আশুতোষ আজ তাকে চিনতে পারেনি। আমি গিয়ে ওর কাধঁ ে হাত রাখতে ও চমকে উঠছিলো। আমি বললাম \"কি হয়েছে তোর\" ও \"কিছু না\" বলে কেবিনে চলে গেল। তারপর কাজে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎই তার মনে হয়েছিল \"এতদিনের বন্ধু ও, ওকে সকালের ব্যবহারের জন্য একটা সরি অন্তত বলা উচিত\"। তাই তাড়াহুড়ো করে ওয়েটিং রুমে চলে গেলো ও। কিন্তু অন্নিশ্রিকে সে আর দেখতে পেলো না তাই হতাশ মখু ে কেবিনে ফিরে গেলো। কিছুতেই তার কাজে মন বসছিল না এতদিন পর দেখা তাও একটা কথাও ও বলতে পারে নি বলে বড্ডো কষ্ট পাচ্ছিল।অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেলো সে , আর যাকে চাইছিলো সে তার সামনেই ছিলো। বলা যেতে পারে অন্নিশ্রি একটি কর্নারের সিটে আর অপর কর্নারের সিটে আশুতোষ। বাস থেকে নামার সময়তেও কোনো কথা বলতে পারে নি ও। বিষণ্ণ মখু ে বাড়ি ফিরেছিল ও। ১০বছরের চাকরি জীবনে প্রথম বার এতো তাড়াতাড়ি ও বাড়িতে ফিরেছিল তাই ওর মা একটু চিন্তাতেই পরে গিয়েছিল। পড়ের দিন সকাল বেলা ওর মা আরো চমকে গিয়েছিল ছেলের সাজপোশাক দেখে। জিজ্ঞেস করে \"তোর কি কিছু হয়েছে,কাল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলি, আজ আবার এই জামাপ্যান্ট \"আশুতোষ মদৃ ু হেসে বলে\"এমনি \"। আশুতোষের এই বদলে তার মা খুশিই হয় কারণ কলেজের পর থেকে ও কেমন আলাদা হয়ে গিয়েছিল। সেদিন তার প্রফু ল্লতার কারণ ছিল , অন্নিশ্রি আবার অফিসে সেদিন আসবে সেটা সে জানতো।সে ভেবেই রেখেছিল \"আজ ওকে কিছু বলতেই হবে,কিছু না হোক অন্তত একটা সরি \"।যথারীতি সে লিফটে ওঠে আর লিফটে ছিলো অন্নিশ্রিও। লিফট চলতে শুরু করতেই হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেলো এইরকম কখনও হয় নি। লিফট বন্ধ হয়ে গেলো। আশুতোষ ভেবেছিল এটা তার জন্যে ভালোই হয়েছে কারণ অন্নিশ্রির চোখে চোখ রেখে কথা বলার ক্ষমতা তার ছিলো না। আর এই সুযোগে সে বলেই দিল \"সরি\"অন্নিশ্রি তার মোবাইলের টর্চ টা জালিয়ে তার মখু টা দেখছিলো আর বলেছিল \"ও আপনি আমি লক্ষ্যই করিনি। এই আপনি শব্দটা আশুতোষকে যেনো অনেকটা দরু ে সরিয়ে দিয়েছিল।সে বলে \"আপনি কেনো সেই কলেজের মত তু ই বলতে পারলি না\" অন্নিশ্রি বলে\"আসলে আমার মনে হলো অনেকদিন পর দেখা তারওপর আপনি, থডু ়ি তু ই আমাকে চিনতে পেরেছিস কিনা বঝু তে না পেরে আপনি বলেছিলাম \"এখানে যে ভু ল আশুতোষেরই সেটা সে বঝু তে পারে। আবার অন্নিশ্রি বলে \"কিন্তু সরি কেনো?\"। ও বলে\"আসলে কাল তোকে একটু বেশিই বলে ফেলেছিলাম\" । অন্নিশ্রি জোড়ে জোড়ে হেসে বলেছিলো\"ও ঠিক আছে,তোর মনে নেই কলেজের ফার্স্ট দিনে তু ই ঠিক এইভাবেই বকেছিলিস\" আশুতোষ বলে\"তোর এখনও মনে আছে\"। অন্নিশ্রি মদৃ ু হেসে বলেছিলো\"আরও অনেক স্মৃতিই আমার মনের মধ্যে রয়ে গেছে \" তারা দজু নে মোবাইলের আলোয় আনমনা হয়ে নিজেদের দিকে তাকিয়ে থাকে। লিফট এর লাল আলো জলার সাথে তাদের হুশ ফেরে, তারা দজু নের দিকে তাকিয়ে এক রূপকথার দেশে পারি দিয়ে ফেলেছিল খুব কম সময়ের মধ্যেই। লিফটের হটাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া তাদের দজু নের স্বাভাবিক বলে মনে হয় নি। তবে এর জন্য কোনো প্রতিবাদ তাদের মনে জন্মায় নি সেদিন। কারণ, সব আলোর মধ্যে অন্নিশ্রি যেমন আশুতোষকে চিনে উঠতে পারেনি, তেমনি ঘটনা ঘটে বিপরীতেও। তারা এই বন্ধ হওয়া লিফটেই যেন তাদের হারানো দিনগুলোকে খুজঁ ে পাচ্ছিল। আশুতোষ ভেবেছিল \"এবার যদি কথা না শুরু করতে পারি তাহলে কখনও আর সম্ভব হবে না \"। তাই সেই কথা শুরু করেছিলো \"অন্নিশ্রি কতদিন পর সময় আবার আমাদের এক জায়গায় নিয়ে চলে এলো বল!\" অন্নিশ্রি বলে\"তু ই নিজেই বলেছিলি , আর আমাদের কখনও দেখা হবে না। কিন্তু অবশেষে হয়েই


গেলো। তবে সেই শেষ দিনে বইপাড়ায় আড্ডা টা এখনও মিস করি...\"আশুতোষ খানিক বিরহের সুরে বলে\" সত্যিই কারোর সাথে আর কথা নেই, সেই বন্ধু ত্ব নেই, শুধু জীবন অতিবাহিত করার জন্য এই কাজ এখন সঙ্গী, তবে আমার ওই শেষ দিনের কথাটা প্রায় সত্যি কিন্তু!\" অন্নিশ্রি কিছুক্ষন চু প থেকে একটু মদৃ ু হাসি হেসে বলেছিলো\" তা..প্রায় নয়, এটা অদম্য সত্যি হয়ে পড়েছে জীবনে। তোর সাথেও তো প্ল্যান করে দেখা করা নয়,শুধু ইন্টারভিউ দিতে এসে দেখা হয়ে গেলো! \" একটু থেমে ও আবার বলেছিলো\"তা এখন আর পলিটিকস আর কবিতা হয় নাকি \" আশুতোষ বলে \" না রে , সব কিছুর থেকে অনেক দরূ ে চলে এসেছি আমি। আমার কাছে ওটা এখন অন্ধকার যুগ.. আমি শুধু জীবন চালাতে হবে তাই চালাচ্ছি, শুধু চাপ নিয়েই রোজ হেঁটে যাচ্ছি।\"অন্নিশ্রি আশুতোষের দিকে ভু ত দেখার মত তাকিয়েছিলো, তার কাছে এসব কিছু মজা মনে হয়েছিল কারণ কবিতা পাগল, রাজনীতি পাগল একটা ছেলে যে এইভাবে বদলে যেতে পারে এটা সে তাকে না দেখলে জানতে পারত না। সে বলে \" তোর মখু ে এই ধরনের কথা শুনে আমার অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।একটা মানষু এত বদলে যেতে পারে সেটা তোকে না দেখলে বোঝা যেতো না\" আশুতোষ বলে \" কি করবো বল... সময় আমাকে বদলে দিয়েছে। জীবনে অনেকের অভাব আর সবার কথাকে মেনে চলার জন্য আমি আজ এই জায়গায়\" আশুতোষের চোখের কোনায় হালকা জলের ছোযঁ ়া দেখা যাচ্ছিল।অন্নিশ্রি তাকে আর দঃু খ দিতে চায় না তাই অন্য টপিক এ চলে যেতে চাইলো।সে বলে \"তা এতবছরে জীবনে নতু ন কেউ আর এলো না!\" আশুতোষ একটা কটাক্ষের হাসি হেসে উত্তর দিয়েছিলো\"না। যাদের আসার কথা ছিল তারাই যখন এলো না তখন আর অন্য কেউ আসবে কি করে।\" অন্নিশ্রির মনে হলো কথা গুলো যেনো সে তাকেই বলছিলো । তারা কিছুক্ষন চু প করে থাকলো। হটাৎই আশুতোষ রিসেপশনে ফোন করেছিলো,এই লিফট বন্ধের কারণ জানার চেষ্টা করছিলো । কারণ অনেক সময় পার হয়ে গিয়েছিল তাও লিফট স্টার্ট হয়নি, আর এই দিকে দজু নেরই অক্সিজেনের অভাব বোধ হচ্ছিলো। কিন্তু রিসেপশন থেকে কেউ ফোন তোলেনি। আস্তে আস্তে সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল লিফট চলার কোনো আভাসই পাওয়া যাচ্ছিল না। আশুতোষ একরকম বিরক্ত হয়ে পড়েছিল , তবে এতক্ষণ যে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে লিফট বন্ধ থাকতে পারে সেটা আশুতোষের একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় নি। তাই সে মোবাইল টা বের করে কিছু বোঝার চেষ্টা করে এবং তারপর যা দেখে তাতে আশুতোষের হার্ট বিট ১০০ পার করে দিয়েছিল। লিফটের দমবন্ধতায় এবং চিন্তায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলো। অন্নিশ্রি তার হাত থেকে মোবাইল টা কেরে নিয়ে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করে। আসলে সেদিন কলকাতায় যা হয়েছিলো তা শিহরণ জাগানোর মতই ঘটনা। সেদিন তাদের বিল্ডিংয়ে টেরারিস্ট অ্যাটাক হয়েছিলো। তারা বিল্ডিং এ অ্যাটাক করার সাথে সাথেই পুরো বিল্ডিং এর বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিলো। তাই তাদের লিফট বন্ধ। কোনো উপায় না খুজঁ ে পেয়ে কলকাতা পুলিশে ফোন করেছিলো নিজেদের আটকে থাকার কথাটা জানিয়েছিলো কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়\" আমরা ফোর্স পাঠিয়েছি সরকারের সাথে ওদের দাবি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে , তবে পুরোপুরি অন্ধকার হওয়ার আগে আমরা কিছু করতে পারব না\" অন্নিশ্রি ও আশুতোষ আর সহ্য করতে পারছিল না। লিফটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাব তারা অনভু ব করছিলো। লিফটের মধ্যে যে লাল আলো জ্বলছিল তাও নিভে গিয়েছিল। এবার তারা মোবাইলের লাইটটা জ্বালায়। তবে সেটাও ছিলো ক্ষীণ। এই অন্ধকার, অক্সিজেনের অভাব তাদের গ্রাস করছিলো। এইভাবে যে আর বেশিক্ষণ বেচেঁ থাকা সম্ভব নয় সেটা তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।অন্নিশ্রির শরীরও খারাপ হতে শুরু করে দিয়েছিলো। দজু নে আসতে আসতে কথা বলার শক্তি টু কুও হারিয়ে ফেলছিলো এবার আশুতোষ ভেবে নিয়েছিল আর জীবনে যে কটা মিনিট সময় আছে তার মধ্যেই তাকে সব বলে ফেলতে হবে। আশুতোষের কথা বলতে খুবই কষ্ট হচ্ছিলো কিন্তু সে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেনি, সে বলে\" অন্নিশ্রি আমাদের হাতে আর বেশি সময় নেই। তাই যে কথাটাকে আমি চিরদিন মনের মধ্যে বন্দী করে রেখে দিয়েছি আমি সেটা তোকে বলে দিতে চাই।\" অন্নিশ্রি তখন আর কোনো কথা শোনার অবস্থায় নেই সে খালি বলে\"আমি আর পারছি না। মতৃ ্যু আমাদের গ্রাস করতে চলেছে। যদি কিছু বলতে ইচ্ছা করে বলে দে। নাহলে এই কথাটা চিতাকাঠে জ্বলে যাবে কেউ কখনও জানতে পারবে না।\" আশুতোষ একটু কাশে, তার প্রবল শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো সে অন্নিশ্রির হাতটা চেপে ধরে বলার চেষ্টা করেছিলো\"অন্নিশ্রি কলেজে সেই প্রথম দিন তোকে লিফটে দেখার পর থেকেই আমি তোকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম, আজ পর্যন্ত এই কথাটা মনের মধ্যে লকু িয়ে রেখেছিলাম \" বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলছিলো আশুতোষ তার চোখ অন্ধকার হয় আসছিলো শুধু সে শুনতে পেয়েছিল \"ভালোবাসি আমিও তোকে ভালোবাসি।\"তবে অন্নিশ্রি তার কথাটা না শুনেই হয়তো এই কথাটা বলেছিলো কারণ তারা দজু নই তখন প্রায় সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।তারপর আর ক্ষীণ প্রাণশক্তি টু কুও তাদের মধ্যে জীবিত থাকে নি। তাদের একটা বিষয় কোনো আক্ষেপ থাকে না।কারণ তারা জীবনের শেষ মহু ুর্ত টু কু একে অপরের হাতে হাত রেখে কাটাতে পেরেছিলো। মোবাইলের টর্চে র আলোটা তাদের নিশ্বাসের মতই বন্ধ হয়ে যায়। হয়তো অনেক না পাওয়া নিয়েই তাদের চলে যেতে হয়েছিল। বিকেল 5:30 টা বাজতেই পুলিশ এবং আর্মি বিল্ডিংয়ে ঢু কে পরে ততক্ষনে টেরারিস্টদের হাতে মতৃ ্যু হয় চার জনের । প্রায় আধ ঘন্টার গুলির লড়াইয়ে টেরারিস্টদের পরাস্ত করে আর্মি ও পুলিশ। শহরে 144 ধারা জারি হয় খুব তৎপরতার সঙ্গে পুলিশ উদ্ধারকার্য চালায় এবং সবাইকে উদ্ধার করে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর যখন লিফট আবার চলতে শুরু করছিলো,তারপর যখন 15 ফ্লোরে এসে লিফটের দরজাটা খোলে তখন লিফটের ভেতরে নিরপরাধ, নীরব শান্ত ঘুমে স্বপ্নের দেশে পারি দিয়েছিলো তারা। তাদের এই বাস্তব জগৎ আর আটকে রাখতে পারবে না। যে মতপার্থক্য, বিবাদ তাদের দরূ ে রেখেছিল, সেই সবকিছুই আজ অতীত। আর হয়তো কোনোদিন কোনো একটা দামাল ছেলে কলেজ ক্যাম্পাসে ঝান্ডা হাতে দাপিয়ে বেড়াবে না। কোনো প্রেমিক হয়তো আর তার না বলা কথাটা লকু িয়ে রাখতে পারবে না। শুধু বেচেঁ থাকবে একটা নীরব ভালোবাসা যার তাৎপর্য শুধু না বলতে পারা। সেদিন টেরারিস্ট অ্যাটাকে কলকাতায় মতৃ ্যু হয় মোট ৬ জনের প্রত্যেকেরই হয়তো জীবনে অনেককিছু না বলতে পারার আক্ষেপ ছিলো কিন্তু আশুতোষের সেটা ছিল না কারণ তার মনে জমে থাকা সব কথা সে তার আগন্তুককে বলে দিতে পেরেছে। আর দজু নেই আজীবনের মতো এক হয়ে যেতে পেরেছে। এই পৃথিবী, প্রকৃ তি, লোক সবার উর্ধ্বে তখন চলে গেছে তারা।\" হয়তো এ জনমে নহে, হয়তো পর জনমেও নহে, আমরা হয়তো এক হইতে পারিব নাহি, তবওু অমর আমি - তু মি আর আমাদের ভালোবাসা\" শেষবার হয়তো এই ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছিল তাদের মখু থেকে। এভাবেই হয়তো তাদের ভালোবাসার বেচেঁ থাকা আর এই হয়তো তাদের ভালোবাসার শেষ পরিণতি........ \"বিরহেরও অন্তরালে .....\"।।


Like this book? You can publish your book online for free in a few minutes!
Create your own flipbook